ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের তিন বছর পূর্তি হতে চলছে 20 মার্চ। এই আগ্রাসন আধুনিক বিশ্বে বর্বতার মূর্তিমান প্রতীকরূপে চিহ্নিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের মানুষই প্রত্য বা পরোভাবে এই বর্বতায় তিগ্রস্ত হয়েছে। শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিভিন্নভাবে বিপর্যয়ের প্রকাশ ঘটেছে। বিশ্ব অতিক্রম করছে তান্ডবতার ধূম্রজাল। চারদিকে মার্কিনী মাৎসন্যায়ের একাধিপত্য উপস্থিত। তারপরও শান্তির লালিত বাণী শুনিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে মতাধর রাষ্ট্রের প্রশাসন বিশ্বব্যাপি এই অনাকাঙ্খিত মানববিরোধী যুদ্ধ প্রাসঙ্গিক গাথা তৈরি করছে, এবং এর ব্যাপ্তি আরো বিসতৃত করতে চেষ্টা করছে। এই সব করছে সন্ত্রাস বন্ধের নামে, গনতন্ত্র রপ্তানির নামে। অথচ সন্ত্রাসের মূল মদতদাতা হল এই রাষ্ট্র, গনতন্ত্রও এই রাষ্ট্রটিতে নিরাপদ নয়। মতা ও শক্তিমত্তে বলীয়ান হয়ে হমকি দমকি দিয়ে পৃথিবীতে তারা দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অর্জিত জ্ঞান ও সম্পদ আজ মানবতা বিরোধী অপরাধে বিনিয়োগ হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো উপর নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে নয়া-উপনিবেশী বিশ্বব্যবস্থার সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশের সরকারই আর জনগনের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করছে না। জনগনের চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ সরকারগুলোর কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হয় না। ফলে বিশ্বব্যাপি জন-মানুষের যুদ্ধ বিরোধী উচ্চকণ্ঠ মতাসীন দেশগুলো এড়িয়ে চলছে। অধিকন্তু কণ্ঠ দমিয়ে রাখার মার্কিনী ইচ্ছা বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে রাষ্ট্র আর জনগনের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়, মার্কিনী দায়বদ্ধতায় ব্যস্ত থাকছে। তাই শান্তিবাদী মানুষের জন্য সারা বিশ্ব আজ দুষ্কাল। কিন্তু তাই বলে কী শান্তিকামী মানুষ চুপসে থাকবে! না, তেমন কিছু ঘটেনি। বরং শান্তিকামী মানুষ শুরু করেছে আরেক যুদ্ধ, অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভবোধের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে শামিল হয়েছে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ। এমনকি আমেরিকার জনগনের এক বিরাট অংশ মার্কিনী এই আগ্রাসন মেনে নিতে পারছে না। তারাও মার্কিন প্রশাসনের অপকর্মতৎপরতায় ুব্ধ, তারাও ফুসে উঠছে, যার প্রতিফলন প্রায়শ প্রকাশ পায় ল মানুষের ুব্ধ সমাবেশে। এইসব সমাবেশে তারা শুধু প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরোধীতাই করে না, ইরাক থেকে সৈন্য ফিরিয়ে আনতে আমেরিকাকে বাধ্য করার জন্য সংগ্রাম করছে। এই সংগ্রামে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির সংশ্লিষ্টতার কারণে আমেরিকার প্রশাসনও আজ জনগন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, অথর্াৎ বুশ সরকার আজ আমেরিকার জন্যই জবরদস্ত পাথর।
