somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার মেমোরি যে আপনার সাথে গেইম খেলতেছে সেইটা জানেন???

০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেমোরি বলতে কি বোঝায় সেইটা আমরা মোটামুটি সবাই বুঝি। কিন্তু মেমোরি ব্যাপারটা যে পুরাটাই একটা ইলিউশন এইটা বললে কয়জন বিশ্বাস করবে? আমি নিশ্চিত একজনও না। এই ব্যাপারটা নিয়া আমার কোন মাথাব্যাথাও ছিল না। জিনিসটা আসলে কি এই ব্যাপারটা নিয়া ঘাটাঘাটি শুরু করলাম কিছুদিন আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটা আর্টিকেল পইড়া। আর্টিকেলটা পইড়া মাথাটা পুরাই ঘুইরা গেছিল।

সাধারণত মেমোরি বলতে আমরা যেইটা বুঝি সেইটা হইল আমাদের আশেপাশে যেইটা ঘটে, আমরা ব্যাপারটাকে যেইভাবে দেখি, সেই ঘটনাটাই আমাদের ব্রেনে যাইয়া সেইভ হইয়া থাকে। এই আইডিয়ার উপর ভিত্তি করেই আমরা ডেইলি লাইফে ফাংশন করে থাকি। কিন্তু আসলে কি মেমোরি ব্যাপারটা তাই?

এইবার টাইমসের আর্টিকেলটা নিয়া বলি। আর্টিকেলের টপিক হইল, একজন মানুষকে ভরা টাইমস স্কয়ারের মাঝখানে নিউ ইয়র্কের পুলিশ গুলি করছে এইটা নিয়া(এই লোকটা হাতুড়ি দিয়া র‍্যান্ডম লোকজনেরে মাথায় বাড়ি মাইরা বেড়াইত!!!!)। ঘটনার পরপরই দুইজন আই উইটনেস কিরা-কসম কাইটা বলছে যে লোকটার কোন দোষ নাই, পুলিশ তারে গুলি কইরা ভুল করছে। একজন বলছে লোকটা পুলিশের কাছ থেইকা পালাইতেছিল, আর পালাইতে থাকা লোককে পুলিশের গুলি করাটা জাস্টিফাই করা খুব কঠিন। আর একজন বলছে পুলিশ তারে ধইরা হ্যান্ডকাফ লাগাইয়া তারপর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করছে। এইটাতো আরও ভয়াবহ একটা ব্যাপার!!! সাক্ষী দুইজনের কথা শুইনা মনে হইতেছে না যে পুরা দোষটাই পুলিশ ব্যাটাদের। তাই না?

টাইমস স্কয়ার হইল আম্রিকার একটা মেজর ট্যুরিস্ট এট্রাকশন। ওই প্লেসে পুলিশ গিজগিজ করে সবসময়। আর ওইখানকার প্রতি ইঞ্চি যায়গা সিসিটিভি ক্যামেরা দারা সারভেইল্যান্সড। সুতরাং এই গুলির ব্যাপারটাও আগাগোড়া ক্যামেরায় ধরা পরছে। আর ক্যামেরা বলতেছে পুলিশ যখনই এই লোকটারে হাতুড়ি মারা বইলা আইডেন্টিফাই কইরা এপ্রোচ করতে গেছে, এই উন্মাদ ব্যাটা হাতুড়ি বাইর কইরা এক মহিলা পুলিশরে কমপক্ষে তিনবার বাড়ি মারছে। তারপরেই কেবলমাত্র পুলিশ অফিসারেরা তারে চার-চারটা গুলি মারছে। ফলাফল উন্মাদের ভবলীলা সাঙ্গ!

