গ্রামের মানুষ সহজে চিকিৎসা পান না। রোগ কিছুটা জটিল হলেই বহু ভোগান্তি মাথায় নিয়ে রোগীসহ রোগীর লোকজনকে শহরে ছুটতে হয়। কখনো জেলা শহরে, কখনো ভিন্ন জেলার কোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তারপরও যে তারা চিকিৎসার সব সুবিধা সহজে পেয়ে যান এমন নয়। বহু টকাকড়ি খরচ করতে হয়, বহু ধরাধরি করতে হয় এবং তীর্থের কাকের মতো কখনো ডাক্তার আর কখনো অপারেশনের সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু গ্রামে যদি তারা প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসাটা পান তাহলে তাদের এসব ভোগান্তির পাহাড়টাই ছোট হয়ে যায়। অথচ চিকিৎসা-ব্যবস্থা ও সেবার পর্যায়টা বহু দিন থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, গ্রামাঞ্চলগুলোতে চিকিৎসা সুবিধাই নেই, সেবার পর্যায় তো আরও দূরের। গ্রাম প্রধান এ দেশের এ চিত্রটাকে তো সন'ষ্টিজনক বলা যায় না। গত ২৮ মার্চ ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএর নতুন নির্বাচিত প্যানেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-চিকিৎসকদের গ্রামে যেতে হবে। গ্রামাঞ্চলে অবস্থান ও চিকিৎসার রেকর্ড দেখে ডাক্তারদের পদোন্নতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’ এদেশের চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির বিবেচনা থেকে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে বাস্তবানুগ ও যথার্থ বলা ছাড়া উপায় নেই। মূলত গ্রামগুলোতে ছোট্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকে, উপজেলা পর্যায়ে আরেকটু উন্নত পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রও থাকে। কিন্তু অধিকাংশ সময় সেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাশ করা কোনো ডাক্তারের উপস্থিতি থাকে না। নিয়োগ ও নিবন্ধন থাকলেও গ্রামগুলোতে ডাক্তারদের উপস্থিতির সংকট গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসা-ব্যবস্থাকে চরম ভঙ্গুর করে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এ রকম কোনো ব্যবস্থা বাস্তবে গৃহীত হলে সন্দেহ নেই, গ্রামের মানুষের জন্য চিকিৎসা প্রাপ্তির বিষয়টা অনেক সহজ হবে। তবে এ কথা সত্য যে, গ্রামের দুর্বল চিকিৎসা-ব্যবস্থার সবকিছু কেবল ডাক্তারদের অনুপস্থিতির সঙ্গেই যুক্ত নয়। অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সেবক-সেবিকা, ওষুধ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতেও সেখানে যে অচলাবস্থা বিরাজমান তাতে একক চিকিৎসকের উপস্থিতি গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার চেহারাটাকে উন্নত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তারপরও চিকিৎসার প্রধাম মাধ্যম যে চিকিৎসক তিনি যদি গ্রামে উপস্থিত থাকেন, তার দায়িত্বটুকুই তার মতো করে পালন করেন তাতেও অবস্থার অনেক উন্নতি হতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ডাক্তারদের গ্রামে অবস্থানের বিষয়টিকে উৎসাহিত ও অবধারিত করা গেলে গ্রামের মানুষ বড় রকমভাবে উপকৃত হবেন। পদোন্নতি প্রত্যাশী এমবিবিএস ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারাররা সবাই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী গ্রামে দু’এক বছর কাটালে তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মকৌশলও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা যায়। তবে লক্ষ রাখতে হবে যেন ভিন্ন মতের ডাক্তারদের বেছে বেছে গ্রামে পাঠানো না হয়।
চিকিৎসাঃ গ্রামে ডাক্তারদের উপস্থিতি দরকার
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বিয়োগের রূপকথা

মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন
দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...
তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।
জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন
মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।
গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।