somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিলাতে বাঙালির বস্ত্র ব্যবসা

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিংশ শতাব্দীতে, দণি এশিয়া থেকে প্রচুর শ্রমিক পূর্ব লন্ডনে আসে। এই এলাকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি অনেক আগে থেকেই বসতি স্থাপনের ঐতিহ্য গড়ে, তবে সত্যিকারভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী এই এলাকায় আসতে শুরু করে।
প্রথম দিকের বসতি স্থাপনকারীরা ছিল পুরুষ, এবং তারা পরিজন ছাড়াই এখানে আগমন করে। তাদের অধিকাংশেরই উপলব্ধি ছিল এখানে তাদের অবস্থান হবে স্বল্প মেয়াদী এবং কিছু টাকা রোজগার করা। দীর্ঘদিন বৃটেনে বসবাস করার কল্পচিত্র রচনায় তারা সময় ব্যয় করেনি। আবদুল মজিদ কোরেশী স্মরণ করেন: "যখন আমি প্রথমে এখানে এসেছিলাম, আমি কখনো ভাবিনি আমি জীবনের অধিকাংশ সময় এখানে কাটিয়ে দেব, এবং এখানে আমার সন্তান লালিত পালিত হবে। সে সময় কেহই এরূপ ভাবতো না।"
অধিকন্তু, বসতি স্থাপনের মাত্রা 1970এর দশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে, যখন দীর্ঘ বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে তাদের পরিবার তাদের সাথে মিলিত হবার সুযোগ পায়। দেশে বসবাসকারী অনেক পরিবার তাদের সাথে মিলিত হতে থাকল, এর একটি কারণ ছিল 1971 সালের স্বাধীনতা সংগ্রামকালে অনেকেই জীবনের অনিরাপত্তা বোধ করছিল। লন্ডনের পূর্বপ্রান্তে প্রথম বসতিরা হোয়াইট চ্যাপেল ও স্পাটাদফিল্ড এলাকায় বসবাস করছিল। এদের বড় একটা অংশ বস্ত্রশিল্পে নিয়োজিত হয়, তখন এই এলাকা বস্ত্রশিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। হাজী সিরাজুল ইসলাম 1937 সালের ডিসেম্বর মাসে আল্ডগেট আসেন, সাথে সাথেই একটি দর্জি-কারখানায় কাজ পান। তিনি বলেন: "আমার বন্ধু আমাকে নিয়ে যায় এবং আমি দর্জি দোকানে কাজ করতে থাকি... দোকানের এক যুগালী হিসাবে। আমি এক দোকান থেকে কাপড় অন্য দোকানে নিয়ে যেতাম; তেমনি বুতাম ও অন্যান্য জিনিষ। ইহা ছিল এক ইহুদীর দোকান, কোন বাঙালির নয়।"
ব্যাপক সংখ্যক বাংলাদেশীদের প েবস্ত্রশিল্পে ঢোকা সম্ভব হয়েছিল কেননা তাদের অনেকেই দেশে থাকতেই দর্জি হিসাবে দতা অর্জন করেছিল। তাছাড়া, সত্যি বলতে কী সে সময় তাদের জন্য অন্য চাকুরী সুলভ ছিল না, এই েেত্র সাদা চামড়াদের সাথে তাদের বৈষম্য ছিল।
ক্রমশঃ যখন বাংলাদেশী কমিউনিটি এই এলাকায় শেকড় গেড়ে বসলো, তারা সমগ্র বস্ত্র বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়লো। এই শিল্পে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বৃহৎ সুপ্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলোর জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, 1950 হতে এরা ব্যাপকভাবে উৎপাদন করতে থাকে। এছাড়া, চাকুরিদাতার তি না করে, অনেক বাংলাদেশী, রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় অভিযোজিত হলো এবং উৎপন্ন সাম্রগী বড় বাজার চাহিদা তৈরী করলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চামড়ার পোশাকাদি।
দীদার ফ্যাশন হেনেএজ স্ট্রীট এ অবস্থিত, ব্রিকলেনের কাছে। এর কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে একজন কাটার, পাঁচ জন নির্মাতা এবং 2 জন ফিনিশার_ গত আট বছরেরও বেশী সময় ধরে চামড়ার জ্যাকেট তৈরী করে আসছে। এগুলো তারা বেথনাল গ্রীন পাইকারি বিক্রেতা সদর ফ্যাশনের কাছে বিক্রি করে।
সামপ্রতিক বছরগুলোতে, জোর করে অনেক চামড়ার কারখানা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ কম শ্রমমর্ূল্যের দেশের বাজার হতে কম দামে এসব বস্ত্রাদি আমদানি করা যায়। ইউনিক ফ্যাশন ইউ কে লিঃ এর ম্যানেজার ষোল বছর ধরে ব্যবসা করছেন, চোখের সামনে দেখছেন চামড়া বাণিজ্যের বিলীনতা। তিনি বলেন: "আমি যখন শুরু করেছিলাম (এই বাণিজ্য) তখন ব্রিকলেনের প্রতি ষ্ট্রীটে 15-20টি করে কারখানা ছিল। এখন সম্ভবত সমগ্র ব্রিকলেনে এতো সংখ্যক আছে... আমরা আমাদের জ্যাকেট পাইকারি বিক্রি করি 90 ডলার করে, এবং তারা (বিদেশী প্রস্ততকারকরা) একই রকম পোশাক তৈরী করে, পাইকারি মূল্য মাত্র 45 ডলার।"
চামড়া শিল্পে ভবিষৎ অনিশ্চিত দেখে অনেক দ কর্মী এই বাণিজ্য ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেক প্রস্তুতকারী তাদের ব্যবসা বদল করে বস্ত্র আমদানীকারক ও পাইকারি বিক্রেতা হচ্ছে। বস্ত্র ব্যবসায় বাংলাদেশীরা আবার তাদের পূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবং এই ব্যবসা তারা ব্যাপক সফলতা পাচ্ছে।


ফকরুল চৌধুরী
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×