20 মার্চ বুশের আমেরিকার ইরাক আক্রমনের তিন বছর পূর্তি হবে। এই সময়ে মার্কিনী মিলিটারি হিসাব মতে প্রায় 20,000 মানুষ নিহত, আহত, পঙ্গু ও অম হয়েছে। ইরাকিরা মনে করে এই সংখ্যা এর দশগুণ। ইরাকের অবকাঠামো ধ্বংশ হয়ে গেছে। এর শহর নগরগুলো বিধ্বস্ত। জাতীয় উৎপাদন বলতে আর কিছু নেই। মানুষ মানবেতর দিন যাপন করছে। ফালুজা তিন ল লোকের একটি শহর, এর 50,000 বাড়ির 36,000 বাড়ি টিকে আছে, বাকিগুলো আমেরিকার মিলিটারি বিনাশ করে দিয়েছে। শহরের অর্ধেক মানুষ বাড়িহারা হয়ে তাবুতে বাস করছে। এই চিত্র শুধু ফালুজায় নয়, প্রতিটি শহরেরই সাধারণ চিত্র। হাজার হাজার ইরাকি জেলে বন্দী হয়ে আছে এবং শত শত লোক নৃশংসভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। আবু গারিব জেলের পাশবিক নির্মমতার কিছুটা চিত্রতো ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, বিশ্বব্যাপি মানুষ বিহ্বল হয়ে তা দেখেছে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ইরাক আগ্রাসনের তৃতীয় বর্ষে পৃথিবীব্যাপি যুদ্ধ-বিরোধী সমাবেশের ব্যাপক আয়োজন চলছে। যুদ্ধ-বিরোধী সংগঠনের কর্মীরা ছাড়াও দেশে দেশে বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ চলবে। তবে ইউরোপ ও খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-বিরোধী কর্মীরা এইেেত্র অগ্রগণ্য। তাদের প্রস্তুতিও ব্যাপক। মার্কিন প্রভাবাধীন রাষ্ট্র ও কথিত সিভিল সমাজ অনেক েেত্রই মার্কিন বিরোধী কোন কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চায় না। কোন সংগঠন প্রতিবাদ করলেও রাষ্ট্র তা দমনে সোচ্চার থাকে। তারপরও বিবেকবান মানুষেরা যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ করবে দেশে দেশে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের ঘৃণা বর্ষিত হবে সাম্রাজ্যবাদী এবং নয়া উপনিবেশি আমেরিকা ও এর সহযোগী মিত্র দেশের উপর।
18-19 মার্চ যুদ্ধ-বিরোধী কর্মীরা পৃথিবীর কমপ ে25টি দেশে এবং শতাধিক শহরে বিােভ সমাবেশ করবে। এবং তাদের দাবি হবে ইরাক যুদ্ধ ও দখলদারি বন্ধ কর। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ভিয়েনা অষ্ট্রেরিয়ায় সমাবেশ করবে ইউরোপিয়ান সোস্যাল ফোরাম; ওয়ার্ল্ড সোস্যাল ফোরাম সমাবেশ করবে বামাকো, মালি এবং কারাকাস। বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রান্তিক সংগঠন, কিছু তৃণমূল রাজনৈতিক দল ও যুদ্ধ-বিরোধী সংগঠন এই দিন রাজপথে বিােভ সমাবেশের মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনকে ধিক্কার জানাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রপ্স আউট নাউ কোয়ালিশন (টঙ্ক) স্থানীয়ভাবে সারাদেশের শহরে শহরে বৃহৎ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। টঙ্ক ওয়েব সাইটের ভাষ্যমতে নিউ ইয়র্ক, বস্টন, ওয়াশিংটন, লস এঞ্জেলস, বাল্টিমোর, ডেটরয়েট, সান ফ্রান্সিসকো, আটলান্টা, ডেনবার এবং আরো বত্রিশটি রাজ্যের অন্যান্য শহর ও নগরে যুদ্ধ-বিরোধী সমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া এরা আরো 5 দিন ব্যাপি মোবাইল, আলা হতে নিউ অরলিন্স পর্যন্ত মিছিল সমাবেশ করবে, এর প্রতিবাদ্য বিষয় হবে যুদ্ধ ও কাটেরিনা বির্যয়। এবং আরো একটি মিছিল টিজুয়ানা, মেঙ্েিকা হতে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত যাত্রা করবে, এর ব্যাপ্তি সময় হবে 12-27 মার্চ পর্যন্ত। এই েেত্র তাদের উত্থিত দাবি: অভিবাসীদের অধিকার সংরন। টঙ্ক সপ্তাহান্তে যুদ্ধবিরোধী কর্মী ও বিপ্লবীদের সমন্বয়ে যুদ্ধ-বিরোধী প্রতিরোরোধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। প্রায় 500 এর উপর সংগঠন ও সুখ্যাত ব্যাক্তিত্ব সারাদেশে স্থানীয়ভাবে এই প্রতিরোধ আন্দোলনে একাত্ম হবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধকালের যুদ্ধপ্রবীন সৈনিক, যুদ্ধ-বিরোধী কর্মী, এবং টঙ্ক মুখপাত্র ল্যারি হোমস বলেন, যে মার্চ 18-19 তারিখের বিােভ সমাবেশের মূখ্য দাবি হবে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে ইরাক হতে সমস্ত দখলদার বাহিনীকে তুলে প্রত্যাহার করতে হবে _ আর কোন টাইমটেবিল নয়, নবতর সৈন্য সমাবেশ নয়, শুধুমাত্র অতিদ্রুত সৈন্য প্রত্যাহার। