somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাঁড়ি সমাচার!

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন একটা কোচিংয়ে পড়তাম। কোচিংয়ে একজন স্যার আমাদের ইংরেজি পড়াত। ইয়া লম্বা স্যার আর পড়াত গালিভার'স ট্রাভেলস, তাই আমরা সবাই তাকে গালিভার স্যার বলেই ডাকতাম। স্যার খুবই ফ্রেন্ডলি ছিলেন আমাদের সাথে, আমরা যে কোন সমস্যা তার সাথে শেয়ার করতে পারতাম। ক্লাসে কোনদিনই বোরিং লাগত না। তার কিছু ডায়লগ ছিল, খুব মজা করে বলতেন। "কথা কম কাজ বেশি।" "শুকাইলেই পাউডার, ভিজাইলেই আঠা!" "এটা হইল, ভাআআব!" "এইটা কী? ভাআআব!" আমরা অনেকেই তাকে অনুকরণ করতাম। সব কিছু অনুকরণ করতে পারলেও একটা জিনিষ অনুকরণ করতে পারতাম না। সেটা হল স্যারের দাঁড়ি! এখন যেমন চাপ দাঁড়ি রাখা স্ট্যাইল তখন কিন্তু ক্লিন শেভ করে থাকা স্ট্যাইল ছিল। তো ওই সময় স্যার চাপ দাঁড়ি রাখতেন। তিনি অনেকদিন পর পর শেভ করতেন। এটা ছিল তার ভাব। তো আমরাও চাইতাম তার মত ভাব ধরতে কিন্তু পারতাম না। পারুম কেমনে? ঐ সময় তো আমাদের দাঁড়িই উঠে নাই! =p~

ইন্টারে পড়ার সময় মোটামুটি ভালই দাঁড়ি উঠল। প্রথম যখন শেভ করলাম ওইদিন অনেক ভাব নিয়া স্যারের বাসায় গেলাম। আমার এক ফ্রেন্ড এমন চিক্কুর পাড়ল, আমি ভয়ে শেষ। "ওই দেখ দেখ ইলুসন শেভ করছে!" হা হা হা কইরা পুরা ক্লাস মাথায় তুলল। সবাই আমারে দেখতে আসল যেন আমি একটা চিড়িয়া। আমার ভাবটাব তখন সব উধাও, আমি কোন মতে শক্ত হইয়া বইসা আছি। :| ইন্টারে উঠছি, কলেজে পড়ি, মনে বাতাস লাগছে সবার, রঙ্গিন লাগে সব কিছু। আমাদের অনেকে তখন রেগুলার শেভ করত, মাইয়া পটাইত। কিন্তু আমরা ছিলাম আলাদা। আমরা তখন চাপ দাঁড়ি রাখি, ভাব নেই! :P সবাই ধইরা নিসে এই পোলাপানগুলা ভাল না, মস্তান। আর আমরা তো সেই পার্টে চলি! মজাটা হয় তখন যখন শেভ করি। কেউ পাত্তা দিতে চায় না, অনেকে বাবু বলে ডাকে। এত বড় হইছি, এখন বাবু ডাক শুনতে কেমনটা লাগে! X((

যাইহোক, একবার আমার ডেঙ্গু জ্বর হল। অনেক জ্বর, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগছিল। ওই সময় আমাদের পাশের ফ্লাটের আন্টি বাসা চেঞ্জ করছেন। ওনার জায়গাতে আরেকটা ফ্যামেলি আসছে। আমি ১৫-১৬দিন হাসপাতালে কাটায় বাসায় আসলাম, তখনও দুর্বল, মুখভর্তি দাঁড়ি নিয়ে বাসায় সারাদিন শুয়ে থাকি। পাশের বাসার নতুন আন্টি মাঝে মাঝে বাসায় আসে আম্মুর সাথে গল্প করতে, আর আমাকে দেখে আহা উহু করে। আর কত শুয়ে বসে থাকা যায়, শরীরটা একটু ভাল হতেই গা ঝাড়া দিয়ে উঠলাম। ভালমত গোসল করে, শেভ করে বাইরে একটু হেটে আসলাম। ঘরে ঢুকে দেখি আন্টি বসে আছে, আম্মুর সাথে গল্প করে। আমাকে দেখে আন্টি আম্মুকে জিগেস করে, এটা কে? আম্মু বলল, এটা আমার ছেলে। আন্টি বলে, ও আচ্ছা আপনার ছোট ছেলে, আগে দেখি নাই। আপনার বড়ো ছেলে কই গেছে, ওকে আজকে দেখলাম না! এই কথা শুনে আমার আম্মুর হাসি আর থামে না, হাসতে হাসতে বলে, ভাবি, আমার এই একটাই ছেলে। ওইদিকে আমি বেকুব কিছিমের একটা হাসি দিয়ে দাঁড়ায় থাকলাম। :#>



মেডিকেলে ভর্তি হবার পরে আমার ভাব আরও বেড়ে গেল! এখন আরো দেরিতে শেভ করি। বান্ধবীদের টিম্পনি, কিরে লেডি কিলার, শেভ করিস না কেন? আর আমি এমন ভাব করি, এগুলা তোদের বুঝার বাইরে, এইসব ভাব তোদের এন্টেনায় ধরবে না। এক স্যার আমাকে বলল, কি দেবু দা! ছেকা টেকা খাইছ নাকি? কিন্তু কোন কিছুই আমাকে ভাব ধরা থেকে বিরত রাখতে পারল না। দেখতে দেখতে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার সময় চলে আসল। শেষ দিকে সবাই খুব ভদ্র হয়ে গেল। আমিও একদিন চুল দাঁড়ি কেটে ভদ্র সেজে বায়োকেমিস্ট্রি আইটেম দিতে গেলাম। আমাদের ব্যাচ টিচার আমার ভাইভার সময় আইটেম কার্ড হাতে নিয়ে বলল, তোমাকে তো কোনদিন দেখি নাই। তুমি এই আইটেমগুলা কার কাছে দিস? এগুলা কি আমার সাইন নাকি? আমি তো পুরা থ! আমি বললাম, জ্বি ম্যাডাম, এগুলা আমি আপনার কাছেই দিসি। ম্যাডাম মানতে রাজি না। না, তোমাকে আমি কোনদিন ক্লাসে দেখি নাই। এগুলা তুমি নিজে সাইন করে আনছ। আমি যতই ম্যাডামকে বুঝাতে চাই, ম্যাডাম শুনতে রাজি না। আমি বুঝলাম এটা আমার দেবদাস ইফেক্ট! চুল, দাঁড়ি কাটছি তাই ম্যাডাম চিনে নাই। তখন আশেপাশের পোলাপান আমার পক্ষে সাক্ষ্যি দিল যে আমি ক্লাসে আসি, আইটেম দেই। আমিও বললাম, ম্যাডাম আমি যদি নিজে সাইন করি তাহলে শেষ আইটেম তো আপনার কাছে আসার দরকার ছিল না, নিজেই সাইন করে নিতাম! অবশেষে ম্যাডাম বুঝল। বেঁচে গেলাম সে যাত্রা। :)

দাঁড়ি নিয়ে এমন অনেক কাহিনী আছে। এখন অবশ্য আগের মত হয় না। বেশি বড় হয়ে গেছি! দাঁড়ি রাখি বা কাটি, চেহারা খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। আর আগের মত ওমন দাঁড়ি রাখতেও পারি না। স্যাররা অনেক ধরে এসব। হয় ক্লিন শেভ থাকবা নাহলে বড় ইসলাম মাফিক দাঁড়ি রাখবা, দেবদাস হওয়া চলবে না!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০৩
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×