
বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;
অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যর্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!
তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায় স্বাধীনতা!
ইতিহাস বলে- যত লোক ছিল ময়দানে
স্রেফ ওই,ধর! বলে হেটেগেলে
পিষে যেত শত্রুরা সেখানেই সেইসে ক্ষন!
হায়! নিয়তি
দেশপ্রেমিকের জীবন, উনিশেও যায় বৃথা
সাতান্নর সেইই অক্ষমতায় আজো কোটি প্রাণ!!
এলিয়েন! কোন
মুক্তি দেবতার আশে?
স্বপ্ন বাসা বাঁধে প্রতিরাত প্রতিদিন ;
নিজের ভেতর
আয়নাতে ধুল জমে, ভয়ের মাকড়সা জাল-
ফু’তে উড়ে যায়, দেয়না ফু’ কেউ কোনদিন!
শিখরের পরে
উপরে ওঠার নেই বলেই পতন হয়
অহংকারেই ডোবে স্বৈরাচার আত্মঘাতে;
প্রকৃতির কাছে
আমজনতা হাত পেতে অসহায়
সাতান্ন থেকে উনিশ –মুক্তির কন্টকিত পথে।।
[ফুটেনোট]
আজ ২৩ জুন। পলাশি দিবস।
বাঙালি মাত্রেরই দিবসটির মনে রাখা দরকার ছিল। কিন্তু বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব নাটক-সিনেমায় যতটা অশ্রু আকর্ষণ করেন, বাস্তবে ততটাই উপেক্ষিত তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি। তাঁর পরিণতি আর বাংলা অঞ্চলের কোটি মানুষের পরিণতি একাকার হয়ে গিয়েছিল। পলাশীর পরাজয়ে ভারতবর্ষে ইংরেজদের বর্বরোচিত ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরাজয়ইবা বলি কী করে, সেদিন তো কোনো যুদ্ধই হয়নি। যা হয়েছে, তা ছিল ইংরেজ কোম্পানির শঠতা আর দেশীয় অভিজাততন্ত্রের বিশ্বাসঘাতকতা। সিরাজের জন্ম বাংলায়, তিনি যে শাসন-সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করেন, সেটাই বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে ইতিহাসে প্রথম মর্যাদা দেয়। সেন আমলের কুলীন প্রথা, ব্রাহ্মণ্যবাদ ও নির্দয় সামন্তবাদে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। বৌদ্ধরা হয়েছিল হত্যা-নির্যাতন ও দেশান্তরের শিকার। এরই সুযোগ নেয় তুর্কি ভাগ্যসন্ধানী আগ্রাসী সেনাপতি বখতিয়ার খলজি। যদিও সেনেরাও বাঙালি ছিল না, তারা ছিল কানাড়ি। এহেন সেন আমলে দরবারি ধর্ম ও সাহিত্যচর্চায় বাংলা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। রামায়ণ–মহাভারতের বাংলায় অনুবাদ ও স্বীকৃতি, চৈতন্যদেবের উদ্ভবের পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়াও মঙ্গলকাব্যের বিকাশ, বাংলায় দলিলপত্র লেখার সূচনা, গ্রামগঞ্জে বাংলায় পুঁথি-পাঁচালির বিস্তার সুলতানি আমলেরই ঘটনা।
সুলতানি আমলে হিন্দু-মুসলিমের মিশ্র শাসন কায়েম হয়। সুলতান বেশির ভাগ সময়ই হন একজন মুসলমান, কিন্তু অভিজাতেরা, আমলারা, জমিদারেরা বেশির ভাগই ছিলেন হিন্দু। সুলতানি আমলে যে বাংলা, বাঙালি ও স্বাধীনতার ধারণা জোরদার হয়, তারই ধারাবাহিকতায় আসে আলিবর্দী খাঁ ও সিরাজউদ্দৌলার ট্র্যাজিক জুটি। সুতরাং যাঁরা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার চেতনাকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে বাংলার স্বাধীন সুলতান ও নবাবেরা বাঙালিত্বের বনিয়াদ নির্মাতা হিসেবেই স্বীকৃত হবেন। (সংশোধীত)
সুত্র: প্রথম আলো
ছবি কৃতজ্ঞথা গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



