somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মসজিদের সেকাল একাল: করোনা ইফেক্ট ও সামাজিক দায়পূরণ

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মসজিদের শহর বলা হয় ঢাকাকে।
পৃথিবীতে মসজিদের দিক থেকে বাংলাদেশ হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। জনস্যংখ্যানুপাতে মুসলিম আধিক্যে মসজিদের পরিমান চোখে পড়ার মতো। যদিও বর্তমানে মসজিদগুলো কেবলই উপাসনার জন্য সাময়িক সময় ব্যবহৃত হয়। বাকী পুরো সময়টা আইডল পড়ে থাকে।

অথচ এক সময় এমন ছিল না। ইসলামের ইতিহাস বলে, রাসূল সা: এর সময় থেকেই মসজিদ ছিল সকলকাজের প্রাণ কেন্দ্র। ভরসার স্থান। নিরাপত্তার স্থান। ইচ্ছা পূরনের স্থান। একজন বিধর্মী্ও নিশ্চিন্তে মসজিদে নবুবীতে আসতে পারতেন এবং মহানবীর সাক্ষাত পেতেন। তার সমস্যা জানালে সে অনুপাতে মানবিক সাহায্য, খাদ্য সাহায্য, আইনি সাহায্য সহ সবকিছু পেতেন। মুসলমানদের বাইতুল মালের কেন্দ্র ছিল মসজিদ। সুষম খাদ্য বন্টন থেকে শুরু করে সকল সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত হতো মসজিদ থেকে। তখন মসজিদ শুধু মুসলমানের ‘উপাসনালয়’ নয়, বরং তা ছিল ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। ইসলামের সোনালি যুগে মসজিদ থেকেই পরিচালিত হতো ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ।

মসজিদে নববী মুহাম্মদ সা: কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। মুহাম্মদ সা: এর বাসগৃহের পাশে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। সেসময় মসজিদ সম্মিলনস্থল, আদালত ও মাদ্রাসা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। হিজরতের পর মুহাম্মদ সা: এই মসজিদ নির্মাণ করেন।এই স্থানটি দুইজন বালকের মালিকানায় ছিল। তারা মসজিদের জন্য জায়গাটি বিনামূল্যে উপহার হিসেবে দিতে চাইলেও মুহাম্মদ সা: জায়গাটি কিনে নেন। এরপর এখানে মসজিদ নির্মিত হয়। খেজুর গাছের খুটি দিয়ে ছাদের কাঠামো ধরে রাখা হয়। ছাদে খেজুর পাতা ও কাদার আস্তরণ দেয়া হয়। এর উচ্চতা ছিল ৩.৬০ মিটার (১১.৮ ফু). এর তিনটি দরজা ছিল দক্ষিণে বাব-আল-রহমত, পশ্চিমদিকে বাব-আল-জিবরিল এবং পূর্বদিকে বাব-আল-নিসা বা নারীদের প্রবেশ দরজা।


(দা মেসেজ ছবি থেকে স্ক্রীট শট)
মসজিদকে ঘিরেই মুসলমানদের কর্মকান্ড পরিচালিত হতে থাকে। হযরত মুহাম্মাদ সঃ কে অনুসরন করে পরবতীর্তে বিজয়ী মুসলমানরা যেখানেই ইসলামের পতাকা উড্ডিন করেছিলেন সেখানে প্রথমেই একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ ছিল নও মুসলিমদের আশ্রয়স্থল। মোসাফিরদের বিশ্রামাগার । জানমালের হিফাযতখানা। রক্তপাতমুক্ত নো ম্যান’স ল্যান্ড। এ পৃথিবীতে মসজিদের চেয়ে শান্তিময় ও পবিত্রস্থাণ আর কোথাও নেই।



বাংলাদেশ অলি আল্লাহর দেশ। আল্লাহর অলিরা ইবাদতখানা ও সমাজপরিচালনার স্বার্থে এদেশে অসংখ্য মসজিদ তৈরী করেছেন। সেগুলোর মধ্যে খুলনা-বাগের হাটের ষাট গুম্ভুজ মসজিদটি অন্যতম । বিখ্যাত অলিয়ে কামেল উলুঘ খান জাহান আলি রঃ এটি ১৫শতাব্দীতে নির্মাণ করেন। যা এখন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। মসজিদ যে এক সময় সামজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তার অন্যতম প্রমান এ মসজিদ। সুফী সাধক খাজা খান জাহান আলি রঃ সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন এই মসজিদ থেকে ।