এইখানে মনে হইতে পারে যে সাক্ষী দুইজন মিছা কথা কইছে। এইটা একটা রিয়াল পসিবলিটি। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা নাকি তা না। একজন মেমোরি বিশার ব্যাপারটারে অনন্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন। উনি বলছেন আমরা আমাদের আশেপাশে ঘইটা যাওয়া ব্যাপারগুলারে পুরাপুরি অবজারভ করি না। আমাদের মাইন্ড সবসময় মাল্টিটাস্কিং করে, এতে কইরা প্রত্যেকটা ঘটনারই অনেক ইম্পরট্যান্ট ডিটেইল মিসিং হইয়া যায়। আর আমাদের ব্রেইন এই মিসিং পিসগুলারে নিজের মত কইরা পুরন কইরা নেয়।

ব্যাপারটারে আর সহজ কইরা বলতে গেলে যেইটা হয় সেইটা হইল, ধরেন আপনারে একটা পেইজে এক থেইকা একশ পর্যন্ত নাম্বারগুলা সিরিয়ালি টাইপ কইরা দেওয়া হইল, কিন্তু কাহিনি হইল এক থেইকা পঞ্চাশের পর থেইকা প্রত্যেক দশটা নাম্বারের থেইকা একটা নাম্বার র‍্যান্ডমলি নাই! আপনি যখন পেইজটা তুইলা চোখে ধরবেন, দেখবেন আপনি এক থেইকা তিরিশ চল্লিশ পর্যন্ত হয়তো ফলো করবেন তারপরে হয়ত লাস্টের একশ এর দিকে হাল্কা নজর দিয়া আপনি সন্তুষ্ট হইয়া বলবেন এইখানে এক থেইকা একশ পর্যন্তই সিরিয়ালি আছে। আপনারে যদি সপ্তাহখানেক পরে বাজি ধরতে বলা হয় আপনি হয়ত বাজিও ধরবেন যে ওইখানে এক থেইকা একশ সিরিয়ালি লেখা ছিল।

এতক্ষণে যেইটা বলতেছিলাম ওইটার সারমর্ম হইল যদি একটা ঘটনা আমাদের চোখের সামনে ঘটেও ঘটনাটারে আমরা ভুলভাবে দেখার পসিবিলিটি বেশ স্ট্রং। আর কানার হাতি দেখার কথা না হয় নাইবা বললাম। মেমরিরে আমরা কিছুটা নিজেদের মত কইরাই বানাইয়া নিজের সুবিধার জন্যই।

কিন্তু আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হইল যে ব্যাপারটা লইয়া ঘ্যাঁঘাটাঘাটি করতে যাইয়া যেইটা পাইলাম সেইটা। মেমোরি নিয়া হাল্কা গভেষণা করতে যাইয়া দেখলাম মেমোরি নাকি স্ট্যাটিক না। ব্যাপারটা নাকি কন্টিনিউয়াসলি মডিফাই হইতে থাকে। নরমালি মেমোরিরে আমরা কম্পিউটারের মেমোরির মত মনে করি। যেইটার মানে হইল, ধরেন একটা ঘটনা (ধরেন আপনার ফ্রেন্ড তার ক্রাশেরে পিরিতের অফার দিতে যাইয়া মাইয়ার পেন্সিল/ সাইকেলের স্পোক হিলের বাড়ি খাইয়া আসছে! ) আজকে ঘটল আর আপনি ঘটতে দেখলেন, ব্যাপারটা আপনার মেমোরিতে সেইভ হইয়া গেল। আমাদের ধারনা হইল আপনি কালকে ঘটনাটা মনে করলে যেইটা মনে করবেন দুই মাস পরে মনে করতে দিলেও সেইম কথাটাই মনে করবেন। এইটাই তো স্মৃতি নাকি? অন্তত আমি পারসোনালি এইটাই মনে করতাম।

কিন্তু কাহিনীটা নাকি আসলে পুরাই আলাদা। আপনার মেমোরিতে একটা ঘটনা একটা ঘটনা যেইভাবেই সেইভ হোক না কেন আপনি যখনই সেই মেমোরিরে রিকল করবেন/স্মৃতি হাতড়াবেন মেমোরি ততবারই আপনার মুডের উপর নির্ভর কইরা চেইঞ্জ/মডিফাই হবে। তারমানে হইল একটা ঘটনা যদি আপনি এক বছরে বিশবার মনে করেন তাইলে বিশবার আপনার মেমোরি মডিফাই হবে!!! কতটুকু হবে সেইটা আলাদা ব্যাপার।

