somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ন্যায্য বাণিজ্য ও ডবি্লউটিও

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসন্ন হংকং বিশ্ব বাণিজ্য মন্ত্রী সম্মেলনকে ঘিরে বিরাজ করছে একধরনের মাৎসন্যায় বা হেজেমনিক পরিস্থিতি। বিশ্ব এখন বিভিন্ন জোটে ভূক্ত হয়ে নিজেদের অভিন্ন দাবীসহ লড়াই করছে। এক জোট আরেক জোটের ওপর জয়ী হতে চেষ্টা করছে। জোটগুলোটে রয়েছে বৈচিত্র্য। আছে গরীবে গরীবে জোট; ধনী ও গরীবে মিলে জোট; ধনী, গরীব, মাঝারি গরীব মিলে জোট; ধনী ধনী মিলে জোট। এই জোটগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি-20, জি-10, জি-33, কেয়ার্নস গ্রুপ, জি-90। আর রয়েছে আমেরিকা, কোন জোটে নেই, অথচ সবচে শক্তিশালী প; যেন আমেরিকাকে মোকাবেলা করার জন্য এই সব জোট তৎপরতা। এই সম্মেলন দুনিয়াজুড়ে আরেরিকায়ন পোক্ত করবে। আমেরিকা ও উন্নত দেশগুলো একচেটিয়া বাণিজ্য সুবিধাদি উপভোগ করবে। সদস্য দেশের সংখ্যা অনেক হলেও অধিকাংশই নিস্ত্রিয় ভূমিকাই থাকবে। স্বল্পোন্নত দেশের জোট জি-90 এখানে আমলে থাকবে না। বিশ্বব্যাপি বাণিজ্য লেনদেনে এদের পরিমান 1%ও নয়। এই ঘনঘটায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে নিয়তিবাদী হয়ে থাকতে হচ্ছে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। চীন, ভারত, ব্রাজিলের উপস্থিতি থাকায় জি-20 এই সম্মেলনে শক্ত অবস্থানে থাকবে। এরা চায় উন্নত দেশগুলো কৃষি ভর্তুকি কমাক, এতে করে উন্নত বিশ্বের বাজার পেতে তাদের সুবিধা হবে। দশটি উন্নত ও অতি উন্নয়নশীল দেশের জোট জি-10, এরা জি-20এর বিপরীত অবস্থানে আছে, অভ্যন্তরীণ কৃষিতে অতি ভতর্ুকি বজায় রাখতে চায়। জাপান, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইসরাইল, নরওয়ে এই জোটের মধ্যে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৃষিতে সংরনবাদী নীতি বজায় রেখেছে। তারা জি-20এর কৃষিভর্তুকি কমানোর প্রস্তাবকে উদার বাজারের সাাথে সামঞ্জস্য মনে করলেও, নিজেরা এখন বাস্তবায়নে আগ্রহী নয় বরং তারা পরিসেবা খাত নিয়ে আগ্রহী। কেননা তারা এেেত্র অবকাঠামো ও দ জনশক্তি দিকে দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। উদার সেবাবাণিজ্যের মাধ্যমে এরা কৃষি ও শিল্পখাতের ভতর্ুকি জনিত তি পুষিয়ে নিতে চায়। এছাড়া অন্যান্য জোটগুলোও নিজেদের সুবিধার ত্রেগুলোতে উচ্চকিত হবে। কিন্তু সবাই সুবিধা আদায় করতে পারবে বলে মনে হয়না। তবে সবাই এই সম্মেলনে যে ব্যাপারগুলো নিয়ে মাতবেন, বিভিন্ন দরদস্তুর হতে যা প্রতীয়মান হয়, তাহলো: কৃষি, অকৃষিজাত পণ্যের বাজার প্রবেশ, পরিসেবা। আর সব শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের েেত্র অল্প কয়েকটি দেশের ঐকমত্যই যথেষ্ঠ হবে। তারা ন্যায্য বাণিজ্যের পথরেখা তৈরী করবেন। তবে তাদের ন্যায্য বাণিজ্য আমাদের জন্য কতটুকু ন্যায্যতা নাজিল করে তা-ই এখন দেখার ব্যাপার।
"ন্যায্য বাণিজ্য" ক্রমশ সুপরিচিত একটি শব্দমালা, কিন্তু এর অর্থ নির্নয়ে রয়েছে দ্বৈততা। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা'র দরকষাকষিতে উন্নত ও গরীব দেশগুলো নিজেদের মতো শব্দমালাটির অর্থ করে থাকে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতিও ছিল ন্যায্য বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরী। দোহা বাণিজ্য মন্ত্রী সম্মেলনের ঘোষণাও গরীব দেশগুলোর জন্য অনেক আশার বাণী, প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হল অগ্রগতি গরীবদের অনুকুলে আসেনি। অবস্থা এরকম দাঁড়িয়ে আছে, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো এই সম্মেলনে অপাক্তেয়। তাদের দাবী উপস্থাপনের প্রস্তুতি যেমন অপ্রতুল তেমনি সুযোগ সীমিত। