somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ব্যর্থচিন্তা

১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত “অংকন” পরীক্ষা দিতে হয়েছিল আমাদের। তখন “অংকন” পরীক্ষায় খুব common একটা বিষয় ছিল রংসহ “একটি গ্রামের দৃশ্য” এবং রংছাড়া “একটি আল্পনা/নৌকা”। রংসহ চিত্রের জন্য ১৫ নম্বর আর রংছাড়া চিত্রের জন্য ৮ নম্বর ছিল। এরপর ৫ম শ্রেণির বিরতি দিয়ে আবার ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ছিল “চারু ও কারুকলা”। এখানে ছিল একটু ভিন্নতা। চিত্রের সাথে কিছু প্রশ্নের উত্তরও লিখতে হতো। আচ্ছা, খুব ভালো। একটা শিশু চিত্র আঁকবে আর তদানুসারে নম্বর দেওয়া হবে। কিন্তু একটা শিশু যদি আকাশের সূর্যটাকে হলুদ রঙ না দিয়ে সবুজ রঙে সাজিয়ে দেয় তাহলে কি সে গুরুতর অপরাধ করে ফেলবে? অথবা একটা গ্রামের দৃশ্যে যদি নদী আর কুঁড়েঘরকে অনুপস্থিত রেখে চিত্রটা সম্পন্ন করে তবে এখানে দোষের কি রয়েছে? একটি শিশুমন একটি বক্ররেখাও যদি আঁকতে পারে তবে সেটিও একটি শিল্প বলে মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু তার এই শিল্পের বিকাশে barricade কেন দিচ্ছেন? কেন ১৫ বা ৮ নম্বরের মধ্যে তার শিল্পকে আবদ্ধ করে ফেলছেন? আর একটা শিশুর যদি মনেই হয় যে তার আকাশের রঙ বেগুনী করবে, তবে সেখানে লাল কালির দাগ দেওয়ার অধিকার কি আপনার রয়েছে?

নাহ, এটা এখনকার কথা না। আরো ৮-৯ বছর আগের কথা। তবে ওই যে নম্বরের কাঠামোতে যে আমাদের আবদ্ধ করেছে তা এখনো রয়ে গেছে। আমরা এখন বাস্তববাদী শিক্ষার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছি। জন্ম->শিক্ষা->চাকরি->মৃত্যু। অধিকাংশেরই জীবনচক্র একক্ষেত্রে এমন হয়। আমাদের এ শিক্ষাতে খুব একটা মুক্তচিন্তার সুযোগ নেই। এটা ঠিক উপরের বর্ণনায় আকাশের রঙ বেগুনী বা সূর্যের রঙ সবুজ করার মতো। আমাদের শিক্ষার চিন্তাটা আবদ্ধ হয়েছে ১০০ নম্বরের মধ্যে। যেখানে ৮০ মানে সুন্দর, স্বর্ণালী জীবন। এ স্বর্ণ লাভের প্রত্যাশায় আমাদের চিন্তা বন্দী।

আমাদের সমাজে মুখস্ত বিদ্যার যে অনেক মূল্য। একটা ছেলে (a+b)2-এর সূত্রটা মুখস্ত বলতে পারে আরে একটা ছেলে একটা রেখাকে বর্গরুপ কল্পনা এ সূত্র প্রমাণ করে দেখাতে পারে। আমাদের সমাজ প্রথম ছেলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। আমাদের শিক্ষা আমাদেরকে এমন নিরস করেছে যে আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে বই ধরতে অনিচ্ছুক । আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে শিক্ষকের ভুমিকাই সর্বাধিক। একজন শিক্ষকের জানা উচিত যে, কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে প্রতিটি শিক্ষার্থীই তার শিক্ষার সর্বোচ্চটুকু গ্রহণ করবে। আমাদের শিক্ষকরা সবসময় আমাদের কোনকিছুর কারণ দর্শাতে চান না।

১ম শ্রেণি থেকে একটা বাচ্চাকে যখন ক্রমাগত পরীক্ষার রুমে বসতে হয় তখন তার অবচেতন মনে এমনিতেই একটা ধারণা তৈরি হয় যে, পড়ালেখা=পরীক্ষার নম্বর। তাছাড়াও আমরা একটা সহজ সূত্র জানি, “আমি যদি খাতায় কালো কালি দেই তবে শিক্ষক সেখানে লাল কালি দিতে বাধ্য”। দিনশেষে নম্বরটাকেই আঁকড়ে ধরে আমাদের বাঁচতে শেখানো হয় যে......

আমাদের “কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন” রয়েছে। একবার একজন ব্যক্তি ব্যাপারটাকে এভাবে বলেছিলেন যে, “ছাগলের দাঁড়ি আছে, আমারও দাঁড়ি আছে। সুতরাং ছাগল ও আমি সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু ছাগল আমার পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না”।

(অসমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৪১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমারে বড় ঢাকাতে নিয়া যাও আল্লাহ! ( অণুগল্প)

লিখেছেন কাইকর, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৬


অমন কথা কইয়েন না মহাজন। আপনার দুইডা পায়ে পরি। আমার পেটে লাথি মাইরেন না। নাজমার মা কইছে, ঢাকা থাইক্যা ফেরত আইসা আপনার হগল পাওনা মিটাইয়া দিবো। মহাজন আমার কান্নাকাটি দেইখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

—— এই তো জীবন!! —-

লিখেছেন ওমেরা, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২০



হেমন্তের হিমেল হিমেল হাওয়ায় গাছের পাতাগুলো একে একে ঝরে যাচ্ছে, আস্তে আস্তে দিনগুলো ছোট হয়ে আসছে ।এই সময়ে মনটা এমনিতেই উদাস উদাস লাগে রাইনার। ইউরোপের ব্যস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় ব্লগার শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান ভাইয়ার জন্মদিনে শুভেচ্ছা..........

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:১৩



অবসরের ফাঁকে ফাঁকে তিনি লিখে যান কবিতা
কত শত সুখ শব্দে ভরা কবিতা, ভালো লাগে সবই তা!
ভ্রমনে মন রেখে তিনি ছুটে যান এখানে সেখানে অথবা সমুদ্দুরে
তিনি হেঁটে বেড়ান প্রকৃতির বুকে, কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫১

দেশে বিএনপির সমর্থক কম নয় । সামু ব্লগে বিএনপির সমর্থক বেশ ভালই আছে। বিএনপি ভেবেছিল কামাল হোসেন এর কাঁধে বন্দুক রেখে আওয়ামীলীগকে ঘায়েল করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি পতাকার জন্য-০৩

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪০



উৎসর্গ: শহীদ বুদ্ধিজীবিদেরকে.......

জমিরের বাপ সগিরের ভাই এগিয়ে আসলো যখন,
বোনটাকে তোমার বাড়িতে আমার কোনমতে আনি তখন।
সেই থেকে তাকে চোখে চোখে রাখি অঘটন যদি ঘটায়!
সাধ্যমতো তারে আদর যত্ন করে সুস্থ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×