ব্যাপারটারে অন্যভাবে বলতে গেলে যেইটা দাড়ায় সেইটা হইল, ধরেন আপনি একটা নতুন টি-শার্ট কিনছেন তারপরে পরা শুরু করছেন। পইড়া আপনি আবার ভাজ কইরা রাখতেছেন, আপনি যতবার পরতেছেন ততবার টি-শার্টের ভাজ চেঞ্জ হইতেছে। যতবার ধুইয়া ভাজ কইরা রাখতেছেন ততবার ভাজ চেঞ্জ হইতেছে। আস্তে আস্তে রং যাইতেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এইটা ঠিক যে আপনার টি-শার্ট টিশার্টই থাক্তেছে কিন্তু নতুন অবস্থায় যেমন ছিল জিনিসটা তেমন আর নাই। মেমোরিও নাকি এইভাবে অলটার হইয়া যায়।

ব্যাপারটার ইমপ্লিকেশন চিন্তা করতে গেলে সব গুবলেট হইয়া যায়। যেমন ধরেন কোন পরিচিত সুন্দরি আপনার দিকে তাকাইয়া একটা নিষ্পাপ হাসি দিছে আর আপনি আপনার ব্যাপারটা মেমোরিতে নিয়া রাখছেন। কিছুদিন পরে আপনেরে পিরিতের বিচ্ছু কুট কুট কইরা কামড়াইতেছে আর এই সময় আপনার ওই সুন্দরির কথা মনে পরছে। আপনার তখন ইজিলি মনে হইতে পারে, আহা!!! সুন্দরির রাডারে আমি নির্ঘাত ধরা পরছি! নাইলে ওইরাম বিটলামি কইরা হাসি দিবে ক্যারে(নিষ্পাপ হাসিরে আপনার মেমোরি বিটলামির হাসি বানাইইয়া দিতে পারে।)? আর এই মডিফাইড মেমোরির উপ্রে এক্ট করতে গেলে আপনার কপালে পেন্সিল/ সাইকেলের স্পোক হিলের বাড়ি থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি!!! আবার এমনটাও হইতে পারে সুন্দরি আপনারে প্রথমে ঠিকই বিটলামির হাসি দিছিল কিন্তু আপনি পিরিতের মুডে ছিলেন না তাই ওইটারে নিষ্পাপ হাসি মনে করছিলেন!!! আসলে কি হইছিল ওইটা আপনি মাথা খাটাইয়া ডিসাইড করা আপনের দায়িত্ব!

এই টপিকটা আমার কাছে বেশ আজিব মনে হইছিল। একটু ভয়ও পাইছিলাম। লাইফের ডিসিশনগুলা মূলত পাস্ট এক্সপেরিয়েন্সের উপরে নির্ভর কইরা নেওয়া হয়। পাস্ট এক্সপেরিয়েন্সের মেমোরি/পারসেপশন যদি নকল হইয়া থাকে তাইলে ব্যাপারটা ক্যামন হইয়া গেল না? কিন্তু বাস্তবতা হইল মেমোরি ফলস আর বানোয়াট যাই হোক না কেন ব্যাপারটা যেহেতু সবারই জন্য প্রযোজ্য সুতরাং টেনশিত হইয়া কুনো লাব নাই! উপ্রের জিনিসগুলা পইড়া কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা কইরা ব্যাপারটারে মাথা থেইকা তাড়াইয়া দেওয়াটাই মনে হয় উত্তম! আর চাইলেও এইটারে নিয়া কিচ্ছু আপনি করতে পারবেন না!


তথ্যসূত্র এবং ছবিঃ ইন্টারনেট।

নিউ ইয়র্ক টাইমস আর্টিকেল, The Human Memory
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৩০
২৩টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের নায়িকাকে একদিন দেখতে গেলাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪২

যে মেয়েকে নিয়ে ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম, তার নাম ভুলে গেছি। এ গল্প শেষ করার আগে তার নাম মনে পড়বে কিনা জানি না। গল্পের খাতিরে ওর নাম ‘অ’ ধরে নিচ্ছি।
বইটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×