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? নিয়তিবাদী হওয়া! তবুও ন্যায্য বাণিজ্য বলতে আমরা এমন একটা পরিস্থিতি আশা করব, বাণিজ্য ব্যবস্থা যেখানে মানুষ ও পরিবেশের সর্বোত্তম সুবিধাদি পাওয়ার অবস্থায় অভিযোজিত, অত্যধিক উদারীকরণ নয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডবি্লউটিও এবং শক্তিশালী সদস্যবৃন্দ যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা, কানাডা, জাপানের প্রধান ফোকাশ বিন্দু হল একমাত্র উদারীকরণ। নিজেরা নিয়ন্ত্রনমুলক বেষ্টনিতে থেকে নিজস্ব উন্নতির নিরাপদ চূড়া তৈরী করে এখন খোলা বাজার চাচ্ছে। এর ফলে গরীব দেশগুলোর দূর্বল শিল্প ভিত্তি, ত্রেবিশেষে বিকাশমান শিল্পস্ফূরণগুলো ধ্বসে পড়ছে কিংবা পড়বে। এরই মাঝে বাজার শক্তির নামে, ডবি্লউটিও নিয়মনীতি সর্বতোভাবে প্রয়োগ করে বিলীন করতে চায় বাণিজ্যের েেত্র তথাকথিত "বিকৃতি" কিংবা "সীমিতকরণ"। অথচ এইসব করেই উন্নত দেশগুলো আজকের অবস্থায় পৌছেছে। এবং আজকের এই উদারীকরনের প্রবক্তারা এখনও নিজেদের পণ্য উন্নয়নের সংরনবাদের আশ্রয় নিচ্ছে। অত্যধিক ভর্তুকি ও ডাম্পিং চর্চা করছে, অন্যদিকে গরীব দেশের পণ্য আমদানির ত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাঁধা তৈরী করছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বাংলাদেশী পণ্য আমদানির েেত্রা আমেরিকা বাংলাদেশের কাছে 15.87% আমদানী শুল্ক আদায় করেছে। আর বাংলাদেশ কৃষি, শিল্পে ভর্তুকি দিলেই হয়ে যায় বাণিজ্য বিকৃতি। এসবের ভিত্তি বিবেচনায় মানদণ্ড হয় ধনী দেশের মনোভাব। কথার মারপঁ্যাচে নানা ফতোয়া জারি হয় গরীব দেশের ওপর। গরীব দেশে মানবাধিকার থাকতে পারে_ যতণ পর্যন্ত সে বাণিজ্য বিকৃতি না করে, শ্রমিক অধিকার থাকতে পারে_ শর্ত থাকে সে বাণিজ্য বিকৃতি করবে না, পরিবেশ সংরণ_ যদি ইহা বাণিজ্য বিকৃত না করে, উন্নয়ন চমৎকার_ যদি ইহা বাণিজ্য বিকৃতি না করে। কথিত এই বাণিজ্য বিকৃত উন্নত দেশগুলো তাদের লাভালাভের প্রেতি তৈরী করে গরীব দেশের উপর চাপিয়ে দেয়। এ রকম সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অগ্রাধিকারের ফলে কতিপয় ন্যায়ভ্রষ্ট নিয়মনীতি সামনে চলে আসে। যা গরীব দেশের গরীবী আরও বাড়িয়ে দেয়। গরীব দেশের ল ল গরীব চাষীর জীবিকা রার প্রচেষ্টা বাণিজ্য-বাধা হিসাবে আক্রমণ করা হয়। গরীব দেশগুলোতে জেনেরিক ঔষধের সস্তা বিনিময়কে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা এতে পেটেন্টধারী ঔষধ কোম্পানির বিশাল বাজার সীমিত হয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলো শিল্পদ্যেগে প্রাথমিক পর্যায়ে যে নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, গরীব দেশগুলোকে বাণিজ্য-বাধার নামে তা থেকে নিরস্ত করা হচ্ছে। আগামি 13 ডিসেম্বর হতে অনুষ্ঠিত হংকং বাণিজ্য মন্ত্রীদের গোলটেবিল বৈঠকের কথামালায় এগুলো ঠেসে ধরা হবে, আরও বাড়তে দিলে তা শুধু গরীব পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে গরীব দেশের প েকথা কওয়া মন্ত্রীরা কতটুকু উচ্চকিত হতে পারবে জানা নেই, কিন্তু সম্মেলন করে বাইরে থাকবে, তৃতীয় বিশ্ব জুড়ে থাকবে, হাজার হাজার মানুষের সংঘবদ্ধ কাফেলা, তারা গরীব মানুষের উন্নয়নের দাবী করবে।
