চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইউ. কে. তে একটা ইন্টারেস্টিং আইন পাশ হয়েছে! এই আইন মোতাবেক দুইজন মা আর একজন বাবা থেকে একটি সন্তান জন্ম দেওয়া পুরোপুরি বৈধ! ব্যাপারটা ক্যামন উদ্ভট না? ইউ. কে.র মত দেশের বাঘা রাজনিতিকরা কেন এমনটি করলেন? ব্যাপারটা আসলে একটু জটিল। দেখা যাক কেন তারা এই আইনটি পাশ করলেন।
নরমালি, একটা বেবির জেনেটিক মেকআপের অর্ধেক আসে বাবা আর অর্ধেক আসে মায়ের কাছ থেকে। আর এই জেনেটিক ইনফরমেশনটা থাকে কোষের ভেতরে নিউক্লিয়াস নামের একটা প্রকোষ্ঠে (অরগানেল)। বেবির দেহের প্রত্যেকটা কোষে একই জেনেটিক মেটেরিয়াল থাকে। আর একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হইল যে কোষগুলোর ভেতরে, আরও অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ থাকে, তাদের একটা একটার নাম মাইটোকন্ড্রিয়া, যেটার মধ্যে, খুব সামান্য পরিমাণে ডিএনএ থাকে। এই ডিএনএর পরিমাণ নিউক্লিয়াসের ডিএনএর তুলনায় নগণ্য। এই মাইটোকন্ড্রিয়া কে কোষের পাওউয়ার হাউস বলা হয়ে থাকে কারন এই জিনিসটা মুলত কোষের জন্য পাওয়ার প্রডাকশন নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। এই পাওয়ার হাউসের ভিতরে যেই ডিএনএ টি থাকে সেটা খুবই দরকারি জিনিস। এই ডিএনএ যদি ড্যামেজড হয় তাহলে ড্যামেজের প্রকৃতি ভেদে কোষের পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি তা হয় তাহলে বেবির/মানুষের অনেক সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, পেশীতে দুর্বলতা, হার্ট ফেইলিউর এমনকি মৃত্যুসহ আরও সিরিয়াস কিছু রোগ। আরও জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
এখন ব্যাপারটা হল, মাইটোকন্ড্রিয়া জিনিসটা আসে মায়ের দিক থেকে, বাবার এখানে কোন অবদান নেই। মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াতে যদি সমস্যা থেকে তাহলে বেবিরও সমস্যা থাকবে। আর একবার সমস্যাটা হইলে এইটার কোন চিকিৎসা নাই। কারণ, দেহের সবগুলো কোষে সেইম মাইটোকন্ড্রিয়া আর সবগুলোই খারাপ। শুধুমাত্র ইউ কে তেই বছরে প্রায় ১৫০ জন এই সমস্যায় মারা যায়। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে কি কোন রাস্তা খোলা নেই? উত্তর হলও আছে। আর উত্তরটা হল, থ্রি-প্যাঁরেন্ট (তিন বাবা-মা ওয়ালা) বেবি।
জিনিসটা সহজ করে বলতে গেলে এমন, মানে বেবি হবার আগেই এটার ব্যাবস্থা করতে হবে। এজন্য যেই মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়া ডিফেক্টিভ, তার ডিম্বাণু থেকে ডিএনএ বের করে নেয়া হয়। এরপর আরেকজন সুস্থ মহিলার (ডোনার) ডিম্বাণু থেকেও ডিএনএ বের করে নেয়া হয়। এরপর, প্রথম মহিলার ডিএনএ, দ্বিতীয় মহিলার ডিম্বাণুতে প্রবেশ করানো হয়। ফলাফল হল, নতুন ডিম্বাণুটির জেনেটিক মেটেরিয়াল প্রথম মহিলার (মায়ের) আর মাইটোকন্ড্রিয়াটি ডোনারের। এরপর এই ডিম্বাণুকে শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করা হয়। তারপর সেই নিষিক্ত জাইগোট কে মায়ের ইউটেরাসে স্থাপন করা হয়। তারপরের ঘটনা গতানুগতিক, যেটা আমরা সবাই জানি। নয়/দশ মাস পরে নতুন বেবি!!! (সিমিলার আরেকটা মেথড আছে)

মেথড ১ঃ এটা নিয়ে উপরে সামান্য আলোচনা করেছি।

মেথড ২ঃ এটা সিমিলার একটা মেথড।
এই প্রক্রিয়াতে যেই বেবি হয় সেটার মইটকন্ড্রিয়া পারফেক্টলি নরমাল এবং বাচ্চাও নরমাল হবার কথা। কিন্তু এটার সমস্যাটা হল। এই যে চেঞ্জটা করা হয় সেটা রিভারসেবল না। বেবি যদি মেয়ে হয় তাহলে সে মাইটোকন্ড্রিয়ার সাথে এই ডিএনএ তার বাঁচাকে দিবে। তার বাচ্চা তার বাচ্চাকে দিবে। এই ব্যাপারটাকে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তাদের আর্গুমেন্ট হল, এভাবে যদি ইচ্ছামত বাচ্চা বানানো যায় তাহলে কিছুদিন পরে বাজারে কম্পিউটার কেনার মত করে বাচ্চার অর্ডার দেওয়া যাবে। মানে আপনি যদি চান যা আপনার বাচ্চাকে ফরসা হতে হবে আপনি তাহলে সেরকম বাচ্চার অর্ডার দিতে পারবেন। আর একটা ব্যাপার হল, এই মেথডটার সাইড এফেক্ট কি হতে পারে এটা সম্পর্কে কারো কোন ধারনা নেই। যদি খারাপ কিছু হয়?
কিন্তু ব্যাপারটা অতটা সিম্পল না। এখনো সেই লেভেলের টেকনোলজি আমাদের হাতে নেই যে আমরা ইচ্ছামত বাচ্চা মানাতে পারবো। আর আমরা মানবদেহ সম্পর্কে আসলেই খুব অল্প কিছুই জানি। যারা
যারা এই ব্যাপারটার পক্ষে তাদের যুক্তি হল এটা এনহেন্সমেন্ট না, এটা জাস্ট একটা ট্রিটমেন্ট। আর এনহেন্সমেন্ট না হলে এথিকালি ব্যাপারটা এক্সেপ্টেবল। আর তাদের কথা হল, যদি এই পদ্ধতি ফলো করে আপনি কিছু বাচ্চার মৃত্যু রোধ করতে পারেন তাহলে ব্যাপারটা কি খারাপ? অনেকে বলেন, যে এভাবে যদি কোন কাপল বাচ্চা নিতে চায়, যারা নরমালি নিতে পারে না (ডিফেক্টিভ মাইটোকন্ড্রিয়ার কারনে) তাহলে তাদেরকে কি বাচ্চা নিতে বাধা দেওয়া এথিকালি এক্সেপ্টেবল?
*** এই টেকনোলজিটা মানুষের উপর এখনো আপ্লাই করা হয়নি। আইনটা পাস হওয়াতে বিজ্ঞানীরা ব্যাপারটা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন মাত্র। জিনিসটা সফল হবে কি না তা কেবল ভবিষ্যতই বলতে পারবে।
সূত্রঃ বিবিসি , গার্ডিয়ান এবং এনসিবিআই-পাবমেড
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