মসজিদকে কেন্দ্র করে ঐ অঞ্চলে সুপেয় পানির অভাব দূরিকরণে বিশাল দিঘি খনন করেন। যার সুপেয় জলে ঐ এলাকার মানুষের পানির সমস্যার সমাধান হয়েছিল। তার ইবাদতখানা , বিচারালয়, জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হতো এ মসজিদ হতে। তখন পথিক ও মুসাফিরের সরাইখানা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো মসজিদ। মুসলিম শাসন আমলে কাজির আদালত হিসেবেও মসজিদ ব্যবহার হতো বলে জানা যায়। অনেক সামজিকতা ও নিকাহ-বিবাহও মসজিদে অনুষ্ঠিত হতো।



প্রাথমিক যুগের মসজিদগুলো অত্যন্ত সাদামাঠা ছিল। মহানবি সঃ এর হাতে গড়া ইসলামের প্রথম মসজিদটি খেজুরগাছ ও খেজুর গাছের পাতার ছাউনিতে গড়া হয়েছিল। বর্তমানে অনেক মসজিদ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। এভাবে যুগের চাহিদার প্রেক্ষাপটে প্রায় মসজিদগুলোই অত্যন্ত চমকপ্রদ করে আধুনিকতার স্পর্শে নান্দিক দৃষ্টিতে বহুতল বিশিষ্ট করে তৈরি হচ্ছে।


এসি সম্বলিত টাইলস্ ও মার্বেল পাথর দ্বারা তৈরী মসজিদে আকর্ষণীয় ঝর্ণাধারা , নানা বর্ণের আলোর ঝলকানিতে মসজিদগুলো এখন মানুষের চিত্তাকর্ষণের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। দামী থাই গ্লাস এ নির্মিত জানালা -দরোজা, কলাপসিবল গেট, পাঁচ- দশজন পাহারাদার সর্বোপরি সিসি ক্যামেরা দ্বারা মসজিদগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরদারীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই এখন কোন কোন মসজিদে প্রবেশ করতে একজন সাধারণ মুসল্লিকে হিমশিম খেতে হয়। এ সবই করা হচ্ছে মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি তথা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে। যার প্রযোজনীয়তার কথা অস্বীকার করা যায় না।



কিন্তু মসজিদের মূল যে স্পিরিট তা কতখানি কার্যকরি হচ্ছে ? মসজিদে প্রাণ যে কর্মকান্ডে তা কতটা পরিচালিত হচ্ছে মসজিদুগলো থেকে?
না থাকার শুন্যতা নিয়ে কবি আল্লামা ইকবাল লিখেছেন ,
‘‘রছম রয়েছে আজানের বটে আজানের রুহ বেলাল নাই
ফালসুফা আছে প্রাণহীন পড়ে আল গাজালিরে কোথায় পাই ।’’
অর্থাৎ হযরত বেলাল রাঃ এর মত একজন জৌলুসহীন ব্যক্তি যার চেহারায় কোন লাবণ্য ছিল না, মুখের উচ্চারণও স্বাভাবিক ছিল না কিন্তু তিনি যে আবেগ নিয়ে আযান পরিবেশন করতেন তাঁর তুলনা শুধু তিনি নিজে । ঠিক তদ্রুপ আজ মসজিদের চাকচিক্য বেড়েছে কিন্তু হযরত আলি রাঃ এর ন্যায় মুসল্লির অভাব । চাটাই পাতার মসজিদে নামায আদায় করে যে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যেত এখন মার্বেল পাথরের মসজিদে সেই তৃপ্তি হয়ত পাওয়া যায় না।
আবার সেই হাদীস্ও পণিধান যোগ্য - যেখানে বলা হয়েছে একসময় মসজিদ হবে জৌলুস পূর্ন কিন্তু তাতে ঈমান থাকবে না। আমরা কি তবে সেই সময় পার করছি?

