ইসলামে কি বলা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। দেশের আইনে কি আছে সেটাও না। ইংরেজীতে দুটো শব্দ আছে: Equality (Sameness: সমতা) এবং Equity (Fairness: নায্যতা)।

একটা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ অপর কোন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দ্বারা নিগৃহীত হলে বা খুন হলে আনুসঙ্গিক ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে বিচার করা উচিত। সবার জন্যে একই বিচার বেমানান।
আজ পত্রিকায় এসেছে ফরিদপুরে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবকের মৃত্যুদণ্ড। ঐ ৮ বছরের মেয়েটি কিন্তু মারা যায়নি, কিন্তু যুবকটিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মেয়েটি বড় হয়ে ঠিকই ঘর সংসার করবে বা জীবনকে উপভোগ করবে। কিন্তু যুবকটির জীবন অধ্যায় জীবনের মাঝ খানে হঠাৎ শেষ। এটা ছোট অপরাধে অনেক বড় শাস্তি। ছোট অবরাধ এজন্যেই বললাম, মেয়েটি হয়ত দু্ চার বছরের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে, কিন্তু ছেলেটি নয়। সেই ছেলেটি পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারটির কি হতে পারে !!! মেয়েটি যে সাবালিকা হবার সাথে সাথে নিজেকে পুতপবিত্র রাখতো, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। যুবক বয়সে ছেলেটি যে ভুল করেছে, তার প্রায়শ্চিত্ব করার সুযোগ দেয়া যেত অন্য ভাবে।
সেটা হতে পারত, যাবৎ জীবন স্বশ্রম কারাদন্ড। অথবা, ছেলেটি মুক্ত অবস্থায় থাকবে যাতে মেয়েটির ১৮ বছর পর্যন্ত সমস্ত খরচ বহন করবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে না হলে নিজেই স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করতে বাধ্য থাকবে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহন করতে পারবে না। একই সাথে তার এনআইডি তে নোট থাকবে, Rapist. এটা একটা উদাহরন মাত্র। আরও কঠিন কিছু হতে পারে। কিন্তু জীবন একেবারে শেষ করে দেয়া যায় না।

একটা ৮ বছরের বাচ্চা কলেরা, ডেঙ্গু বা অন্য অসুখে যে কোন সময় মারাও যেতে পারে। আবার ২৫ বছরের ছেলেটি যতটা কর্মক্ষম বা উৎপাদনমুখী অর্থনীতির বিচারে, সে পর্যায়ে যেতে মেয়েটির ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাও সমপার্যায়ের হবে কি না নিশ্চয়তা নেই। মেয়েটি বেঁচে থাকলে মাকে মা বলে ডাকতে পারবে, কিন্তু ছেলেটি তখন ছবি হয়ে থাকবে। মা তখন ছেলের গলায় মা ডাক শুনবে না। যে আঁচলে চোখের পানি মুছবে, সে আঁচলে ছেলের ছবির ফ্রেম মুছবে।
বাস্তবতা হল, একটি ধর্ষনের বিপরীতে মৃত্যুদন্ড শব্দটা শুনে মেয়ের পরিবার, আমাদের এলোমেলো সমাজের সবাই খুশি। কিন্তু আমরা ভাবি না, এটা বা এ ধরনের বিচার অসম - অনায্য বিচার। আমি প্রতিহিংসার ফ্লেভার দেখতে পাই... দেখতে পাই বিচারের ভারসাম্যহীনতা।
খবরের লিঙ্ক: ফরিদপুরে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


