somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধে কেউ হারে না

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেশ কয়েক বছর দেশে যাই না, এবার ভাবছিলাম দেশে গিয়ে ঘুরে আসব! সামারে আমাদের ছুটি থাকে লম্বা তিন মাস, কোন ক্লাস নেই। আমেরিকায় একাডেমিক লাইনে এটা একটা সুবিধা, সামারে তিন মাস ছুটি, আর উইন্টারে ডিসেম্বরে সেমিস্টার শেষ করে প্রায় এক মাসের লম্বা ছুটি, বছরে মোটামুটি চার মাস আয়েস করে কাটিয়ে দেয়া যায়, অন্তত ক্লাস নেওয়ার ঝামেলা থাকে না। তবে রিসার্চ, পাবলিকেশন নিজের তাগিদে করতে হয়! মে মাসের মাঝামাঝি আমাদের সেমিস্টার শেষ হবে, চিন্তা করছিলাম বউকে দেশে পাঠিয়ে দিব, আর আমি ছুটিতে শুয়ে বসে না থেকে একটি ন্যাশনাল ল্যাবে তিন মাসের জন্য জয়েন করব, একটু রিসার্চ করব, সাথে কিছু মাল-পানিও ইনকাম হবে! মালপানি কামাতে ভাল লাগে! ল্যাবের কাজ শেষ হলে দেশে স্বল্প সময়ের জন্য ঘুরে আসব! হিসেব ক্লিয়ার, মামলা ডিসমিস! কিন্তু ভেজাল বাজল সম্প্রতি সময়ের যুদ্ধ, সব হিসেব নিকেশ পাল্টে গেল একটি পলকে, কে আপন, কে যে পর, হল রে! ফ্লাইট সব বন্ধ!

আজকে আমাদের মিডটার্ম শেষ হল, পোলাপানদের খাতা দেখা শেষ করলাম, সামনের সপ্তাহ থেকে এক সপ্তাহের স্প্রিং ব্রেক! তবে এবারের স্প্রিং ব্রেকে কোথাও যাওয়ার জোগাড় নেই, রোজা চলছে, রোজা রেখে কোথাও ঘুরতে যেতে মজা নেই! তবে রোজায় একটি শান্তি, প্রতিদিন সন্ধ্যায় মসজিদে চলে যাই, মসজিদে ইফতার করি, ডিনার সেরে আর মসজিদে আসা বাংলাদেশীদের সাথে ধূমায়া আড্ডা দেই, তারপর একেবারে তারাবি শেষে বাড়ি ফিরি। সময় একেবারে খারাপ যাচ্ছে না, আমার ছেলেও মসজিদে আসতে পছন্দ করে, কারণ মসজিদের দোতলায় আলাদা বাস্কেটবলের বিশাল কোর্ট বানানো হয়েছে, যেখানে নামাজ পড়তে এসে এখানে খেলাধুলা করা যায়, তাছাড়া আমাদের মসজিদে পার্টি করার জন্য নিচের তলায় বিশাল কিচেন, কয়েকশো মানুষ একসাথে খাবার দাবারের ব্যবস্থা আছে।

