somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিটিসেলের সিডএমএ (অতি সংক্ষেপে)

২৬ শে জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপল একসেস)

আমাদের সিটিসেল 2য় প্রজন্মের সিডিএমএ ওয়ান ব্যবহার করছে । মার্কিন মিলিটারী এর প্রথম আবিষ্কারক । এর মূল কপিরাইট ও ব্যাবসা মার্কিন কোয়ালকম কোম্পানির । এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ফ্রিকুয়েন্সি নিয়ে এর কোন মাথা ব্যাথা নাই । একটি টাওয়ারের (বি টি এস ) অধীনে একই ফ্রিকুয়েন্সিতে সকল গ্রাহক কথা বলতে পারে । একি তাহলে একজনের কথা অপরজন শুনে ফেলেনা?? সমপ্রতি ইসরায়েল লেবাননের রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে আরবিতে খবর শুনাচ্ছে হতভাগা লেবাননিদের । প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য ফ্রিকুয়েন্সি ভাগ করে দেয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা। গ্রামীন আর একটেলের মত জিএসএম অপারেটরা এ কাজটাই করে একটু অন্যভাবে, ফ্রিকুয়েন্সি হপিং ও টাইম স্লট জেনারেট করে । টাইম স্লট আর ফ্রিকুয়েন্সি চ্যানেল শেষ হয়ে গেলে নেটওয়াক বিজির কবলে পড়ে গ্রাহকরা। পরে বলবো এ ব্যাপারে। কিন্তু সিডিএমএ তে এভাগটা করা লাগেনা। একটা নদী কল্পনা করি যাতে ভিন্ন ভিন্ন রঙের ও আকৃতি নৌকা চলছে। একই পানির বা ফ্রিকুয়েন্সির উপর শত শত নৌকা গেলেও আকৃতি ও রঙের পার্থক্য হেতু আপনারটা ঠিকই চিনতে পারবেন তীরে ভিড়লে । এই আকৃতি বা রঙটাই গ্রাহকের পরিচয়বাহী কোড, এভাবেই কোড ডিভিশন করে মাল্টিপল গ্রাহককে একই চ্যানেলে একসেস দেয়া হয়।



এনালগ কথাকে ডিজিটাল করে বেশ কয়েকটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে বিভিন্ন হাই ডাটা রেটের চিপস দিয়ে মাসকিং বা মুড়িয়ে দেয়া হয়। টাওয়ার থেকে গ্রাহকের কাছে কথা আসার সময় (ফরওয়ার্ড চ্যানেল বলে) তিন ধরনের কোড দিয়ে মূল ডিজিটাল ভয়েজ ডাটাকে গুণ করা হয়। 42 বিটের লং কোড, 15 বিটের শর্ট কোড, 64 বিটের ওয়ালস কোড দিয়ে পর্যায়ক্রমে গুণ করে মূল ডাটাকে এক প্রকার গোপন করে ফেলা হয়।

42 বিটের লং কোড ( যেটা প্রাপকের ইএস এন বা সেটের ইলেক্ট্রনিক সিরিয়াল নাম্বার ধারণ করে) , 15 বিটের শর্ট কোড ( যা প্রেরক টাওয়ারের পরিচিতি কোড বহন করে ), 64 বিটের ওয়ালস কোড ( তথ্য বহনকারী চ্যানেলের পরিচয় বহন করে )। এসব কিছুর শেষে ডাটার গতি দাড়ায় 1.2288 মেগা চিপস পার সেকেন্ড। কিন্তু এন্টেনা দিয়ে ট্রান্সফারের জন্য ট্রান্সমিশন ব্যান্ডে সিগনালকে নিয়ে গিয়ে মডু্যলেশন করা লাগবেই । ডিজিটাল মডু্যলেশন হিসেবে এখানে কিউ পি এস কে (কোয়াড্রেচার ফেইজ শিফট কিইং ) করা হয় ফরওয়ার্ড চ্যানেলে পাঠানোর জন্য। এজন্য মূল ডাটার জোড় ও বিজোড় অবস্থানের বিটগুলোকে আলাদা করে একটাকে সাইন সিগনাল ও অপরটাকে কোসাইন সিগনাল ( যার ফ্রিকুয়েন্সি হলো কেরিয়ার বা বহনকারী ফ্রিকুয়েন্সি) দিয়ে গুণ করে যোগ করা হয় । অবশেষে এন্টেনা দিয়ে পাঠানো হয়।