ধনী দেশের উন্নয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এর যে চারিত্র্যলণ পরিদৃষ্ট হয় তা হলো শিল্পনীতির ফলাফল হিসাবে অর্থনীতিক অগ্রসরতা, অন্যভাবে বলা যায় সরকারি নীতি ছিল আভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রতিযোগিতামূলক ও সফল করতে সহায়তা করা। একই নিয়ম সত্য অতিসামপ্রতিক উন্নতি করা দেশগুলো যেমন তাইওয়ান ও দণি কোরিয়ার েেত্র। কিন্তু সমস্যা হল: যেসব দেশ ধনী হয়েছে, তাদের কোম্পানিগুলো পৃথিবীময় দাপটে রয়েছে তাদের মস্তিষ্কের স্মৃতি বিলোপ ঘটেছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তথাকথিত "সংরনবাদ" খুব বাজে জিনিষ এবং অবশ্যই অপসৃত করা দরকার। তারা মুক্তবাজার নিয়ে তৈরী করে ফেলেছে প্রায় ধর্মীয় এক বিশ্বাস, এবং তাদের ভাষায় "অবাধ বাণিজ্য" নিয়ে সশব্দে সরব। কথিত এই অবাধ বাণিজ্য আদতে উন্নত দেশগুলোর কোম্পানিগুলোর স্বার্থ সংরণ করবে এবং উন্নত দেশগুলো যে নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নতি করেছে তা গরীব দেশগুলোর নিকট নিসিদ্ধ করে রাখবে। এখন উন্নত দেশগুলোর গরীব দেশগুলোর প্রতি মন্ত্রণা হচ্ছে উন্নতির জন্য উদারী হও, যা এক ধরনের স্ববিরোধী আচরণ। ব্যাপারটা যেন এরকম: নিজে শীর্ষে ওঠে অপরে যেন ওঠতে না পারে সে জন্য মইটি দূরে সরিয়ে রাখা। নিরাপদ উচ্চতায় থেকে গরীব দেশগুলোকে বার বার তাগাদা দিচ্ছে, উন্নতির জন্য বাজার আরও উদার কর, কিন্তু সত্যি হল যে আজকের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থায় থাকাকালে ধনী দেশগুলো কিন্তু এর বিপরীত কাজটিই করেছে। স্ববিরোধীতা এত নাটুকে এবং ভয়াবহ নাও হতে পারত যদি উন্নত দেশগুলো গরীব দেশগুলোর প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিত। তাদের উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত করতে সহযোগিতা দিত। বরং ঘটছে উল্টো। গরীব দেশগুলো সাঁড়াশি আক্রমনের শিকার হচ্ছে। ডবি্লউটিও'র তর্ক-বিতর্ক অবশেষে এমন পথে মোড় নিচ্ছে যেখানে স্বল্পোন্নত দেশগুলো ধর্তব্যের মধ্যে থাকছে না। এর মধ্যে থেকেও যে টুকু সুযোগ পাওয়ার পরিসর ছিল বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর শর্তের কারণে সম্ভব হচ্ছেনা। এদের শর্তের কারণে বাজার খুলে দিতে হচ্ছে আর দেশীয় কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য অকৃষিজাত পণ্যে সরকারি সহযোগিতা ক্রমশ নিম্নমুখী করতে হচ্ছে। ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত! ডবি্লউটিও এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগি্নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ যেন একই সূতোয় বাঁধা। অদৃশ্য চালিকা শক্তি একই। এরা একই গোষ্ঠীর স্বার্থ রা ও বাজার দখলের সিঁড়ি। বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য শ্লোগান তোলে, গরীব দেশগুলোর জন্য সুভাষণ দেয়, কিন্তু পরিশেষে তেমন কিছু ঘটে না। তারপরও যতটুকু পায় ঐ অর্থলগি্ন সংগঠনগুলো তাতে বাধা দেয়। ডবি্লউটিও'র নিয়মে আমরা যেখানে 10% পর্যন্ত কৃষিতে ভর্তুকি দিতে পারি, বিশ্ব্যবাংকয়ের চাপে সেখানে আমরা 1%ও দিতে পারছি না।
