somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রশ্নের কারখানা
ভালোবাসি গান শুনতে, লিখতে, পড়তে, তৈরী করতে আরো অনেক কিছু। সরলতাই আমাকে দিয়েছে মুগ্ধতা। সরল জীবনযাপনই সফলতার সোপান বলে আমি মনে করি

শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠের হল :( যার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আক্ষেপ আর কষ্ট

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল রাতে হঠাৎ ফোনের পর ফোন আসতেই থাকে। আমি তো ঘুমে, আমি কিছুই জানিনা! আমি কবি সুফিয়া কামাল হল ছেড়েছি একমাস হলো! হল ছেড়েছি এই নিউজ হয়তো অনেকেই জানেন না। তাই আমার নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই কল করে খোঁজ নিচ্ছিলেন আসলে তা না আসলে খোঁজ দিচ্ছিলেন। ঘুমের ঘোরেই উঠে নেট ওপেন করে যা দেখি তা দেখে আমি অবাক হইনি( কারন হলে আমি ছিলাম আর এই পলিটিক্যল মেয়েগুলোকে আমি চিনি এবং এদেরকে শেল্টার দেয়া ও এদের শেল্টারে বেঁচে থাকা হলের হাউস টিউটরদেরকেও চিনি) কিন্তু রক্তাক্ত সেই পায়ের ছবি আমাকে আর সুস্থ থাকতে দেয়নি। সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে সকলের ফোন উপেক্ষা করে ঘুমাতে যেয়েও ঘুমাতে আর পারিনি!
এশার অন্যায়ের সাপেক্ষে এশাকে জুতার মালায় শোভিত করা হয়েছে, খুবই ভালো! এটা আমাদের মেয়েদের বড় ধরণের অর্জন। কিন্তু সেই মুহূর্তে লীগের যেই নেতা এশারে বাঁচাইতে গেছেন তিনি রেবেকা ম্যামরে খুজতেছিলেন(ভিডিওতে দেখেছি)।
হলের বাইরের সাধারণ মানুষ,
আপনাদেরকে জানাই, খুব জানাতে ইচ্ছা করছে আজকে!

এই যে এশা আর এই যে রগ কাটার ঘটনা এসব ঘটতো না আমি হলফ করে বলতে পারি যদি হাউস টিউটরগণ এসব পলিটিক্যাল পোলাপানকে আলাদা শেল্টার না দিতেন! তারা যদি সত্যিই হাউস টিউটর হয়ে থাকতেন। এনারা নিজেদেরকে রাজা ভাবেন আর স্টুডেন্টদের ভাবেন প্রজাসমাজ! এশা না কেবল হলের হাউস টিউটররাও এমন এমন সব অন্যায় স্টুডেন্টদের সাথে করেন যা মেয়েরা সিট হারানোর ভয়ে মুখ খোলেনা, প্রকাশ করেনা!

লিখবো? না। শেষ হবেনা লিখে! হলের ম্যামদের অনেক সুনাম শুনেছি! সুফিয়া কামাল হলেও ভালো মনের ছাত্রবান্ধব হাউস টিউটর আছেন, কিন্তু জেনে আনন্দিত হবেন কিনা জানিনা এই ভালো হাউস টিউটর ম্যামদেরই একজন সোভা ম্যামকে এশারা ক্ষমতার বলে অফিস থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন! বাকি যারা পা চেটে চলছেন এসব এশাদের ত্যারা দিব্যি আছেন পায়ের উপর পা তুলে। রাষ্ট্রের সমস্ত কিছুতে, একটা হলের ডায়নিং এ পর্যন্ত পলিটিক্যল লবিং ভীষণ কার্যকরী, ক্যান্টিনের টেবিলে লবণের কৌটা কার দিকে দেবে, সাধারণ ছাত্রী নাকি পলিটিক্যল নেত্রী এসবেও যখন পলিটিক্যল লবিং ব্যবহৃত হয় এবং এই কালচারে রাজনীতি করতে আসা একটা মেয়ে রগ কাটা কেনো আরো অনেক বড় বড় ক্রাইম করেও বেঁচে যাওয়ার আশা রাখে তার মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকা সকল পলিটিক্যাল চাটুকারদের কাছে!

ভাবছেন খুব ভালো আছি??? স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পড়ি, পড়েছি! অল্প টাকায় হলে থেকেছি? আসলে তা না, হলে থেকেছি ভিখারির মতো হাউস টিউটরদের চোখে! হলে থেকেছি ফালতু ডিস্টার্ব হিশেবে নেত্রীদের চোখে, হলে থেকেছি জেলখানার কয়েদির মতো হলের গেটের দাদুদের চোখে।
রাত সারে নয়টায় হলের গেট বন্ধ! হাজার বিপদেও হলের বাইরে যাওয়ার উপায় নেই হাউস টিউটরের অনুমতি ছাড়া! তার কাছে অনুমতি নিতে গেলে নোংরা ব্যবহার! রাত এগারোটার ট্রেনে ইদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য দশটায় হাউস টিউটরকে ফোন দিলে প্রত্যয় চতুর্থ তলার ম্যাম আমার বন্ধুকে প্রস্টিটিউশনের অভিযোগ দিয়েছেন! কিন্তু বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি নিজে ভিডিও করে রেখেছি রাত দুইটায় হলের নেত্রী হলে ঢুকছে নিয়মিত!

এদেশের সাধারন ছাত্ররা কোটার বিরোধিতা করছে আমিও সেই দলে! মূলত আমরা দূর্নীতি রুখতে পারছিনা কোথাও, কোথাও পলিটিক্যল লবিং ছাড়া নিজের মেধা দেখাতে পারছিনা, তার মধ্যে আরো ভীষণ শাস্তি হিসেবে আছে কোটা!
দুর্নীতি তো অলিখিত!!!!
তাই লিখিত অথচ বৈষম্যপূর্ণ সিস্টেমের বিরুদ্ধে আজ আমরা সোচ্চার আমরা সাধারণ ছাত্র বলে!
হে সাধারণ জনগণ, আপনারাও জাগতে পারেন কিন্তু অলিখিত সেই দুর্নীতি আর পলিটিক্যল লবিং এর বিরুদ্ধে! খুব বেশি সময় নেই বোধয় আর জেগে ওঠার!

লেখাটিঃ জান্নাতুল ফেরদৌসি সনি-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:২৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×