somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেট্রোল বোমাটা উল্টিয়ে দেখুন না

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরুন ২০০৫ এ আইন করে 'কেয়ারটেকার' ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হলো। খালেদা জিয়া বলে বসলো আমার অধীনেই হাসিনাকে নির্বাচন করতে হবে।

হাসিনা কী নির্বাচনে যেত?


ধরুন ২০০৬ এই নির্বাচন হয়ে গেল, খালেদা বীর দর্পে আবার প্রধানমন্ত্রী । ১৫৪ টা আসনে জামাত-বি এন পি বিনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত। ভাবুন । আরো দুটো রাজাকারকে মন্ত্রী বানানো হয়েছে। তারেক যথারীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

আওয়ামীলীগ কী শান্তিপূর্ণ, অহিংস আন্দোলন করতো?

অথবা দুর্নীতির দায়ে আওয়ামীলীগের চার জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ফাঁসি দেয়া হলো।

আওয়ামীলীগ কী মৌন মিছিল বা অনশন করতো?

হাসিনাকে ধানমন্ডি ৩২ শে পুলিশ-ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হলে জনগণ তাকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়তো?

কিন্তু এই জনগণ কারা? যুবলীগ? কোন বেনামী সন্ত্রাসী? নাকি সাধারণ মানুষ? ঠিক কী নিয়মে তারা ঝাপিয়ে পড়তো? পুলিশের উপর চোরাগোপ্তা হামলা হলে সেটি নায্যতা পেত?

ইংরেজিতে শব্দগুলো হলো ডেমোনাইজ করা আর টেরোরাইজ করা। আপনি ফাঁসি, গুম, খুন, সমাবেশ নিষিদ্ধ, আটক, মামলা, বিদেশে নির্বাসন করে একটা শান্তিপূর্ণ দলকে খুব সহজেই সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দিতে পারেন। এতে দুটো লাভ--আপনার প্রতিপক্ষকে নির্যাতন করতে পারবেন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এবং তাদের সন্ত্রাসী প্রতিপন্ন করতে পারবেন।

প্লিজ, স্বেচ্ছা সেবক লীগকে সাধারণ মানুষ ভেবে বলবেন না যে জনগণ হাসিনার মুক্তি ও সমাবেশ করার অধিকার আদায়ের জন্য ঝাপিয়ে পড়তো।

সেই ঝাপিয়ে পড়াটাকে সন্ত্রাসবাদ থেকে কত দূরে রাখতে পারতেন?

জনগণ একটা নিরপেক্ষ শক্তি, যারা অন্ধ নয় বলেই প্রতি নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।


নিজামী-মুজাহিদকে যখন মন্ত্রী করা হলো তখন প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় কোন লোক পাওয়া যায়নি। কারণ প্রতিবাদ করার মত মানসিকতার লোক গুলো ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল ছিল । তারা ব্লগে-বাদাড়ে কী বোর্ড চেপেই রাজাকার নিধন করে বেড়াতো। অথবা আমজনতা রাজাকারের মন্ত্রী হবার সংবাদে মনে মনে বিরক্ত-ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ নিজ কাজ-সংসারেই ব্যস্ত ছিল ।

অথবা বলতে পারেন---

বাংলার মানুষ নেহায়েৎ শান্তি প্রিয় বলে কে ক্ষমতায় তা নিয়ে তারা মাথা ঘামায়না। এখন এমন একটা অবস্থা যে

নিজামী-জিয়া-এরশাদ-হাসিনা-তারেক-খালেদা যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন জনগণ তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।


জনগণ শান্তির পক্ষে, শান্তি কমিটির পক্ষে, তারা নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পেলে আর কিছু লাগেনা। ভুলেও বলতে আসবেন না যে তখন রাজাকার মন্ত্রী খেদানোর জন্য বাংলার মানুষ রাস্তায় নেমে আসতো। এগুলো পরিস্থিতি সাপেক্ষে ঘটে ।

পুলিশের লাঠি-স্প্রে থাকলে শাহবাগ এক দিনও টিকতোনা, সরকারের লাভ না হলে শাহবাগকে এক দাড়াতে দেয়া হতোনা--যেমন আজকে দাড়াতে দেয়া হয়না । তাই শাহবাগকে তিন মাস ধরে দাড় করানোর পুরো কৃতিত্ব সরকারের । অসতর্ক বা আবেগী হয়ে আমরা বলে ফেলি সেটা ছিল গণজাগরণ ।

মোসাদ্দেক হোসেন ফালু গলা উচিয়ে বললেন ২০১৯ সালের নির্বাচনেও ২০০ টা আসনে জামাত-বি এন পি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতবে।


প্লিজ বলবেনা, এটা স্বৈরাচার, প্লিজ বলবেন না জনগণ প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে আসতো। বি এন পির কাছে ২৪ ঘন্টা জনসম্পৃক্ততার দাবি করার মানে এই না যে আওয়ামীলীগ জনসম্পৃক্ততায় উত্তীর্ণ। জন রায়ে হারবে জেনেই ভদ্র-শান্তিপূর্ণভাবে আইন করে ক্ষমতা দখল করতে হয়।

জনগণের অস্ত্র ব্যালট, যতদিন ব্যালটের অধিকার না দিবেন, ততদিন বাংলার জনগণ নিজের খেয়ে কোন সরকারের যাত্রা ভঙ্গ করতে যাবেনা। তারা শান্তির পক্ষেই থাকবে--পেট্রোল বোমার পক্ষে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:২০
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×