সেক্যুলার 'মুসলিম'রা হয়তো ইসলাম ধর্মটাকে পর্যাপ্ত এবং যথার্থভাবে ভালোবাসেন বলেই ইসলামের ভাবমূর্তি রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন। সেটার জন্য কৌশল হলো--যেকল ধর্মীয় কথামালা যুগের রুচিবোধ ও ধ্যানধারণার সাথে যায়--সেগুলো বেছে বেছে প্রচার করা । পাশাপাশি বিতর্কিত বিষয়াদিগুলো ধামাচাপা দেয়া।
কারণ সত্য এই যে কোরআনে এমন কিছু কথা আছে যেটা প্রচার করলে সেক্যুলার 'মুসলিম'রা লজ্জায় কুঁকড়ে যাবেন । কারণ তাদের লক্ষ্য সেক্যুলার হিসেবে নিজের সার্বজনীন ভাবমূর্তি গড়ে তোলা আবার নিজের মুসলিম পরিচয়ও বজায় রাখা।
সে অর্থে সেক্যুলারদের জবাবদিহিতার পরিসর শুধু নিধার্মিক এবং মুসলিম নন এমন জনগোষ্ঠীর মাঝে সীমাবদ্ধ। সে অর্থের সেক্যুলাররা তাদের সম্মান ও ইজ্জতদাতা হিসেবে নিধার্মিক এবং মুসলিম নন --এমন জনগোষ্ঠীকেই বেছে নিয়েছেন। ধরুন, আমেরিকাতে গেলে সেক্যুলার মুসলিমরা ধরেই নেন-- ইহুদি-নাসারারা তাদের দয়া করছেন, খেতে দিচ্ছেন । সেজন্য 'ইহুদি-নাসারাদের ভাত খাও' জাতীয় কটাক্ষ তারাই শোনাতে পারেন--- যারা রিজিকের মালিক হিসেবে তাদের আমেরিকান চাকুরিদাতাকে সম্মান করেন ।
"আমেরিকা-ইজরায়েল মারতেই পারে --তারা মুসলিম নন --তাই মারতেই পারে।"---- কেন মারতে পারে সে জবাবদিহিতার আগে বলা হয়--ইসলামের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাইলে তাদের পাল্টা মেরোনা--অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করো।
তসলিমাকে না ফেরালে ইসলামের ক্ষতি হবে--মুসলিমদের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে । কিন্তু কাদের কাছে? কাদের কাছে এই জবাবদিহিতা? যারা সারা বছর মুসলিমদের সাপের বাচ্চা বা পুছলিম বলে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়েছে---তাদের কাছে? তসলিমাকে ফিরিয়ে আনলে পুছলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এতটুকু থেমে যাবে?
নির্বাসিত জুলিয়ান আসাঞ্জ বা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়ে তো আর ভাবমূর্তির বালাই নাই । তাহলে নাকে খত দিয়ে ভাবমূর্তি রক্ষার প্রায়শ্চিত্যটা শুধু পুছলিমদেরই কেন করতে হবে?
সেক্যুলার মুসলিমরা বেশ ঘটা করে বলে-- সিরিয়ার যুদ্ধটা 'মুসলিমদের' সাথে 'মুসলিমের' । অথচ যুদ্ধটা হচ্ছে সেক্যুলার একনায়ক আসাদের সাথে তাদের ঘৃণিত গণতন্ত্রকামী পুছলিম সন্ত্রাসীদের সাথে। সেক্যুলাররা পুছলিমপন্থা ঘৃণা করেন বলেই মিশরের সেক্যুলার সি সি গাজার সন্ত্রাসীদেরই দোষ দেখতে পাচ্ছেন। মিশরের সেক্যুলার সি সির বন্ধু সৌদিও ধর্মের আড়ালে সেক্যুলার বন্ধু হয়ে আমেরিকা-ইজরায়েলের কাছে তাদের দেশ, ধর্ম, ও আরব জাতীয়তাবাদের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে ব্যস্ত আছেন।
সেক্যুলার মুসলিমরা ইরাকে ইউনুস নবীর মাজার ধ্বংসের ব্যাপারে বেশ উদ্বিগ্ন । তাদের এই উদ্বিগ্নতাকে জাগ্রত করেছে ইজরায়েল--ইহুদিদের নবী জোনাহ (ইউনুসের) মাজার ধ্বংসের ব্যাপারের মিডিয়াই 'মানবধর্ম'কে সঞ্চালিত করেছে।
সেক্যুলাররা ইরাকের আগ্রাসন, গণহত্যা, গৃহযুদ্ধ নিয়ে যতনা চিন্তিত তার চাইতে বহুগুণ উদ্বিগ্ন সন্ত্রাসীদের হাতের তাদের প্রিয় ধর্ম ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া নিয়ে। এই একই চিন্তা সেক্যুলার সৌদি, আসাদ, মিশরেরে সিসির । তাই ইসরায়েলের লাভ হলে তাদের আপত্তি নেই, তারা যে কোন কিছুর বিনিময়ে হামাসের পতন চায়।
এই সেক্যুলাররা চয়া পশ্চিমারা গরু মেরে তাদের দালালদের হাত ধরে হলেও গণতন্ত্রের মালা পরিয়ে দিক । তেমনি ভারতের সাহায্য সমর্থন পেলে আওয়ামীলীগের জন্য আসলে কিছুই দরকার হয়না ---সারা পৃথিবী আপত্তি তুললেও আওয়ামীলীগ তার মতই চলবে--ইজরায়েল তার মতই চলবে। ইজরায়েলও এখানে সেক্যুলার (সেজন্যই হয়তো বলে Judaism and Zionism এক না)--ঠিক সৌদির মত ধর্মটাকে উপরে রেখে দুনিয়ার স্বার্থ সিদ্ধি করে।
আসল পুছলিমরা আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে জবাবদিহি করেনা, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনা, আল্লাহ ছাড়া কাউকে রিজিকদাতা বলে মানেনা, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সম্মান বা ভাবমূর্তি হারানোর পরোয়া করেনা।
প্রাসঙ্গিক ভিডিও
"মুসলিমরা যে ধৈর্য্য আর আত্মসংবরণশীলতা দেখিয়েছে সেটা দেখে আমি বিস্মিত---আমি বিস্মিত যে ৯/১১ এর মত ঘটনা আরো ঘটেনি ।"
পুরো সাক্ষাৎকারটি এখানে।
_________________
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৮:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