যাইহোক, ধান বানতে শীবের গীত বয়ে চলছি! বলছিলাম ইরান যুদ্ধের কথা! মাঝে মাঝে ব্লগে ঢুঁ মারি, বেশ কয়েকদিন যাবত বেশ কিছু হেভি-ওয়েট ব্লগার যুদ্ধ মুদ্দক নিয়ে ধূমায়া পোস্ট করছে, পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি! সেদিন এক পোস্টে মন্তব্য পড়তে গিয়ে দেখি এক সেমি-হেভিওয়েট ব্লগার মন্তব্য করছে, পৃথিবীর অর্ধেক যুদ্ধ নাকি লাগে বাংলাদেশীদের জন্য! আমি মনে মনে বলি আস্তাক ফিরুল্লা খাইছে, এ আবার কোন গবেষণা! মন্তব্য পড়ে আমি স্মৃতির পাতায় হাত বুলালাম, কোরিয়াতে তখন পড়াশোনার জন্য হিজরত করেছি, আমাদের স্কলারশিপের একটি শর্ত ছিল, কোরিয়ান ভাষায় হাফেজ হতে হবে, তার পড়াশোনা হবে কোরিয়ানে! এক বছর কোরিয়ান ভাষায় হাফেজ হওয়ার পরই মিলবে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি! আমরা সব দেশ থেকে আগত বিদেশী ছেলেরা একই ক্লাসে কোরিয়ান শিখি, তার মাঝে অনেক দেশ দেখলাম, বাংলাদেশের নামই জানে না, আমার চাইনিজ ক্লাসমেট বাংলাদেশ কোথায় সেটা জানার জন্য তার ইলেক্ট্রনিক ডিকশনারিতে বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিয়েছে, তারপর হঠাৎ "মংজ্বালা .... মংজ্বালা" বলে চিৎকার দিয়ে উঠল, আমি বললাম কি হল কার আবার অন্তর জ্বালা করল! ও বলল অন্তর্জ্বালা না, তোমাদের দেশ বাংলাদেশকে আমরা "মংজ্বালা" নামে চিনি! যাইহোক, এখনো বিদেশে থাকি, অনেক দেশই আমাদের দেশকে সেরকম চিনে না, যেরকম ভারতকে চিনে। আমাদের দেশে বাংলাদেশীরা ব্লগে কি লেখে, পত্র পত্রিকায় কি লেখা হয় অথবা ফেসবুকে যে লম্ফ-ঝম্ফই করুক না কেন, সেটা আমাদের মাঝেই মোটামুটি সীমিত থাকে, সেই এরকম একটি নিরীহ দেশ কিভাবে বিশ্বের অর্ধেক যুদ্ধের জন্য দায়ী সেটা লাখ দিরহামের প্রশ্ন!

যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস করে! লিখতে চাচ্ছি কি, আর লিখলাম কি! মূল পয়েন্টে আসি! পৃথিবীতে এত এত যুদ্ধ, এর নেপথ্যের কারণ কি। ইরানের সরকার তার জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে, পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, আমেরিকা আর ইজরায়েল এটা বরদাস্ত করছে না! ডান্ডা মেরে ঠান্ডা বানিয়ে দিচ্ছে! কিন্তু কেন! এর শানেনজুল কি, কেন ইরাক, সিরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পরাশক্তির এত চিন্তা! ইহার আর কি কারন থাকতে পারে!!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ব্রিটিশ পাউন্ড মোটামুটি ভাবে বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রচলন ছিল যেহেতু প্রায় অর্ধেক পৃথিবী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। বলা হত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধীরে ধীরে দেশগুলো বিশেষ করে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মান থেকে শুরু করে পরাশক্তিগুলো তাদের গোল্ড বা সোনা নিয়ে চিন্তায় ছিল! সেগুলো কোথায় রাখা যায়! ভৌগলিকভাবে আমেরিকা আটলান্টিক সাগরের ওপারে অবস্থিত, এই কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সোনা বা গোল্ড আমেরিকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল তাদের পণ্য, মেশিনারির বিনিময়ে। সেই মোতাবেক সেখানে জড়ো করল, বলা হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই পৃথিবীর প্রায় ৭০-৮০% গোল্ড আমেরিকায় জমা করে। এবং ১৯৪৪ সালে প্রায় ৪৪ দেশ এক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয় যেহেতু পৃথিবীর বেশীর ভাগ গোল্ড আমেরিকায় তাই ডলারকেই গ্লোবাল কারেন্সি হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হয়। সেই সময় প্রতি আউন্স সোনার দাম ধরা হয় ৩৫ ডলার। সেটাই ছিল আমেরিকার জন্য গেম চেঞ্জার!

