somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রেসিপি ফ্রম ব্যাচেলর'স কিচেনঃ কাশ্মীরি আচার, সাথে আলু-ডিম ভর্তা, মাছ ভর্তা ফ্রি

৩০ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাশ্মীরি আচার:

যেসময়টাতে কাঁচা আম পাওয়া যায়, আঁটি কিছুটা শক্ত হয়েছে, তবে একেবারেই শক্ত নয় এরকম এক কেজি আম কিনে প্রথমে ফালি ফালি করে কেটে ফিটকিরি পানিতে ভাল করে ধুয়ে দুই তিন ঘন্টা পানি ঝরিয়ে নিন, পানি ঝরানোর জন্য নেটের সাঁজি ব্যবহার করলে ভাল, কারণ আমের একটা ওজন থাকে। এরপর আমের পানি প্রায় শুকিয়ে এলে চুলায় একটু বেশি করে চিনি, প্রায় দুই কাপের মতো সিরকা পানিতে দিয়ে সিরা প্রস্তুতির আয়োজন করুন। সিরাতে কিছু আদা কুচি এবং লাল মরিচ কুচি (বীচি ফেলে দিয়ে) দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর সিরা ফুটে উঠলে আমের টুকরোগুলো ঢেলে দিন। ভাল করে ফুটে উঠলে দেরী না করে আমের টুকরোগুলো ছেঁকে তুলে নিন সাঁজিতে। সাঁজির নিচে একটি পাত্র দিয়ে রাখুন যাতে আমের সাথে লেগে থাকা সিরা মাটিতে না পড়ে। এবার চুলা থেকে সিরা নামিয়ে ঢেকে রাখুন, ঠান্ডা হতে দিন। আমও আলাদাভাবে ঢেকে রাখুন। আবার প্রায় ১২ ঘন্টা পরে বা মোটামুটি সকালে একবার, সন্ধ্যার পর একবার এভাবে তিন চারবার একই পদ্ধতিতে সিরা গরম করে আম দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে আবার আম ছেঁকে নিন। দুইদিন পর বারে বারে জ্বাল দেবার ফলে সিরা অনেকটা ঘন হয়ে আসবে, চারবারের সময়ে বা পঞ্চমবারের সময়ে আম আর তুলবেন না, সিরাতে ভাল করে ফুটিয়েই নামিয়ে নিবেন, একটি শুকনো প্লাস্টিকের বা কাঁচের জারে বা বয়ামে আমগুলো সিরাসহ ঢেলে নিবেন। ঠান্ডা হলে পরে ফ্রিজে রেখে দিবেন। ব্যস, হয়ে গেল আমের মজাদার কাশ্মীরি আচার!

[রাতে আমার বানানো কাশ্মীরি আচারের ছবি আপলোড করে দিব, এখন ক্যামেরা হাতের কাছে নেই।]

এবার আসুন চটপট মাছ ভর্তা করে ফেলি! :)

যেকোন রুই বা কার্প জাতীয় মাছ বা তেলাপিয়া মাছ বা টাকি মাছ আগে আঁশ ছাড়িয়ে ভাল করে ধুয়ে টুকরো করে নিন। টাকি মাছ টুকরো করার প্রয়োজন নেই। পিঠের দিকের দুই তিন টুকরো মাছ নিয়ে একটু হলুদ আর লবণ মাখিয়ে গরম তেলে এপিঠ ওপিঠ বাদামী করে ভেজে নামিয়ে রাখুন। এরপর মাছ থেকে কাঁটা ছাড়িয়ে নিন। একটা মাঝারী সাইজের পেঁয়াজ গোল গোল করে কুচি করে, সাথে কাঁচামরিচ কুচি অথবা লাল মরিচ শুকনো তাওয়ায় টেলে, ধনেপাতা কুচি এবং পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিয়ে ভাল করে ভাজা মাছটুকু চটকে নিন। হয়ে গেল মাছ ভর্তা! টাকি মাছের ভর্তাটা সবচেয়ে সুস্বাদু মনে হয় আমার কাছে।

প্রচন্ড কাজের চাপে বাসায় বাজার করার সময় হলো না, ফ্রিজে আছে ডিম, আর ঝুড়িতে কিছু আলু। নো চিন্তা! দুই তিনটা আলু আর একটা ডিম ভাল করে ধুয়ে দুই তিন কাপের মতো পানিতে এক চামচ লবণ দিয়ে সিদ্ধ বসিয়ে দিন। আরেক চুলায় চাল ধুয়ে ভাত বসিয়ে দিন। এরপর শাওয়ার নিতে চলে যান। ২০ মিনিট পর বেরিয়ে এসে আলু সিদ্ধ হয়েছে কিনা একটা চামচ লম্বালম্বিভাবে আলুতে ঢুকিয়ে চেক করুন। যদি চামচটি সহজেই প্রবেশ করে, তাহলে বুঝবেন আলু সিদ্ধ হয়ে গেছে, নাহলে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সিদ্ধ আলু নামিয়ে অবশিষ্ট পানিটুকু ফেলে দিন, ভাল হবে যদি আর নতুন করে পানি না দেন। ফ্যানের বাতাসে আলু, ডিম ঠান্ডা করে খোসা ছাড়িয়ে চটকে নিন একসাথে, সাথে পরিমাণমতো লবণ দিন। একদিন লবণ কম বা বেশি হলেই বুঝে যাবেন অন্যদিন কি পরিমাণে দিতে হবে। এরপর একটা পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ কুচি বা লাল মরিচ কুচি করে কড়াইতে অল্প সরিষার তেল দিয়ে বাদামী করে ভাজুন। তারপর তার সাথে আলু-ডিম দিয়ে একটু নেড়ে চেড়ে নিন, মানে গরম তেলটুকু আলুর সাথে ভাল করে মিশিয়ে দেন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে দিতে পারেন। গরমের কারণে চামচ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যস, হয়ে গেল আলু ডিম ভর্তা! শর্করা এবং আমিষের কোন অভাব রইলো না! :)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×