রিভার্স চ্যানেলে ( সেট থেকে টাওয়ারে) শুধু ওয়ালস কোড ব্যবহার করা হয়না। আর মডু্যলেশন স্কিম হিসেবে ও (অথের্াগোনাল) কিউ পিএস কে ব্যাবহার করা হয়। সংক্ষেপে সবকিছু সহজ মনে হলেও এর রিসিভার আর ট্রান্সমিটার জিএসএম এর তুলনায় ভয়াবহ ধরনের জটিল। টাওয়ারের অধীনে কোন কল আসলে তা সব সিডিএম এ সেটের মধ্যে ঢুকে পড়ে। যদি তথ্যের সাথে পাঠানো ইএসএন খাপ খায় তবেই সেটা সক্রিয় হয়ে ওঠে, অন্যথায় নয়। জি এস এম এর সিম কার্ড শুধূ টিকেট হিসেবে কাজ করে যাতে টিকেট নম্বর ছাড়া তেমন কিছুই থাকেনা। যার টিকেট আছে এবং যার কল আসে তাকেই প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। সিডিএমএ তে সিম দিয়ে কল রিকোয়েস্ট আটকে দেয়া হয়না, বরং তা ভিতরে ঢুকে চেক করে দেখে এটা তার গন্তব্যস্থল কিনা । উৎপাদকদের গোড়ামির কারণেই সিডিএমএ সেট গুলো সিম বেইসড করা যায়নি। জিএসএম এর রোমিং এর সুবিধা একে জনপ্রিয় করেছে, কারণটা হলো জিএসএম অপারেটর দের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি , সে তুলনায় সিডিএমএর অপারেটর কম। এমন দেশে যাবেন যাদের সিডিএমএ ওপারেটরই নাই। সেেেত্র রোমিং এর জন্য জিএসএম বেছে নিতে হবে বাধ্যতামূলকভাবেই। প্রযুক্তিতে অসম্ভব বলে কিছু নাই। কোয়ালকম আর সিডিএম এ ইন্সট্রুমেন্ট উৎপাদকরা চাইলেই হবে। মার্কিনরা তাদের বাজার সম্পর্কে সচেতন, তাই সারা পৃথিবী 50 হার্জে চললের নিজেরা চলে ও সব উৎপাদন করে 60 হার্জের মেশিন। নিজেরাই বানায়, অন্যদের থেকে এক পয়সা আমদানি করেনা বা করার সুযোগ দেয়না । সিডিএমএ নিয়ে গোড়ামি তাদের কারণেই।

একই নদী বা ফ্রিকোয়েন্সিতে সবাই ভাসে বা কথা বলে তাই অসংখ্য মাঝি আর কপোত কপোতিকে ভাসানো বা ফার্ট করতে দেয়া সম্ভব ? সীমাবদ্ধতা আছে কতগুলো জায়গায় -সেটা না হয় আরেকদিন লিখলাম।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং ।

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০২

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং
(বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে স্হানীয় পর্যবেক্ষণ)




আমরা সবাই অনেক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে আগত নির্বাচন নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছি,
প্রতিটি মর্হুতে বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নিজেরা নিজেরা নির্বাচন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

বাংলাদেশের জামাতের সমর্থন কতটুকু?
এযাবৎ পাকিস্তান আমল থেকে ৭৫ বছরের ইতিহাসেএ দেশে বর্তমানে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোন নির্বাচনে জামাত ৪ - ৫% এর বেশি ভোট পায়নি।
২০০৮ এর ফটো আইডি ভিত্তিক ভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×