আমেরিকা বলে তোমাদের সোনা রাখো, যখন সোনা দরকার হবে তখন ডলার দিয়ে নিয়ে যাবে! সবাই বলল ঠিক আছে ওস্তাদ! আমেরিকা গনহারে ডলার ছাপাতে শুরু করল! এক ডলারে হয় ১০০ সেন্ট, একটি ডলার ছাপাতে খরচ হয় ১ সেন্ট, বাকি ৯৯ সেন্টই লাভ। এই ডলার ধূমায়া ইউরোপীয় দেশ, যেমন ফ্রান্স, জার্মান সবাই নিতে শুরু করল তাদের পণ্যের বিনিময়ে। আমেরিকা প্রচুর সম্পদ, মেশিনারি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের খরচ সব কিছুই এই ডলার থেকে আসতে লাগল। এর কারণ পরাশক্তিগুলোর ডলার প্রয়োজন ছিল তাদের সোনা ফিরে পেতে তাই তারা ডলার নামক কাগজের বিনিময়ে তাদের পণ্য, ব্যবসা করতে লাগল আমেরিকার সাথে। সেই সময়ের ডলারের আধিপত্যে অন্য দেশগুলোও ডলারকে ব্যবহার করতে লাগল। ধীরে ধীরে আমেরিকা হয়ে উঠল অপরিহার্য! তাদের মিলিটারি, রিসার্চ, হাউজিং, ইন্ডাস্ট্রিজ ফুলেফেঁপে উঠল, কারণ এক ডলার ছাপাতে খরচ হয় ১ সেন্ট, বাকি ৯৯ সেন্ট দিয়ে বহির্দুনিয়া থেকে সম্পদ আনতে লাগল। ১৯৬০ পর্যন্ত যে পরিমাণ ডলার ছাপানো হয়েছিল, সেটা তাদের কাছে থাকা গোল্ডের প্রায় সমান ছিল। ১৯৭০ এর দিকে এসে এত পরিমাণ ডলার ছাপানো হল যে তা তাদের কাছে গচ্ছিত রাখা সোনার সব দিয়ে দিলেও ডলার শেষ হবে না। এই শুভংকরের ফাঁকি প্রথম দিকে ফ্রান্স বুঝতে পেরে ১৯৭০ এর দিকে বিশাল ডলার ভর্তি শিপ পাঠিয়েছিল, যাতে বিনিময়ে সোনা নিয়ে আসা যায়। আমেরিকা তখন জানিয়ে দিল তারা আর সোনা দিতে পারবে না ডলারের পরিবর্তে!

ঘটনা এখানে থামলে এখন হয়ত আমরা অন্য রকম বিশ্ব দেখতাম! কিন্তু না, কাহিনী এখনও বাকি হে মেরি দোস্ত! ১৯৭৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন সৌদির সাথে পেট্রো ডলার চুক্তি করল, চুক্তি অনুসারে তেলের লেনদেন হবে সব ডলারে। এই চুক্তির বিনিময়ে আমেরিকা তাদের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিল। পেট্রো ডলার চুক্তির ফলে পুরো বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হল, কারণ পৃথিবীর সব দেশেরই তেল লাগবে, তার মানে সবারই ডলার প্রয়োজন। ট্রিলিয়ন ডলারের এই তেলের মার্কেটই ডলারকে একছত্র আধিপত্য দিল, সাথে আমেরিকাকে সুপার পাওয়ার থাকার নিশ্চয়তা! পরাশক্তিগুলো যাদের কাছে ডলারের মজুদ ছিল, তারা সৌদি থেকে তার বিনিময়ে তেল কিনে মালামাল হতে লাগল, ওদিকে সেই ডলার আবার সৌদি আমেরিকায় ইনভেস্ট করতে লাগল, যেমন ট্রেজারি বন্ড, হাউজিং ইত্যাদিতে ইনভেস্ট শুরু করল! জাপানের ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকায় রক্ষিত, কোরিয়ার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, ইউরোপ ইত্যাদি সবাই ডলারের কাছে মাথা নত করল। বিনিময়ে আমেরিকা সৌদিতে তাদের মিলিটারি বেইস দিয়ে রক্ষার নিশ্চয়তা দিল! জাপানের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চুক্তি অনুসারে মিলিটারি রাখতে পারবে না, তাদেরও আমেরিকার মিলিটারির সাহায্য দরকার, দক্ষিণ কোরিয়ার দরকার উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে বাঁচার, ওদিকে আমেরিকা ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপকে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে বাঁচার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, বিনিময়ে ডলারের এই লেনদেন টিকিয়ে রাখতে সবাই একযোগে কাজ করছে!