সবসময়ের নির্ভরতার স্থান মসজিদ এখন আর আগের মত সাধারণ মুসল্লিদের জন্য উম্মুক্ত থাকে না । ফরয নামাযের পর পরই খাদেমগণ মসজিদের ফ্যান বাতি বা এসি বন্ধ করে দিয়ে থাকেন। ফলে একজন মুসল্লি বেশ তাড়ার মধ্যে থেকেই তার সালাত শেষ করে থাকেন। এ ব্যাপারটি বিশেষ করে তাদেরই ঘটে যারা জামাতের দু’ এক রাকাত মিস করেন।
আর মসজিদে বসে তাসবিহ তাহলিল করা তো দূরের ব্যাপার। অনেকে বলবেন, মসজিদ তো আর নফল নামাযের স্থান নয় ; শুধু ফরয নামাজের স্থান। কিন্তু কথাটি সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তো নয়ই। আমাদের দেশের অধিকাংশ বাসা বাড়িতে তেমন নির্জন পরিবেশ নেই যেখানে বসে একজন ব্যক্তি নফল নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত করতে পারেন। তাই অনেক সময় তারা মসজিদ দীর্ঘক্ষণ থেকে সালাত আদায় করেন বা তাসবিহ তাহলিল করে থাকেন । অনেক বৃদ্ধ মুসল্লি আবার আছর নামায শেষে মাগরিব ও এশা আদায় করে মসজিদ থেকে বাসা বাড়িতে যেতে চান । কিন্তু আধুনিক মসজিদ বিশেষ করে শহরের মসজিদে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না। কারণ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মসজিদগুলোর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও কিছু কিছু মসজিদে বারান্ধায় মুসল্লিদের জন্য স্বল্প পরিসরে ব্যাবস্থাপনা থাকে।

অথচ ইতিহাস বলে আগের মসজিদগুলোতে সাধারণ মুসল্লি বা পথিকদের জন্যও সার্বক্ষণিক অজুখানা, ইস্তেনজাখানা ও টয়লেট খোলা রাখা হতো। পথিকগণ নামাজের সময় ছাড়াও তাদের প্রাকৃতিক কাজ সেরে পরিচ্ছন্নতা লাভ করতে পারতেন।যা সামাজিক সেবা হিসেবেই চালু রাখা হতো। আবার অনেক সময় কোন পথিক বিপদে পড়ে অনুমতি সাপেক্ষে মসজিদে রাতযাপন করতেন। কেউ তাদের বাধা দিত না। দেখা যেত পাশের বাড়ি হতে পথিক মুসল্লির জন্য খাবার আসত বা মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমগন তাকে নিজেদের খাবারে অংশি করে নিতেন। এখন তেমনটি আর কল্পনা করা যায় না । বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় সামাজিকতা হতে মসজিদগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।


মসজিদে নবুবীতে বাব আননিসা (নারীদের প্রবেশ পথ)

আর নারীদের জন্য তো দেশীয় কিছু মসজিদ বাদে অধিকাংশেই কোন সুযোগ সুবিধাই নেই। তাদের সমস্যা প্রকট। নারী মুসল্লিরা নানা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন। তারা অফিস আদালতে চাকরি করেন। চিকিৎসা বিনোদন বাজারসহ নানা কাজে একজন নারীকে এখন অহরহ ঘর হতে বের হতে হয় । কিন্তু অধিকাংশ মসজিদে নারীদের নামাযের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ওয়াক্তিয়া নামাযগুলো কাযা হয়ে যায়। আবার রাস্তাঘাটে চলার পথে তারা প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে পারেন না। ফলে মা বোনেরা অমানসিক কষ্টভোগ করে থাকেন। আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো এতবেশী সংরক্ষিত হয়ে পড়েছে যে মানবিকতা পদে পদে বিঘ্নিত হচ্ছে।

তাই সত্যানুভবের জন্য সত্য জ্ঞানের জন্য আমাদের জানতে হবে মসজিদের প্রকৃত ভূমিকা কি? মহানবী সা: এর সময়ে মসজিদে নবুবীতে কি কি কার্যক্রম চলতো।
সংক্ষেপে মসজিদে নববীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমসমূহ -

