somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন ভাবে বেচে থাকা-2

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ডিপ্রেসন ও পেসিমিজম মিলে এমন এক অনুভূতিশূণ্য কমপ্লেঙ্ তৈরি করে যখন আশে পাশের ফুল বা কোন সৌন্দর্যই চোখে ধরা পড়েনা। )

আমি বাবা মার কাছে কখনও কিছু চাইনি। কারো কাছে কিছু চেয়ে 'না' শুনার অপমানবোধ আমি সহ্য করতে পারিনা। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশলের ছাত্র হিসেবে কম্পিউটার জিনিসটা আমার কতটা দরকার সেটা মেডিসিনের প্রফেসর বাবাকে বুঝানো দুষ্কর। বাবার অফিসে কম্প্যাক 486 মেশিন আর বাসায় এইচ পির ব্রাইও পি-3 পিসি , শুধু তার টাইপিং এর জন্যই।

সৌভাগ্য ক্রমে বাপ একটা মনিটর এঙ্ট্রা কিনলেন নষ্ট, মনিটর ওয়ারান্টি রিপ্লেসমেন্ট এ দিলেন। রিপ্লেস পাওয়ার পর আমাকে বলা হলো, একটা সিপিউ কিনে নে, মনিটর তো আছে।

এখানেই আর দশটা ছেলের থেকে আমার পার্থক্য। বাপের টাকা আমি সারা জীবনই অন্যের টাকা মনে করি এবং তা অপচয় বা উড়ানোর চিন্তাও করতে পারিনা।

পেন্টিয়াম-4 এর রমরমা ব্যাবসার যুগে পি-3 কিনলাম মাত্র 22,000 টাকায়। বাপের টাকা বাচানো, নিন্দুকেরা বলবেন, বাপের কাছে ভালো ছেলে সাজার চেষ্টা।

দেড় বছর কোন সমস্যা ছাড়াই চালালাম। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর পড়ুয়া আমার ছোট ভাই আমার ঠিক 180 ডিগ্রি বিপরীত। বাবার কাছে পিসির আবদার করলো। আমার ুপর হুকুম হলো তোর পিসিটা তাকে দিয়ে দে। বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলোম বাবার কনঠ শুনে।

তারা জানেন, আমি পিতা মাতার কখনও অবাধ্য হয়নি বা হবোনা, এও জানেন বা জানা উচিৎ ছিল তাদের কাছে আমি সে জিনিস কখনই আর চাইবোনা যা তারা একদিন আমার বলে দিয়ে অধিকার বলে নিয়ে গেলেন।

আমি জানি বাবার কত টাকা আছে। কোন ব্যাপার ছিলনা তার জন্য। আমি বিনা বাক্য ব্যয়ে কাজ সারলাম। সালটা2004।

তারপর একবছর কেটে গেছে। বন্ধুদের সবার পিসি ও মোবাইল দুটোই আছে । আমার কোনটাই নাই। অভিমানের এক অদ্ভুত ভালো লাগা অনুভূতি নিয়ে থেকেছি।

স্কুলের বাচ্চা ছেলেরা 50-60 হাজার টাকা দিয়ে পিসি কিনে গেম, গান, মুভি দেখার জন্য।

আমি আগেও বলেছি, আমার বাবা মাও জানেন (যারা একদা সঙ্গীত চর্চা করতেন) তাদের বড় ছেলে গান শুনেনা, তার পিসিতে সফটওয়্যার আর ডকুমেন্ট ছাড়া কোন অডিও ভিডিও ফাইল থাকেনা। কারণ আমি পুরোদস্তুর কাজের মানুষ।

আমার ছোট ভাই দুবার র্যাম , একবার করে এ জিপি, হার্ড ড্রাইভ নষ্ট করেছে, আমার স্কলারশিপের টাকা দিয়েছি নতুন কিনার জন্য। বাপের টাকার দিকে না তাকিয়ে শিখছি নিজের স্কলার শিপের উপর বাচতে।

খুবই সাহস করে মা কে একটা ল্যাপটপের কথা বলে ছিলাম। বাবা সেবার বিদেশের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিকতা করার জন্য দেশ ছাড়ছেন। আমাকে বললেন, তুই আমার এইচপি মেশিনটা হলে নিয়ে যা, ল্যাপটপ কিনার দরকার নাই।

বাবা চলে গেলে আমি তাই করলাম। 64মেবা র্যাম, 550 মেহা প্রসেসর, 8মেবা এজিপি??? তার উপর এঙ্পি আর ম্যাথল্যাব সফটওয়্যার রান করাতে খুব অসুবিধে হচ্ছিল। 100 বাসের এসডি র্যাম অনেক খুজে নিয়ে লাগালাম। নয় গিগা হার্ড ড্রাইভের 5 গিগাই খালি থাকতো মালিটমিডিয়া ফাইলের অভাবে। কোন ফালতু কাজে পিসি এবিউজ করিনা।

18 মাস পর বাবা ফিরে এসছেন। তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি তার পিসি। থিসিস, ইন্টারনেট, প্রজেক্ট, ইন্টারফেসিং, এই প্রিয় ব্লগের জন্য অন্যের পিসি খালি হওয়ার অপোয় থাকি। নিজেকে নীচ ,ছোট ভেবে আনন্দ পাই।

আমার সেল ফোন সেট মটোরোলা সি-115, 14 মাস আগে 2500 টাকায় কেনা। দামি সেটের কোন নেশাও আমার নাই। 25,000 টাকার সেটও পেলে আমি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিবো, যেটা আপনি পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।

আমি জানি, মেবাইল কমিউনিকেশনের উপর আমার যে দখল, অনেক বড় কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারদেরও তা নাই। সহপাঠীদের তো নাই। আমার তৃপ্তিটা জ্ঞানের, জানার, কোন অর্থ বা ফ্যাশানের নয়।

কারণ আমি প্রফেসর ম্যাকের ছাত্র ও শিষ্য। যারা শুধু দিতেই জানে। কিছু নেয়ার জন্য তারা জন্মায়নি।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×