প্রতি রাতে 300মিলিয়ন শিশু ক্ষুধা অনুভব নিয়ে ঘুমাতে যায়। প্রতি 3.6 সেকেণ্ডে পৃথিবীতে কেউ একজন মারা যায় না খেতে পেরে। এবং এই ুক্ষুধা অপুষ্টিতে ভোগে 5বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই 6 মিলিয়ন শিশু মারা যায়। মানব জাতির জন্য ইহা খুবই অবমাননাকর এবং বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার হিংস্রতার বর্বর প্রকাশ। ক্ষুধা অবিরত অসংখ্য মানুষ খুন করছে। যখন ইহা খুন করে না, তখন রোগ সৃষ্টির কারণ হয়। ফলে শিশু, নারী ও পুরুষ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে না, যে, ুধা ল-কোটি নারী, পুরুষ ও শিশুর জীবনে এখনও এক বাস্তবতা। পৃথিবীতে ল কোটি মানুষের বেকারত্ব এবং আয়, শিা, স্বাস্থ্য ও যথোপযুক্ত জীবনের অপর্যাপ্ততার সমার্থক হল ুধা। ইহা খাদ্য নিরাপত্তা অভাব-ঘটা সমস্যাও বটে। বর্তমান পৃথিবীর আসল যুদ্ধ হল ুধা ও দারিদ্র নামক নির্মম দুই অভিধার বিরুদ্ধে। ইহা এখন এক আনর্্তজাতিক এজেন্ডা। এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব, কেননা আমরা অনেকেই এই যুদ্ধের সাথে নিয়োজিত। মনে রাখতে হবে ুধা একটি রাজনৈতিক সমস্যা, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান আর উপাত্তে একে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের আনর্্তঃজাতিক সংহতি গড়ে তুলতে হবে। ক্ষু ধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মনোবল নিয়ে প্রতিরোধে নামতে হবে। ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হল জীবন প্রকল্প। লকোটি ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা আসতে পারে না। ুধা অর্থনৈতিক সমস্যা নয় কিংবা খাদ্য উৎপাদন সমস্যা নয়। ইহা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। আমাদের ুধাকে রাজনৈতিক ইসু্যতে পরিণত করতে হবে এবং বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর সামনে তুলে ধরতে হবে। অধিকাংশ দেশে কৃষি চাবি খাত হিসাবে চিহ্নিত। কৃষি শুধু খাদ্যের সংস্থান করে না, ইহা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ায়। তা সত্ত্বেও, 1960 সাল হতে বিশ্বে কৃষি সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানায় এই ধারা অন্ততঃপ ে2010 সাল পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। তখন কি ঘটবে, জনসংখ্যা তখন হবে আরও অধিক। কৃষক পরিবার তাদের জমি নিয়ে, উৎপাদনের উৎস নিয়ে বঞ্চনার শিকার। আশাহীন হয়ে কৃষি উৎপাদন পরিত্যাগ করছে। জাতীয় উৎপাদন কিংবা কৃষি উপকরন বাণিজ্যে উৎসাহ যোগানো হচ্ছে না। অন্যদিকে বহুজাতিক খাদ্য কোম্পানির মতা চর্চা, উন্নত দেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য ভর্তুকি, জমির অসাধু বন্টন, অ-উপযোগি বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং উন্নয়নশীল দেশের ওপর পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আদায় বজায় রয়েছে। উত্তরের দেশগুলোর সংরণবাদ ও কৃষি ভর্তুকির জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো বছরে 24বিলিয়ন মার্কিন ডলার তি হয়। একই সংরণনীতি, অন্যান্য বিশ্ব বাণিজ্য এলাকায় প্রয়োগ করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে তির পরিমান দাঁড়ায় 100বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইহাই হল পুঁজিবাদি, সাম্রাজবাদি ও হেজেমোনিক অর্থনীতি ব্যবস্থা। ফাও-এর প্রাক্তন সভাপতি জুসো ক্যাস্টো(1951-55) বলেন, "অনুন্নত অর্থনীতির একমাত্র প্রকাশ হল ুধা, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও খুবই মনস্তাত্তি্বক প্রকাশ। এই প্রকাশ দারিদ্রতার মধ্যে সাধারণীকরণ হয়ে যাবে যা ইহা নির্দেশ করে। জনগনের কর্তৃপরে উচিত তাৎনিক উন্নয়ন, এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা দ্বারা ইহা পরিচালনা করা, প্রথমে যা দরকার তা হল জনগনের জন্য খাদ্য মুক্তি। জনগনের কর্তৃপরে উচিত যেন আমাদের অর্থনীতির ল্য হয় সামাজিক কল্যাণ।" নয়া-উদার বিশ্বায়ন ও গোলকায়ন উপনিবেশবাদের ছত্রছায়ায় অর্থনৈতিক অনুন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইহা পরিমান করে খাদ্য সমস্যা সমাধানে আমাদের অসমর্থতা। শুধুমাত্র এই প্রকট যুক্তি খণ্ডন করে আমরা জুসো ডি ক্যাস্টোর পথ ধরতে পারি। ইহা হল প্রকৃত রাজনৈতিক সমস্যা। ইহা বিশাল রাজনৈতিক সমস্যা। জনগনের কতৃপ, তথা রাজনৈতিক হস্তপে ছাড়া ইহা বন্ধ করা অসম্ভব। আমাদের হতাশাবাদী হলে চলবে না। গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সচেতনতা অর্জন করতে হবে। বাস্তবতা হতে দূরে থেকে আমরা গান লিখতে পারি না। আমরা বাস্তবতা চিহ্নিত করতে পারছি এবং এখন একে পরিবর্তিত করতে হবে। বাস্তবতার জ্ঞান, সচেতনতা; লা মিজারেবল এ ভিক্তর হুগো বলেন_ সচেতনতা বিজ্ঞানের সমষ্টি নয়, জ্ঞান। জাতিসংঘের মতো সম্মানিত একটি সংস্থার পরিসংখ্যান আমাদের সেই সচেতনতা দিতে পারে। আমরা গ্রহ হতে কী রা করব এবং বাস করব? আমি ইহা বিশ্বাস করি, আমি প্রতিদিন আশাবাদি এবং প্রতিদিন সর্বতোভাবে, বিশেস করে যুব সমাজের ওপর। 50 বা 60 বছরের বুড়ো কিংবা সাদা চুলের বিরুদ্ধে আমি নই_ কিন্তু যুব সমাজ যে অজেয়-সমাজ জন্মগ্রহণ করছে, অনুভব করে এমন কিছু 'আসল' যা ঘটতে যাচ্ছে, নতুন কিছু। জ্যা পল সাঁত্রে বলেন: শুধুমাত্র যুবাদের আছে প্রয়োজনীয় আবেগ ও খাটিত্ব, বিপ্লব ঘটাবার জন্য। ুধার বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে প্রথমেই যুব সমাজকে, অতপর আসবে সবাই। আসবে রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ নাগরিক প্রবীণরা। সবুজ জমি তবেই সোনালি শস্যের সুভাস ছড়াবে।
ক্ষুধা, রাজনীতি ও যুবাদের তৎপরতা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৩০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....
সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন
হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষকের মর্যাদা

কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।