১. জামায়াতে সালাত আদায়: নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সলাত জামায়াত সহকারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী পুরুষ সবাই অংশ গ্রহণ করত।

২. দ্বীনের কাজে সার্বক্ষনিক সময়দানকারী সাহাবাদের বাসস্থল : ইহা ছিল মসজিদের উত্তর কোণে। তাদেরকে বলা হত আসহাবে সুফফা। সার্বক্ষনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আসহাবে সুফফার ভূমিকা ছিল মুখ্য।

৩. রসূলের স: ইসলামী আন্দোলনের অফিস : রসূল স: অহী প্রাপ্তির পর আল্লাহ তা’য়ালার দেয়া
বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য হিজরতের পর থেকে সার্বক্ষণিক অফিস হিসেবে মসজিদে নববীকে ব্যবহার করেছেন।
পরামর্শ, সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন, কাফেলা প্রেরণ, গ্রুপ বন্টন এক কথাই সাংগঠনিক যাবতীয় কর্মকান্ড মসজিদে নববী কেন্দ্রীক পরিচালিত হতো। অথচ আমাদের সমাজে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে “মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা হারাম।”

৪. মুসলিম উম্মাহর সভাকক্ষ ও পরামর্শ সভা: রসূলুল্লাহ স: মসজিদে নববীকে ‘দারে নাদওয়া’ বা শলা-পরামর্শের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি মুসলমানদের সাথে মসজিদে দীন ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে এবং বিশেষ করে যুদ্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরামর্শ করতেন।
রসূলুল্লাহ স: মসজিদে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতেন। প্রতিনিধিরা মসজিদের পার্শ্বে সওয়ারী বেঁধে মসজিদের খোলা অংশে রসূলুল্লাহ স: এর সাথে সাক্ষাত করতেন।

৫. ইসলামে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়: মসজিদে নববী ছিল ইসলামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। সাহাবায়ে কেরামগন ছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ্য ছাত্র। তাঁরা মসজিদ থেকেই ইলম, হেদায়াত, ফযীলত ও শিষ্টাচার অর্জন করেছেন।
রাসূলুল্লাহ স: বলেছেন- “যে আমাদের এ মসজিদে কিছু ভাল জিনিস শিখতে কিংবা শিখাতে আসে, সে যেন আল্লাহর পথের মোজাহিদ। আর যে এটা ব্যতীত মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন এমন জিনিসের দর্শক যা তার জন্য নেই।” রাসূলুল্লাহ স: জোর দিয়ে বলেছেন : “ব্যক্তি যে সময় পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করে সে সময় পর্যন্ত আলেম বা জ্ঞানী থাকে। যখন সে ধারণা করে যে, শিখে ফেলেছে, তখনই সে অজ্ঞ-মুর্খের কাতারে নাম লেখায়।”

৬. আদর্শ ইসলামী পাঠাগার : মসজিদে নববী পাঠাগার হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে। বই-পুস্তকসমূহ
মসজিদে রেখে পাঠকদের চাহিদা পূরণ করা হত। সাধারণত ধনী ও জ্ঞানী-গুণী লোকেরা মসজিদে কিতাব-পত্র ও বই-পুস্তক দান করতেন। পরবর্তীতে দেখা গেছে খতীব বাগদাদী নিজ কিতাবসমূহ মসজিদে ওয়াকফ করে গেছেন এবং মৃত্যুর আগে তা নিজ বন্ধু আবুল ফদ্বল বিন খাইরুনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

৭. সমাজসেবা ও আশ্রয়কেন্দ্র : মসজিদ মুসলমানের জীবনে বিপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায়
আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিপদগ্রস্থ লোকেরা দলে দলে কিংবা একাকী মসজিদে দৌড়ে আসে ও আশ্রয় নেয়। সেই কঠিন মুহূর্তে মুসলিম দায়িত্বশীলরা সেখানে একত্রিত হয়ে দুর্যোগের মোকাবিলার উপায় বের করেন।

