
যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম দুটো দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় একই সময়ে কিন্তু তুলনামূলক ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে ভালো ছিল। বাংলাদেশে ছিল অনেক ভারী শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনামে তাও ছিলনা বললেই চলে। অর্থনৈতিকভাবে ভিয়েতনাম তরতর করে এগিয়ে চলছে। পোশাক শিল্পে বিশ্বকে তাক লাগাচ্ছে। ভিয়েতনামে তৈরি হচ্ছে কম্পিউটার, মোবাইল, ইলেক্ট্রিক পণ্য, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেক্ট্রনিক্স পন্য, চামড়া শিল্প। কি নেই সেখানে? শুধুমাত্র নেই চেতনা, ৭১, পাকিস্তান ঘৃনা ও ভারত প্রেম।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি ও রপ্তানি) পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪৯.৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ব দেশ। ভিয়েতনামের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অন্যতম বড় রপ্তানিবাজার। অথচ এই যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামকে তামা বানিয়ে ফেলেছিল তারপরও ভিয়েতনামের কোন চেতনা নেই, নেই তাদের ৭১ কিংবা পাকিস্তান ঘৃনা ও ভারত প্রেম।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ৬৪.০২ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল ৪০.০৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতির দেশ।
পোশাক ছাড়া তেমন বড় কিছু নেই রপ্তানী করার মতো। বর্তমানে ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ ভালো করছে। উজ্জ্বল চামড়া শিল্পে বড় বিপর্যয় শুধুমাত্র ভারতকে লাভবান করার জন্য; কাচা চামড়া ভারতে রপ্তানী হতো। আধিপত্যবাদী ভারতের দালালেরা পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত ভারী শিল্পগুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দিয়েছে তাদের স্বার্থের জন্য।
আমাদের আছে চেতনা, ৭১, পাকিস্তান ঘৃনা ও ভারত প্রেম। পুরো বিশ্ব যখন তাকিয়ে আছে ২০২৭, ২৮, .. .. .. ..২১০০ সালের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি ৭১ এর দিকে। সামনে না গিয়ে পিছনে হাঁটছি।
পিছনে হাঁটা সুবিধাও আছে; বিদেশে নাগরিকত্ব, শুখের জীবন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যাংক ব্যালেন্স, নারী, গাড়ী, বাড়ী সুতরাং চেতনাই তো ভালো, ভালো না?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