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে: ইরাক, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন এবং হাইতি সহ সমস্ত উপনিবেশি দখলদারিত্বের অবসান। এছাড়া আরো দাবির মধ্যে রয়েছে: বোমার বদলে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ কর, ক্যাটেরিনা আক্রান্তদের সংগ্রাম সমর্থন করা, 'প্যাট্রিয়ট এক্ট' বাতিল কর, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, এবং যুদ্ধে অর্থ ব্যয় না করে চাকুরি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাসস্থান ও স্কুল নির্মাণ খাতে ব্যয় কর।
নিউ ইয়র্ক ও বস্টনে বৃহৎ সমাবেশ করবে বলে আশা করছে ইস্ট কোস্ট। বস্টনে যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন এবং সংগঠিত শ্রমিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবিলম্বে সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি উচ্চকণ্ঠে প্রকাশ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বস্টন টঙ্ক এবং ইউনাইটেড স্টীল ওয়ার্কার লোকাল 8751 রোজা পার্ক্স হিউম্যান রাইটস ডে কোয়ালিশন-এর ব্যানারে প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নেতারা এই প্রতিরোধ কর্মসূচিতে সায় দিয়েছে। সংগঠকরা বলছে তারা পরিকল্পনা করছে প্রতিরোধকারীরা ম্যালকম এঙ্ বুলেভার থেকে মিছিল নিয়ে স্টেট হাউজে সমবেত হবে, সেখানে তারা তারা সমাবেশ করবে এবং যদ্ধ-বিরোধী বক্তৃতা করবে। নিউ ইয়র্কের সংগঠকরা ব্যতিক্রমধর্মী এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তারা প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসাবে একটা দিন রেখেছে মিলিটারি নিয়োগে ব্যবহৃত বিভিন্ন আস্তানাগুলোতে প্রতিবাদ বিােভ প্রদর্শন করার। এই কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে সমন্বিত হবে টাইম স্কয়ার রিক্রুটিং স্টেশনে। প্রতিবাদকারীরা সেখান থেকে মিছিল করে জাতিসংঘ প্রধান কেন্দ্রের দিকে রওনা দিবে।
টঙ্ক এর সংগঠকদের সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘ অভিমুখে যাত্রায় তারা ইউএন নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বুশের উদ্যেগে প্রতিবাদ জানাবে। এইসব প্রতিবাদকারীরা জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাবে তারা যেন হারিকেন কাটরিনায় যে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘিত হয়ে তা পর্যবেন করে, অমূলক দোষে বেহুদা ইরানকে নাজেহাল না করে। যে অপরাধগুলো নিয়ে এতদিন আমেরিকার সরকার অন্যদেশে আগ্রাসন চালানোতে প্রপান্ডা চালাত আমেরিকার জনগন তার মিথ্যাচার চিহ্নিত করতে পারছে, অধিকন্তু তারা দেখছে নিজেদের দেশেই সেইসব অভিযোগগুলো দৃশ্যমান। আমেরিকায় বিােভকারিদের বড় একটি টার্গেট হল সৈনিক নিয়োগ কেন্দ্রগুলো। মিলিটারি নিয়োগকর্তাদের ল্য থাকে শ্রমজীবি জনগোষ্ঠির যুবক এবং কালো তরুনদের প্রতি। এদের