বিদেশে গেলে চকলেট আনার ব্যাপারটা সেকেলে হয়ে গেছে। সব বয়সের মানুষ চকলেট পছন্দ নাও করতে পারে। বাংলাদেশ যেহেতু গার্মেন্টস ও পোশাক শিল্পে বিশ্ব সেরা---তাই বিদেশ থেকে কাপড় আনার যুক্তি কম থাকে। আনলে দেখা যাবে সেটি মেড ইন বাংলাদেশ। তবে কিছু আনলে যে কেউ খুশি হবে, সেখানে পণ্যের ব্যবহার যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা খুব মুখ্য বিষয় না।
মূলত সেসব বিষয় খেয়াল করি, যেগুলো বাংলাদেশে খুব সহজলভ্য নয়। অনেকে ঝামেলা মনে করে এসব বহন করে নিয়ে যেতে চাননা। মূলত বাবা-মাদের জন্য কি কি আনা যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা করি।
১. মধু । বাংলাদেশে খাটি মধু পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব, অবাস্তব ব্যাপার। বিদেশে সুলভ মূল্যেই সেটা পাওয়া যায়। বয়স্ক মানুষেরা মধু পছন্দ করেন । ক্ষতিকর চিনির যথার্থ বিকল্প মধু । তবে মধুমেহ রোগীদের এটি বর্জনীয়।
কাঁচের বোতল ঝুকিপূর্ণ হতে পারে বিধায় শক্ত প্লাস্টিকের একাধিক বোতল ফোম বা Bubble wrap দিয়ে ভালভাবে মুড়িয়ে কার্গো লাগেজে (হ্যান্ড ব্যাগে নয়) আনতে পারেন। বাবা পছন্দ করেন বিধায় আমি চেষ্টা করি মধু পাঠাতে বা নিয়ে যেতে।
২. টুনা মাছের ক্যান। আমি জানি এটা বাংলাদেশের বড় লোক পাড়ায় পাওয়া যায়। পুষ্টিহীন ছোটলোক পাড়ায় এটা দুর্লভ। ছেলের পাঠানো টুনা মাছ দিয়ে ঈদে মা টুনার চপ বানিয়েছিলেন। স্বাদ, পুষ্টিগুণের কথা মাথায় রেখেই বাবা-মা আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেন।
৩. ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট। বাংলাদেশে পাওয়া যায়---এ আবার নতুন কি? বাংলাদেশে যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো কৃত্রিম উৎস থেকে তৈরি এবং খুব একটা কার্যকরি না। প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদিত ভিটামিন ই (চোখের সমস্যা যাদের আছে), ভিটামিন ডি+ক্যালসিয়াম (বয়স্ক মহিলাদের হাড়ের সমস্যা ও ব্যাথা), ভিটামিন সি, ওমেগা থ্রি, ফিস ওয়েল এমন কি ভিটামিন বি (থায়ামিন) অনেক রোগ ও উপসর্গের প্রকোপ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। চেষ্টা করে দেখুন, ফল পাবেন ইনশাল্লাহ।
৪. পি নাট বাটার। আবারও বলি, এটা বাংলার বড়লোক পাড়ায় পাওয়া যায়। অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল--তবুও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
৫. গ্রিন টি, হার্বাল টি। জানি বড়লোক পাড়ায় পাওয়া যায়। বিদেশ থেকে নামি দামি ব্রান্ডের চা বাবা-মার জন্য নিয়ে গেলে দোষ নাই। বাবা টি ব্যাগ পছন্দ করেনা বলে, অনেক খুঁজে গুড়ো (গ্রাউন্ড) গ্রিন টি নিয়ে গিয়েছিলাম।
৬. গ্রাউন্ড কফি। এই জিনিস বিদেশে প্রথমের পান করার অভিজ্ঞতা তিক্ত-মধুর থাকে । পরে সবাই নেশা গ্রস্থ হয়ে যায়। ইন্সট্যান্ট কফির ভুল স্বাদের বিপরীতে আসল কফি বীজের গুড়ো ছেকে কফির স্বাদ ক্যামন--সেটা পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। অনেকেই পছন্দ করবে।
৭. জুস । খুবই ঝামেলা এটা বহন করা। বাংলাদেশে যেহেতু ভাল জুস দুর্লভ--মিনা বাজার যেহেতু আমার ছোটলোক পাড়ায় নেই--মাঝে মাঝে চেষ্টা করি এপেল, অরেঞ্জ, পাইনাপেল কিছু কনসেন্ট্রেট নিয়ে যেতে। এক জার লেমোনেইডের গুড়ো পাঠিয়ে দেখি সেটা দিয়ে বাবা-মা সরবত বানিয়ে ইফতার করছেন। ভুল হয়না, রোজার আগ দিয়ে এক জার পাঠিয়ে দেই। আবারও বলি, দেশে ট্যাং তো আছে---ঝামেলা মনে করলেই ঝামেলা।
৮. ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র, হাতের ছড়ি, ব্যাক পেইন প্যাড, ডিজিটাল থার্মো মিটার, ব্লাড সুগার মিটার--চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে যা যতদূর লাগে বা নেয়া যায়
৯. সাবান, শ্যাম্পু, বডি ওয়াস বিদেশে শুধু সস্তাই না, ভেজাল মুক্ত। লাগেজ ভারি হয়, তারপরেও Bubble wrap করে নিয়ে আসার চেষ্টা করি।
১০. হাবিজাবি খাবার। সুপারস্টোরে ঘুরে দেখবেন কোনটা বাবা-মা পছন্দ করতে পারে। মধুর প্রলেপযুক্ত বাদামের বোতল, মজার বা হোল গ্রেনের পুষ্টিকর সিরিয়াল, চেরি বা ডালিমের দানার কিসমিস--কত জিনিস আছে!
১১. বাবা যদি লেখালিখি করেন ডিজিটাল পেন দিয়ে চমকে দিতে পারেন। ল্যাপটপ, ক্যামেরা এমন কত শত প্রযুক্তি আছে যেগুলো তাদের কথা ভেবে নিলে শুধু খুশিই হবেনা, কাজেও লাগবে।
কারো কোন পরামর্শ বা আইডিয়া থাকলে মন্তব্যে শেয়ার করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



