ইন্টারে পড়ার সময় মোটামুটি ভালই দাঁড়ি উঠল। প্রথম যখন শেভ করলাম ওইদিন অনেক ভাব নিয়া স্যারের বাসায় গেলাম। আমার এক ফ্রেন্ড এমন চিক্কুর পাড়ল, আমি ভয়ে শেষ। "ওই দেখ দেখ ইলুসন শেভ করছে!" হা হা হা কইরা পুরা ক্লাস মাথায় তুলল। সবাই আমারে দেখতে আসল যেন আমি একটা চিড়িয়া। আমার ভাবটাব তখন সব উধাও, আমি কোন মতে শক্ত হইয়া বইসা আছি।
যাইহোক, একবার আমার ডেঙ্গু জ্বর হল। অনেক জ্বর, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগছিল। ওই সময় আমাদের পাশের ফ্লাটের আন্টি বাসা চেঞ্জ করছেন। ওনার জায়গাতে আরেকটা ফ্যামেলি আসছে। আমি ১৫-১৬দিন হাসপাতালে কাটায় বাসায় আসলাম, তখনও দুর্বল, মুখভর্তি দাঁড়ি নিয়ে বাসায় সারাদিন শুয়ে থাকি। পাশের বাসার নতুন আন্টি মাঝে মাঝে বাসায় আসে আম্মুর সাথে গল্প করতে, আর আমাকে দেখে আহা উহু করে। আর কত শুয়ে বসে থাকা যায়, শরীরটা একটু ভাল হতেই গা ঝাড়া দিয়ে উঠলাম। ভালমত গোসল করে, শেভ করে বাইরে একটু হেটে আসলাম। ঘরে ঢুকে দেখি আন্টি বসে আছে, আম্মুর সাথে গল্প করে। আমাকে দেখে আন্টি আম্মুকে জিগেস করে, এটা কে? আম্মু বলল, এটা আমার ছেলে। আন্টি বলে, ও আচ্ছা আপনার ছোট ছেলে, আগে দেখি নাই। আপনার বড়ো ছেলে কই গেছে, ওকে আজকে দেখলাম না! এই কথা শুনে আমার আম্মুর হাসি আর থামে না, হাসতে হাসতে বলে, ভাবি, আমার এই একটাই ছেলে। ওইদিকে আমি বেকুব কিছিমের একটা হাসি দিয়ে দাঁড়ায় থাকলাম। :#>
![]()
মেডিকেলে ভর্তি হবার পরে আমার ভাব আরও বেড়ে গেল! এখন আরো দেরিতে শেভ করি। বান্ধবীদের টিম্পনি, কিরে লেডি কিলার, শেভ করিস না কেন? আর আমি এমন ভাব করি, এগুলা তোদের বুঝার বাইরে, এইসব ভাব তোদের এন্টেনায় ধরবে না। এক স্যার আমাকে বলল, কি দেবু দা! ছেকা টেকা খাইছ নাকি? কিন্তু কোন কিছুই আমাকে ভাব ধরা থেকে বিরত রাখতে পারল না। দেখতে দেখতে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার সময় চলে আসল। শেষ দিকে সবাই খুব ভদ্র হয়ে গেল। আমিও একদিন চুল দাঁড়ি কেটে ভদ্র সেজে বায়োকেমিস্ট্রি আইটেম দিতে গেলাম। আমাদের ব্যাচ টিচার আমার ভাইভার সময় আইটেম কার্ড হাতে নিয়ে বলল, তোমাকে তো কোনদিন দেখি নাই। তুমি এই আইটেমগুলা কার কাছে দিস? এগুলা কি আমার সাইন নাকি? আমি তো পুরা থ! আমি বললাম, জ্বি ম্যাডাম, এগুলা আমি আপনার কাছেই দিসি। ম্যাডাম মানতে রাজি না। না, তোমাকে আমি কোনদিন ক্লাসে দেখি নাই। এগুলা তুমি নিজে সাইন করে আনছ। আমি যতই ম্যাডামকে বুঝাতে চাই, ম্যাডাম শুনতে রাজি না। আমি বুঝলাম এটা আমার দেবদাস ইফেক্ট! চুল, দাঁড়ি কাটছি তাই ম্যাডাম চিনে নাই। তখন আশেপাশের পোলাপান আমার পক্ষে সাক্ষ্যি দিল যে আমি ক্লাসে আসি, আইটেম দেই। আমিও বললাম, ম্যাডাম আমি যদি নিজে সাইন করি তাহলে শেষ আইটেম তো আপনার কাছে আসার দরকার ছিল না, নিজেই সাইন করে নিতাম! অবশেষে ম্যাডাম বুঝল। বেঁচে গেলাম সে যাত্রা।
দাঁড়ি নিয়ে এমন অনেক কাহিনী আছে। এখন অবশ্য আগের মত হয় না। বেশি বড় হয়ে গেছি! দাঁড়ি রাখি বা কাটি, চেহারা খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। আর আগের মত ওমন দাঁড়ি রাখতেও পারি না। স্যাররা অনেক ধরে এসব। হয় ক্লিন শেভ থাকবা নাহলে বড় ইসলাম মাফিক দাঁড়ি রাখবা, দেবদাস হওয়া চলবে না!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