দ্বারা মিলিটারি চেষ্টা করে সেনাবাহিনীর ল্য ও বিসতৃতি রা করতে। এবং উপনিবেশিত ইরাক ও আফগানিস্তানে এদের বদলি সৈনিক হিসাবে প্রেরণ করা হয়। যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন মিলিটারি নিয়োগকর্তাদের চিরস্থায়ি মীথ খোলাসা করতে সহায়তা করছে। নিয়োগকর্তারা মিথ্যাচার এবং গরীব যুবকদের মানসম্পন্ন চাকুরি, স্বাস্থ, শিার সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করছে। ফাইট ইম্পেরিয়ালিজম_ স্টান্ড টু গেটার (ফিস্ট) নামক একটি বহুজাতিক বিপ্লবী যুব সংগঠন, তরুন প্রজন্মকে সংগঠিত করতে সহায়তা করছে এবং ছাত্ররা মিলিটারি নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে যারা তাদের বাড়ি, স্কুল ও কমিউনিটি টার্গেট করে মাঠে নেমেছে।
ইরাক আগ্রাসনের তিন বছরে প্রবেশের মাধ্যমে মার্কিন সরকার শুধুমাত্র ইরাকেই মানবসত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ করেনি, আমেরিকার অভ্যন্তরেও শ্রমজীবি এবং জাতীয়ভাবে উৎপীড়িত মানুষের বিরুদ্ধে শোষন ও জাতিদ্বেষ তীব্র করেছে। হারিকেন কাটারিনায় আমেরিকার সরকারের ব্যর্থতা, নির্লিপ্ততায় এর অভ্যন্তরীণ জাতিদ্বেষ এবং আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় অসাম্যের স্বরূপ সারা বিশ্ব অবলোকন করে। এই রাষ্ট্র কাঠামো ক্যাটেরিনা বিপর্যয় উত্রে বেঁচে থাকাদের প্রিয় স্বজনদের সাথে মিলিত হবার অভিলাস, প্রয়োজনীয় চাকুরি ও বসতবাড়ি জন্য সংগ্রামে সহায়তা দিতে অস্বীকার করে। ইতোমধ্যে দখলী ইরাকের ভেতরে প্রতিরোধের তীব্রতা বেড়েই চলছে এবং দখলদার বাহিনীর অমতা কিংবা অনিচ্ছার কারণে সেখানে স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে না। বুশের এই মানবতাবিরোধী আগ্রাসনে গত তিন বছরে কয়েক হাজার মার্কিন ও বৃটিশ সৈনিক এবং হাজার হাজার সাধারণ ইরাকী ও প্রতিরোধ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আহত কয়েক কয়েক লাখ ইরাকী। বিপর্যস্ত হয়েছে সারা বিশ্ব। অথচ যে অপরাধে ইরাকে আগ্রাসন চালানো হয়, তার অন্যতম ছিল: ইরাকে বিধ্বংশী মারনাস্ত্র ও লাদের কথিত সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে যুক্ততা, যা এই পর্যন্ত প্রমানিত সত্য হয়নি। অতএব বলা যায় মিথ্যা অজুহাতে ঠান্ডা মাথায় চালানো হয়েছে এই আগ্রাসন। এর থেকে বুঝা যায় বিশ্বব্যাপি আমেরিকা একক কতৃত্ব কায়েম করতে চায়। যারা তার অধীনতা মেনে নেবে না তারাই হবে এর শিকার। বিশ্ব থেকে উপনিবেশ ওঠে যাবার পর নয়া-উপনিবেশী ঘাপতি মারা নতুন অস্ত্রটি এতোদিন আধিপত্য কায়েমে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদি কেন্দ্রটি এখন আর অন্তরালে থাকতে আগ্রহী নয়, আবার প্রকাশ্য উপনিবেশ চায়, এর থেকে বিশ্বময় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে এক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বিশ্বকে আমেরিকায়ন করার অপযুদ্ধ। ইতিহাসের নিয়ম মতে ভয়ানক এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক রাষ্ট্রসমূহ জয়ী হবে, কিন্তু এর জন্য দীর্ঘ কন্টকিত পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রতিনিয়ত চাপিয়ে দেয়া অপযুদ্ধের বিরুদ্ধে শুভবোধের যুদ্ধকে গতিশীল করতে হবে। ইরাক আগ্রাসের তৃতীয় বর্ষে উপনীত হয়ে এই হোক মানবজাতির প্রতিজ্ঞা।
দৈনিক আজকের কাগজ, 20.03.06
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