মসজিদের সামাজিক ভূমিকা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে ইবনে জোবায়ের এবং ইবনে বতুতার মত বিশ্ব পর্যটকের মন্তব্য ও বক্তব্য থেকে। তাঁরা যখনই কোন নতুন দেশে গিয়েছেন, যেখানে কোন পরিচিত লোকজন নেই, সেখানেই তাঁরা প্রথমে মসজিদে হাযির হয়েছেন। মসজিদে স্থানীয় কিংবা প্রবাসী লোকজনের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তাদের থাকা-খাওয়ার আর কোন সমস্যা হয়নি। স্থানীয় লোকেরা পর্যটক আলেমের সন্ধান পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং কোন কোন সময় তাদের যোগ্যতা ও মর্যাদা মোতাবেক উপযুক্ত কাজে যোগদানেরও আহ্বান জানান।

৮. আদালত (কোর্ট): মসজিদ আদালতের ভুমিকা পালন করে। মসজিদের বিছানা ও খুটির মাঝ থেকে
বিচারকের এমন ইনসাফপূর্ণ রায় ঘোষিত হয়েছে যা গোটা মানবতার বিচারের ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লেখা আছে। মসজিদে বসেই বিচারক উটের রাখালের পক্ষে ও আব্বাসী খলীফা মানসুরের বিরুদ্ধে ইনসাফপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক খলীফার বিরুদ্ধে দরিদ্র-অসহায়-দিনমজুরের পক্ষে রায় ঘোষণা করতে কোন পরোয়া করেননি।

৯. সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্র: মসজিদে বর্ণিত দীনী জ্ঞান চর্চাই সব কিছু ছিল না। বরং তা ছিল
সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চারও উপযুক্ত ময়দান। তাতে যুদ্ধের বিজয় গাঁথাও গাওয়া হত। হযরত হাস্সান বিন সাবিত মসজিদে নববীতে কবিতা আবৃত্তি করতেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ স: তাঁকে নিষেধ করেননি। যে গান বা কবিতায় আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রশংসা কিংবা ইসলামের প্রতিরক্ষার বিষয়বস্তু থাকবে, তা অবশ্যই উত্তম জিনিস। তাই রসূলুল্লাহ স: তাঁকে বারণ করেননি।

একদিন হযরত হাস্সান রা: কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। হযরত ওমর রা: মসজিদে তাঁর দিকে নজর দেন। তখন হাস্সান বলেন, ‘আমি এই মসজিদে আপনার চাইতে উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতে কবিতা আবৃত্তি করেছি। তখন ওমর রা: চলে যান এবং বুঝতে পারেন যে, হাস্সান রসূলুল্লাহর স: প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। একদিন কা’ব বিন যোহাইর মসজিদে নববীতে রসূলুল্লাহ স: সহ সাহাবায়ে কেরামের সামনে ফজর বাদ ‘বানাত্ সোআদ’ নামক প্রখ্যাত আরবী কবিতাটি পাঠ করেন। অথচ, ইতিপূর্বে রসূলুল্লাহ স: তার বিরুদ্ধে মৃত্যু দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেছিলেন। তারপর নবী স: তার ওপর থেকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করেন এবং মৃত্যুদন্ডের বিনিময়ে ১শ উট দানের নির্দেশ দেন।

১০. হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসালয় : মসজিদ হাসপাতাল হিসেবেও সেবা দান করে। ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত যুদ্ধসমূহে মসজিদের একাংশকে যুদ্ধাহত মোজাহেদীনের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হত। এর উত্তম উদাহরণ হল; আহযাব যুদ্ধে আওস বংশের নেতা আহত সা’দ বিন মোআ’যকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রসূলূল্লাহ স: মসজিদে একটি তাবু কায়েমের নির্দেশ দেন। (বুখারী-১ম খন্ড) সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। আনসারী মহিলা সাহাবী রাফিদাহ রা: ঐ তাঁবুতে যুদ্ধাহত মুসলিম সেনাদের চিকিৎসা-সেবা আঞ্জাম দেন। সম্ভবত আহযাব যুদ্ধের বেশ আগেই তাঁবুটি মসজিদে নির্মিত হয়েছিল।