ডলারের এই আধিপত্য একমাত্র ইরান, রাশিয়া এবং চীন অগ্রাহ্য করেছে। তার মাঝে চীন এবং রাশিয়া আমেরিকার ধোয়া ছোঁয়ার বাইরে, বাকি রইল ইরান। ভৌগলিক ভাবে ইরান এমন জায়গায় অবস্থিত যার পাশে হরমুজ প্রণালী অবস্থিত! ইরান যদি পারমাণবিক ক্ষমতা পেয়ে যায় সেটা ডলারের এই ইকো সিস্টেমের জন্য মারাত্মক হুমকি। পেট্রোডলারকে যে রাষ্ট্র চ্যালেঞ্জ করেছে আমেরিকা হয়ত স্যাংশন দিয়ে, বোমা ফেলে যেভাবেই হোক তাকে থামিয়েছে, এবং সামনেও থামাবে! কারণ ডলার ফেল করলে, সমস্ত আমেরিকা ফেল করবে, সাথে সৌদি, ইউরোপ, কোরিয়া, সারা পৃথিবীর পরাশক্তিগুলোর ওহ অহ শুরু হয়ে যাবে। আর আমাদের মত দরিদ্র দেশগুলো তো মোটামুটি লম্বা সময়ের জন্য না খেয়ে মরবে মরে যাবে! অর্থাৎ অ্যামেরিকার ডলারের যদি আধিপত্য হারায় তাহলে সবাই এক সাথে মরবে! তাই পরাশোক্তিগুলো (সৌদি-সহ) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে ইরানকে আমেরিকার থামাতেই হবে, সাথে ইজরাইলকে এই অঞ্চলে শক্তিশালী হতে হবে, কারণ শক্তিশালী ইজরায়েল আমেরিকার জন্য এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!

বাদবাকী যত ইস্যু আছে, ইরান তার দেশে ইসলামিক হুকুমত জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে, তাদের জনগণকে নিপীড়ন করছে, তাই আমেরিকা আর ইজরায়েল ত্রাতা হিসেবে আসছে এগুলো সব বকওয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের কোন যুদ্ধই ধর্মের জন্য নয়, বরং ডলারের আধিপত্য বাঁচিয়ে রাখাই প্রধান উদ্দেশ্য। আমেরিকা সুপার পাওয়ার হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, এবং কতদিন থাকবে তা নির্ভর করছে, ডলার কতদিন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারে তার উপর। ডলারের আধিপত্য আবার নির্ভর করছে আমেরিকা তার ডিফেন্স সিস্টেম কতদিন ধরে রাখতে পারে, কারণ ইতিমধ্যেই চীন তার ডিফেন্স বাজেট আমেরিকার কাছাকাছি করেছে! তাছাড়া ডলারের এই পুরো ইকোসিস্টেমে একটি ত্রুটি আছে। ডলার যেভাবে সার্কুলেট হচ্ছে, এবং নতুন ডলার যেভাবে মার্কেটে আমেরিকা ছাড়ছে, সেটা সাপ্লাই এবং ডিমান্ড চেইন মেইনটেইন করছে না, যার ফলে আমেরিকার ঋণ বেড়েই চলছে (এটাই একমাত্র কারন না)! সোনা আর ডলার যেমন ফেল করেছিল এটাও ফেল করার কথা লজিক অনুসারে।

