ধরুন ২০০৫ এ আইন করে 'কেয়ারটেকার' ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হলো। খালেদা জিয়া বলে বসলো আমার অধীনেই হাসিনাকে নির্বাচন করতে হবে।
হাসিনা কী নির্বাচনে যেত?
ধরুন ২০০৬ এই নির্বাচন হয়ে গেল, খালেদা বীর দর্পে আবার প্রধানমন্ত্রী । ১৫৪ টা আসনে জামাত-বি এন পি বিনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত। ভাবুন । আরো দুটো রাজাকারকে মন্ত্রী বানানো হয়েছে। তারেক যথারীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
আওয়ামীলীগ কী শান্তিপূর্ণ, অহিংস আন্দোলন করতো?
অথবা দুর্নীতির দায়ে আওয়ামীলীগের চার জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ফাঁসি দেয়া হলো।
আওয়ামীলীগ কী মৌন মিছিল বা অনশন করতো?
হাসিনাকে ধানমন্ডি ৩২ শে পুলিশ-ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হলে জনগণ তাকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়তো?
কিন্তু এই জনগণ কারা? যুবলীগ? কোন বেনামী সন্ত্রাসী? নাকি সাধারণ মানুষ? ঠিক কী নিয়মে তারা ঝাপিয়ে পড়তো? পুলিশের উপর চোরাগোপ্তা হামলা হলে সেটি নায্যতা পেত?
ইংরেজিতে শব্দগুলো হলো ডেমোনাইজ করা আর টেরোরাইজ করা। আপনি ফাঁসি, গুম, খুন, সমাবেশ নিষিদ্ধ, আটক, মামলা, বিদেশে নির্বাসন করে একটা শান্তিপূর্ণ দলকে খুব সহজেই সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দিতে পারেন। এতে দুটো লাভ--আপনার প্রতিপক্ষকে নির্যাতন করতে পারবেন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এবং তাদের সন্ত্রাসী প্রতিপন্ন করতে পারবেন।
প্লিজ, স্বেচ্ছা সেবক লীগকে সাধারণ মানুষ ভেবে বলবেন না যে জনগণ হাসিনার মুক্তি ও সমাবেশ করার অধিকার আদায়ের জন্য ঝাপিয়ে পড়তো।
সেই ঝাপিয়ে পড়াটাকে সন্ত্রাসবাদ থেকে কত দূরে রাখতে পারতেন?
জনগণ একটা নিরপেক্ষ শক্তি, যারা অন্ধ নয় বলেই প্রতি নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।
নিজামী-মুজাহিদকে যখন মন্ত্রী করা হলো তখন প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় কোন লোক পাওয়া যায়নি। কারণ প্রতিবাদ করার মত মানসিকতার লোক গুলো ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল ছিল । তারা ব্লগে-বাদাড়ে কী বোর্ড চেপেই রাজাকার নিধন করে বেড়াতো। অথবা আমজনতা রাজাকারের মন্ত্রী হবার সংবাদে মনে মনে বিরক্ত-ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ নিজ কাজ-সংসারেই ব্যস্ত ছিল ।
অথবা বলতে পারেন---
বাংলার মানুষ নেহায়েৎ শান্তি প্রিয় বলে কে ক্ষমতায় তা নিয়ে তারা মাথা ঘামায়না। এখন এমন একটা অবস্থা যে
নিজামী-জিয়া-এরশাদ-হাসিনা-তারেক-খালেদা যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন জনগণ তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।
জনগণ শান্তির পক্ষে, শান্তি কমিটির পক্ষে, তারা নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পেলে আর কিছু লাগেনা। ভুলেও বলতে আসবেন না যে তখন রাজাকার মন্ত্রী খেদানোর জন্য বাংলার মানুষ রাস্তায় নেমে আসতো। এগুলো পরিস্থিতি সাপেক্ষে ঘটে ।
পুলিশের লাঠি-স্প্রে থাকলে শাহবাগ এক দিনও টিকতোনা, সরকারের লাভ না হলে শাহবাগকে এক দাড়াতে দেয়া হতোনা--যেমন আজকে দাড়াতে দেয়া হয়না । তাই শাহবাগকে তিন মাস ধরে দাড় করানোর পুরো কৃতিত্ব সরকারের । অসতর্ক বা আবেগী হয়ে আমরা বলে ফেলি সেটা ছিল গণজাগরণ ।
মোসাদ্দেক হোসেন ফালু গলা উচিয়ে বললেন ২০১৯ সালের নির্বাচনেও ২০০ টা আসনে জামাত-বি এন পি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতবে।
প্লিজ বলবেনা, এটা স্বৈরাচার, প্লিজ বলবেন না জনগণ প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে আসতো। বি এন পির কাছে ২৪ ঘন্টা জনসম্পৃক্ততার দাবি করার মানে এই না যে আওয়ামীলীগ জনসম্পৃক্ততায় উত্তীর্ণ। জন রায়ে হারবে জেনেই ভদ্র-শান্তিপূর্ণভাবে আইন করে ক্ষমতা দখল করতে হয়।
জনগণের অস্ত্র ব্যালট, যতদিন ব্যালটের অধিকার না দিবেন, ততদিন বাংলার জনগণ নিজের খেয়ে কোন সরকারের যাত্রা ভঙ্গ করতে যাবেনা। তারা শান্তির পক্ষেই থাকবে--পেট্রোল বোমার পক্ষে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