বহুধা সংকটে আকণ্ঠিত বাংলাদশ হংকং বাণিজ্য সম্মেলন থেকে কী প্রত্যাশা করতে পারে। উদার বাজার আমাদের জন্য কতটুক তাৎপর্য বহন করে । উন্নত দেশগুলো যদি বলে, তোমাদের তৈরী হেলিকপ্টারের জন্য আমাদের বাজার খুলে দিলাম, তাতে আমাদের ফায়দা কী? আমরা তো আর হেলিকপ্টার তৈরী করতে পারি না। কিন্তু তারা সুই-সূতো থেকে হেলিকপ্টার সবই আমাদের বাজারে প্রবেশ করাতে পারবে। অন্যদিকে আবার এরকম শর্তাবলী তৈরী করবে যার ফাঁক গলিয়ে হেলিকপ্টার তৈরী করা যাবে না। এরকম দ্বিবিধ গ্যারাকলে পড়ে আমাদের অবস্থা সঙ্গীন। বাংলাদেশ যেমন নিজের কৃষি ও শিল্পভিত্তি সুদূর করতে পারছে না, ফলে রপ্তানিখাত ছোট হয়ে আসেছ। বাংলাদেশ পরিণত হতে যাচ্ছে বৃহৎ বাজারে। ফলে বিশ্বসংস্থায় দেশের উৎপাদন খাতকে নিরাপদ রাখার জন্য কৃষি ও শিল্পে ভর্তুকি দেয়ার অনুমতি চাইতে হবে। সবার জন্য এক নিয়ম_ এই যুক্তি স্বল্পোন্নত দেশ বিবেচনায় বাংলাদেশ শিথিলতা আশা করতে পারে। বিশেষ সুবিধার বিবেচনা দাবি করতে পারে। তবে এই বিশেষ সুবিধা যেন বিভিন্ন অশুল্ক প্রতিবন্ধকতার জন্য ভেস্তে না যায়। ইতিমধ্যে পোশাক শিল্পে যা হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপে জিএসপি'র আওতায় বেহুদা অনেক বাঁধা তেরী করা হয়। ফলে কথিত এই বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশ পুরাপুরি ভোগ করতে পারে নি। তবে ডবি্লউটিও থেকে পরিসেবা সমঝোতার 'মোড ফোর' বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সোচ্চার হতে পারে। এখানে মানব সম্পদের কর্ম ও যাতায়াতের কথা বলা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো এই খাত নিয়ে আগ্রহী। কিন্তু আলোচনার টেবিলে এটার তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেবা বাণিজ্য নিয়ে সরব তারাও মোড ফোর নিয়ে নিশ্চুপ। এমন কি উন্নয়নশীল বেশীর ভাগ দেশই একে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই বাংলাদেশ সহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে তৎপর হতে হবে। বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হবে। অদ ও স্বল্পদ শ্রমিকদের শ্রম বাজারে প্রবেশ করতে দিতে হবে। যদিও এ ব্যাপারে ভারতে একটা প্রস্তাব রয়েছে, তাতে করে শুধু দ শ্রমিকরাই বাজার পাবে, অদরা পাবে না। বাংলাদেশ এই নিয়ে দেনদরবার করলেও উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর আনুকূল্য পায় নি। তাই বাংলাদেশ মোড ফোরকে নিয়ে দরদস্তুর করতে হবে, পাশাপাশি অদ জনসম্পদকে দ করার অবস্থায় পেঁৗছুতে হবে। মেধাস্বত্ব আইন স্বল্পোন্নত দেশের জন্য এক ধরনের অসহায়ত্ব তৈরী করবে, বিশেষ করে বাংলাদেশে বিকাশমান ঔষধ শিল্পে ঋণাত্বক প্রভাব রাখবে। ফলে বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বার্থে নয়া প্রস্তাব উপস্থাপনের পাশাপাশি বিশেষ আলাদা ব্যবস্থার জন্য দরদস্তুর করতে হবে। তবে বাস্তবতা হল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দাবিদাওয়া উন্নত দেশগুলো গ্রাহ্য করে না, নিজস্ব সম্পদের অপ্রতুলতার জন্য প্রভাবও রাখতে পারছে না, এই অবস্থায় দেশগুলোর অবস্থা হয় নিম্নবর্গীয়। পাশ্চাত্য ধারণায় নিম্নবর্গীয়রা কথা বলতে পারে না, তাদের সুবিধাদি উন্নতদের তৈরী করতে হয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আলোচনায় এর সমর্থন মিলছে। এই মুহূর্তে তাই বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নতদের প্রকাশ হবে এই ধারণার অসাড়তা প্রমান করে ন্যায্য বাণিজ্যের পথরেখা তৈরী।


দৈনিক যুগান্তর, (উপসম্পাদকীয়) 13.12.05

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×