এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা উৎকন্ঠায় আবলুত পরীক্ষার্থী। হরতালের কারণে একটির পর একটি পরীক্ষা পিচাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। একটিপরীক্ষার প্রস্তুতী নিয়ে সেই পরীক্ষাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে সেই প্রস্তুতি তাকে আবার নিতে হবে সেটা ভেবে এবং পরবর্তী পরীক্ষা না হওয়ার অনিশ্চয়তায় প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে পারছে না। স্বাভাবিক কারণেই পরবর্তী পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হলে প্রস্তুতির অপূর্ণতায় তার পরীক্ষাটি মনোপুত হচ্ছে না। এই অবস্থায় আশানুরুপ ফলাফল করার কোন সম্ভবনা নেই। এ বছরের পরীক্ষার্থীদের তথা বর্তমান প্রজন্মের আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতি বিরূপ ধারণা জন্মাচ্ছে এমনকি যে শিশুটি প্লে শ্রেণীতে পড়ে সেও দেশের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের হরতাল আর গাড়ি ভাংচুরের কাহিনী স্বাভাবিক মনে করে তার হৃদয়ে গেথে নিচ্ছে। সে যখন বড় হবে তখন তার কাছে এ ধরনের ঘটনা ঘটা বা ঘটানো স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হবে। সুতরাং আজকের হরতাল ভাংচুর যে আজকের জন্য ক্ষতিকর শুধু তাই নই আজকে শিশু বা প্লে শ্রেণীতে পড়া শিশুটি যতদিন বেচে থাকবে ততদিন এর প্রভাব চলতে থাকবে।
উচ্চ মাধ্যমিক বা কলেজ পাশ করা ছাত্রদের আকাশ চুম্বী ফলাফল সেই সাথে সাথে এই আকাশচুম্বী ফলাফল করা ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষায় হতাশাব্যঞ্জক ফলাফল তথা, নূন্যতম পাশ নম্বর না পাওয়ার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে আলোচিত বিষয় হিসাবে শিক্ষাঙ্গঁণ তথা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গঁনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা ছাত্রদের এই করুণ কাহিনী আমার আগে বিশ্বাস হইনি। কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর শ্রেণী শিক্ষকদের মন্তব্য থেকে একথা স্পষ্ঠ ফুটে উঠে যে, বর্তমানে ভর্তি হওয়া ডাবল এ প্লাস পাওয়া ছাত্রদের অবস্থা খুবই করুন। তারপর ছাত্রদের এই অবস্থা উন্নয়নের জন্য বিভাগীয় প্রধানগনের সভায় ছাত্রদের করুন অবস্থা আরো ভয়ংকর ভাবে ফুটে উঠে। বিভাগীয় প্রধানদের ভাষ্য অনুযায়ী ডাবল এ প্লাস পাওয়া ছাত্রদের কলেজে পড়ানো সাধারণ টার্ম গুলি সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারনে ক্লাসে/ট্রার্ম পাঠদান কালে শিক্ষার্থীরা কিছু বুঝতে পারে না। ফলে অধিকাংশ ছাত্ররা ক্লাস টেষ্ট পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করছে। এমতাবস্থায় আমরা বিভাগীয় প্রধানগণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় যে দূর্বল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নতুন করে ক্লাস নিয়ে দ্বিতীয় বার ক্লাস টেষ্ট নিতে হবে। তা না হলে এ সকল ছাত্ররা ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে। এমতাবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ে অধিক নম্বর দেওয়ার প্রবণতা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে নইলে অধিক নম্বরধারী ছাত্র একদিন আমাদের বোঝা হয়ে দাড়াতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