১১. অর্থভান্ডার ও বিতরণ কেন্দ্র : মসজিদে নববীতে য্দ্ধুলব্ধ মালে গনীমত এবং সাদকাহ ও যাকাতের মাল আসত। রসূলুল্লাহ স: সেগুলো অভাবী লোকদের মধ্যে বিলি করতেন এবং এতে যাদের অধিকার আছে, তাদেরকে তা দিতেন। তিনি ছিলেন সর্বাধিক দাতা। প্রতি রমযান মাসে জিবরীলের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি মুক্ত বাতাসের মত উন্মুক্ত দান শুরু করতেন। তিনি নিজের ভোগের অংশ যে কোন অভাবী লোককে চাওয়া মাত্র দিয়ে দিতেন। এ দৃষ্টিতে মসজিদে নববী ছিল অর্থভান্ডার ও বিতরণকেন্দ্র। পরবর্তীতেও প্রত্যেকটি মসজিদের ছিল নিজস্ব তহবিল। সেই তহবিল থেকে দান ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হত।

রসূলুল্লাহ স: যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি কায়েম করেন। এর ফলে, মসজিদে যাকাতের মাল-সম্পদ জমা হত। মসজিদ থেকেই যাকাতের অর্থ গরীব লোকদের মাঝে বন্টন করা হত। এ যাকাত পদ্ধতির কারণেই মুসলিম সমাজের অভাবী ও সর্বহারা লোকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় এবং খলীফা ওমর বিন আবদুল আযীযের আমলে যাকাতের সংগৃহীত অর্থ বন্টনের জন্য কোন গরীব মুসলমান-অমুসলমান কাউকেই পাওয়া যায়নি। আল্লাহ ইসলামী অর্থনীতির বরকতে সমাজ থেকে দারিদ্র দূর করে দিয়েছেন।
আজও মসজিদের এ ধরনের তহবিল থাকলে অভাব ও দারিদ্র দূর করে বহু সামাজিক সেবা আঞ্জাম দেয়া সম্ভব।

১২. প্রশিক্ষন কেন্দ্র: মূলত ‘মসজিদ একটি প্রশিক্ষণ শিবির। কিসের প্রশিক্ষন? নিয়ম-নীতি ও শৃংখলার প্রশিক্ষণ শিবির। সময়ের নিয়মানুবর্তিতা ও এর মূল্য বুঝা এবং ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করার জন্য আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সলাত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। নির্ধারিত সলাত সমূহের জন্য মসজিদে জামায়াতের সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সে সময় অনুযায়ী দিনে পাঁচ বার মসজিদে হাযির হতে হয়।
এরপর রয়েছে, সোজা ও সমানভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো। কাতার সোজ না হলে গুনাহ হয় এবং নামায অসম্পূর্ণ থাকে।

১৩. দৈনন্দিন তালিম ও সাপ্তাহিক খুতবাহ: প্রত্যহ ফজর ও আছরের সলাতের পর মহানবী সঃ উপস্থিত মুসল্লীদেরকে দ্বীনি তালিম ব্যবহারিক শিক্ষাসহ নানামুখি হেদায়েত দিতেন এবং আর্থ-সামাজিক সার্বিক বিষয়ের উপর সাপ্তাহিক জুময়ার খুতবাহতে মুসল্লিদেরকে সচেতন করে তুলতেন। পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদাসহ সাহাবায়ে কেরাম রা: এবং খলীফা ও মুসলিম উম্মাহর খতীবগণ একই পদ্ধতিতে মসজিদে মসজিদে এ তা’লিম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু রাখেন।

আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামের সোনালী যুগে মসজিদ সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন অদূরদর্শী স্বার্থান্ধ এবং গোত্রীয় আধিপত্যের প্রভাবে এবং জনসম্পৃক্ততাহীন, নীতিহীন শাসক, রাজ-রাজরাদের অনৈতিক কাজের সুবিধার্থে তারা প্রশাসনকে নিজেদের এখতিয়ারে নিতে প্রশাসনিক এবং সামাজিক নীতি নির্ধারনী কাজ গুলোকে পৃথক করে নিজস্ব গন্ডিতে আটকে ফেলে। যে প্রশাসনিক ভবনে, প্রাসাদে, রাজমহলে আমজনতার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত হয়ে পড়ে। জবাবদিহীতার বদলে রক্তচক্ষু এবং তাদের পোষা বাহিনীর তান্ডবে সাধারন মানুষ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তারা ধর্মীয় আবহের দোহাই দিয়ে মসজিদকে কেবলই উপাসনালয়ে পরিণত করে। যার ক্রমধারাবাহিকতায় আমরা সেটাকেই নিয়ম বলে মেনে আসছি ।

বৈশ্বিক বিবর্তনে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তিত ধারায় যেহেতু এখন রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিচালিত হয় তাই মসজিদ এখন আর প্রশাসনিক সেই দায়গুলো বহন করতে পারে না। কিন্তু সামাজিক এবং মানবিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কিন্তু সেই বাঁধা নেই। আর আল্লাহ নিজেও সেই সামাজিক দায় হক্কুল এবাদের মাধ্যমে মানুষের জন্য অব্যশ করণীয় বলেই নির্ধারিত করেছেন।

কিন্তু রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোর বাইরে যে সামাজিক কল্যান কাজে আগে মসজিদের অংশগ্রহন ছিল উল্লেখ্যযোগ্য রকম প্রভাববিস্তারী, ব্যাপক; সেই কাজগুলো্ও কিন্তু আমরা করছি না। সামাজিক সেবা এবং সামাজিক দায় পূরন যে ধর্মেরই অংশ হক্কুল এবাদের অংশ সেই অনুভব্ও হারিয়ে ফেলেছি। ব্যাক্তি কেন্দ্রীকতার চাপে সামষ্টিকতার শিক্ষা ভুলতে বসেছি।
যেমন শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরন মসজিদ গুলো যদি কার্যকর ভূমিকা রাখে অচিন্তনীয় পরিমানে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা যাবে। যা দরিদ্রদের মাঝে সহজেই বিতরণ করা যায়। বন্যা বা এমনি বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগ রয়েছে যে সবে মসজিদে দারুন ভাবে এক্টিভ ভুমিকা পালন করতে পারে। আর সব সময়ের জন্য সামাজিক সেবার কাজতো রয়েছেই।

যেমনি পারে আজকের মহামারী রুপী করোনা প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহনের এক দারুন মাধ্যম হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে। প্রতিটি মসজিদে ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা করে পিপিই কিট সহ তাদের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, ঘরে ঘরে সেনিটাইজার বিতরন, সাবান বিতরন, দুরিদ্র পরিবারে খাদ্য বিতরন ইত্যাদি খুব সহজেই করা যায়। আবার করোনা সহযোগীতা তহবিলও গঠন করে তাতে সাধারন মানুষের দান সংগ্রহ করতে পারে। যা পরিমানে খুব কম হবার কথা নয়। আর ইমাম সাহেবরা যদি বিষয়টার গুরুত্ব সহকারে বয়ান করেন, সেই দান আশাকরি অনেক মানুষের কল্যানেই কাজে আসবে। একই সাথে যেমন মসজিদ আবাদ থাকলো -তেমনি আবারো মানুষের ভরসা ও নির্ভরতার স্থান হয়ে উঠলো।
আবার সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায়্ মসজিদ ফিরে আসুক তার মূল ভূমিকায়। মানুষের সেবা ও দয়ার কেন্দ্র হিসেবে। আল্লাহ প্রেমিক আশেক, অলি, মুমিন, মুসলমানদের এবং সকল ধর্মের মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠূক পবত্রি মসজিদ গুলো। আর স্বাভাবিক সময়ে আমরাও যেন আবার বলতে পারি যেমন জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন:
“কত দরবেশ ফকির রে ভাই মসজিদের আঙ্গিনাতে,
আল্লাহ নাম জিকর করে লুকিয়ে গভীর রাতে।”


তথ্য কৃতজ্ঞতা :
ড. খলিলুর রহমান মাদানী
অনলাইন পত্রিকা
গুগল

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:১৯
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×