২১
অমর একুশ।
একুশ মানে মাথা নত না করা
একুশ মানে সত্য ন্যায় আর স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধ জ্বলন্ত ক্ষোভ
একুশ মানে অধিকার, স্বাধীকার, আদায়ের চেতনা।
প্রতিপক্ষ যত বড়, যত শক্তিশালী আর স্বৈরাচারীই হোক না কেন- আমজনতা জেগে উঠলে যে তাদের পরাজিত হতেই হয় তার বৈশ্বিক উপমা। অনাগত দিনের দাবী আদায়ের প্রেরণা। নিত্য নিজের স্ব-ভিমানকে জাগ্রত রাখার চেতনা।
সেই একুশের মাসেই এক বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল গতকালের ঘটনা।
মত যতই ভিন্ন হোক, একদলীয় আর বাকশালী মানসিকতা না থাকলে নূন্যতম গণতন্ত্রের চেতনা থাকলে ভিন্নমতকে সহনশীলতার সাথেই মোকাবেলা করতে হবে। হয়। সারা বিশ্বেই সকল দেশেই ভিন্নমতের লাখো কোটি বাস্তবতা বিরাজমান। কিন্তু এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা বোধকরি বাংলাদেশেই সম্ভব -
খালেদার গাড়িবহরে পুলিশের হামলা ও লাঠিচার্জ : আহত ৫০
পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই শহীদ মিনারের পথে খালেদা জিয়ার গাড়ি
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাবার পথে ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী, বেগম খালেদা জিয়া কি নূন্যতম কার্টিসি পাবার অধিকার রাখেন না? দুর্জনের কাছে সুশীলতা আশা বাতুলতা- তা বাদই রইলো- কিন্তু বাধা দেবার মতো বর্বরতা কেন?
৫২র একুশের চেতনার বিপরীত এই বর্বরতা মনে করিয়ে দেয় পাক স্বৈরাচারের আচরণের কথা। বঙ্গবন্ধু সহ বিরোধী ভিন্নমত দলনে তারা যেমন পোড়া মাটি নীতিতে চলত- আজ স্বাধীন দেশেও একই পাকী চেতনার ভুত যেন দেশীয় প্রশাসনের কাঁধে চড়ে উল্লাস করছে।
তারচেও দু:খজনক মিডিয়া গুলোর বিয়ষটিকে ইগনোর করে যাবার মানসিকতা। গুটিকয় ছাড়া বেশীর ভাগই যেন খবরটা এড়িয়ে গেছে। কেউ কেউ দিয়েছে আংশিক সত্য। কেউ যেন কিছূই হয়নি টাইপ। একটু বসে থাকতে হয়েছে এই তো...এই মানসিকতায়।
অথচ ৫২, ৬৯,৭১'র সেই পরম বৈরী সময়েও সত্য বলতে সাহসীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। আজ স্বাধীন দেশে মিডিয়া কোলাবরেটর যেন আনলিমিটেড। স্বৈরাচারিতার। অনির্বাচিত প্রহসনের সাথে হাত মিলানো আতাত কেবলই কি অর্থের লোভে? সম্পদ হারানোর ঝুঁকিতে? জীবনের মায়ায়?
আহা! ভাগ্যিস আমাদের ৩০ লাখ শহীদ ২ লাখ মা-বোন এমন সুশীল, সুবিধাবদীতার চেতনার সন্ধান পায়নি! পেলে বোধ করি ৯ মাস না ৯০ বছরেও দেশ স্বাধীন হতোনা।
বিএনপি জামাতের সাথে জোট করে পাপ করেছে। সেই একই পাপে পাপী কি আওয়ামীলীগ নয়?
তবে কেন এত মিথ্যাচার। কেন কেবলই চাপাবাজি! কেউ কেউ বোকা হলেও সকলেইতো বোকা নয়। এটা বুঝতে হবে। যা খুশি তাই বলে প্রশাসন আর ক্ষমতায় কিছূদিন টিকা গেলেও চিরদিন টেকা যায় না। আর ইতিহাসও কিন্তু কেবল বর্তমানের ভয়েই লিপিবদ্ধ হয় না। মহাকালে সত্য স্বত:প্রকাশিত! সেখানে যে যেই স্থানে তাকে সেই স্থানই দেয়া হয়।
তাই একুশের মাসে এটাই প্রত্যাশা গণতন্ত্রের পূর্ন বিকাশ হোক। যে গণতন্ত্রের জন্ম -অধিকার আদায়ের সূতাকাগার ৫২,র ২১; সেই একুশের মাসে একুশের রাতের বর্বর ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই একজন গণতন্ত্রমনা সাধারন নাগরিক হিসাবেই।
সবাইকে একুশের শুভেচ্ছা। একুশের প্রকৃত চেতনায় জেগে উঠুক সকল মন। সত্য, ন্যায় আর অবিচার অন্যায়ের প্রতিবাদে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