যাইহোক এখানে বলে রাখি আমেরিকার ডলার ছাপানোর ক্ষমতা আমেরিকার সরকারের হাতে নেই, এটা নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক, যার মালিক আবার ইহুদিরা, বিশেষ করে রথচাইল্ড ফ্যামিলি! ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশীদের বোমা মেরেছে, এটা আমেরিকার ইজ্জতের সওয়াল, কারণ পেট্রোডলারের চুক্তি অনুসারে সৌদি আরব-সহ দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেয়া তার জন্য ফরজ! সে চাইবে না এখানে তার প্রয়োজন নেই এমন কোন অবস্থা তৈরি হোক! অন্যদিকে ইরান বরাবরই ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে, তার আশেপাশের প্রক্সি-সংগঠন যেমন হিজবুল্লা, হামাস ইত্যাদি দিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। তবে আমেরিকা ইরানের প্রক্সি গুলোকে গত কয়েক বছর দুর্বল করতে পেরেছে। চীন এবং রাশিয়া এসে সমর্থন দিলেও কিন্তু এরা কখনই আমেরিকার সাথে সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। চীন দীর্ঘ সময় কোন বড় যুদ্ধে যায়নি, তাই তার অর্থনীতিও অনেক শক্তিশালী, সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যুদ্ধ এড়াতে। আমেরিকার ৯০ এর আগেও ইচ্ছে ছিল, সে একাই নাম্বার ওয়ান পাওয়ার থাকবে, ডলারের আধিপত্য ধরে রাখার এটাই একমাত্র উপায়, সেইদিক দিয়ে দেখলে চীন তাদের কাছে এক অস্বস্তির নাম। যাইহোক, দেখা যাক আগামীর পৃথিবী কোথায় যায়!

যুদ্ধে কেউ হারে না, যদি কেউ হারে সেটা মানবতা! পৃথিবীর এই ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। বিশ্বে প্রতি বছরই কোন না কোন দেশে যুদ্ধ লাগছে, আমার সত্যিই কষ্ট হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের কথা ভেবে। ছোট শিশু হয়ত রাতে ভয়ে কুঁকড়ে থাকে, বোমার শব্দে তাদের শৈশব ফিকে হয়ে যায়, এই পৃথিবীটি বোঝার আগেই দেখতে হয় ভয়, ক্ষুধা, হিংস্রতা, বিদ্বেষ! আমি ক্ষুদ্র মানুষ, পৃথিবীর কোন দেশে শান্তি বর্ষিত হচ্ছে, আমি আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নিয়ে কাজ নেই, আমি চিন্তায় আছি বাংলাদেশে ছুটিতে যেতে পারব কি-না, সব ফ্লাইট বন্ধ!

প্রিয় ব্লগারদের কাছে দোয়ার আর্জি রইল! জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৪১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অমর একুশে বই মেলা: প্রযুক্তির যুগে ছাপার বই: প্রয়োজন, না কি স্মৃতির অবশেষ: নাকি সমন্বয়ের ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫০


মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



জল পড়ে পাতা নড়ে- বলেছেন কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশব বেলায়,
বালক মতিত্বে তাঁর কাব্যের ভেলায়
প্রাথমিক আরোহন কি চমৎকার!
যে হয় সে হয় মূর্ত সাফল্যের ছবি
শুরু থেকে। তার যাত্রা জীবন মেলায়
রাজকিয় হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সরকার মেয়াদ পূর্ন করতে পারবে কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৩



এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।
বিএনপির অতীত ইতিহাস মোটেও ভালো না। এরা যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শুধু দূর্নীতি করেছে। দেশের উন্নয়ন হয়নি। গত ১৭ বছর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে কোনঠাসা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Narrative warfare এর যুগে আপনাকে স্বাগতম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩২


২০২৫ সালের মে মাসে যখন ভারত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল, তখন দিল্লির একটি প্রেস কনফারেন্স রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুজন নারী সামরিক কর্মকর্তা। একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। ক্যামেরার সামনে তারা কাঁধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধে কেউ হারে না

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩০


বেশ কয়েক বছর দেশে যাই না, এবার ভাবছিলাম দেশে গিয়ে ঘুরে আসব! সামারে আমাদের ছুটি থাকে লম্বা তিন মাস, কোন ক্লাস নেই। আমেরিকায় একাডেমিক লাইনে এটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×