আজ মা দিবস। সবার মত আমারও মার কথা অনেক মনে পড়ছে। সত্যি বলতে কি মানুষ কাছ থেকে দূরে চলে গেলে ... সে অনেক ভালো ছিলো, তার অনেক গুন ছিলো। সে অনেক সৎ ছিলো... কিংবা ... মানুষটা ভালো ছিলো না, বদ মেজাজী ছিলো .... নানা ধরনের কথা উঠে আসে। কিন্তু আমি আমার মা দূরে চলে যাবার পর বলছি না....... কাছে থাকার সময়কার কথাই বলছি। একমাত্র 'মা' যিনি আমায় সবচাইতে বেশি ভালোবাসতেন। তার কোন বিকল্প কোনদিন হবে বলে মনে হয় না।
আমি বাসার সবার ছোট ছোট ছেলে।অবশ্য আমরা ভাইবোন জমজ হয়েছি। তার পরও আমি আমার বোনের ৯ মিনিট পরে হয়েছিলাম।
আমার মা ছিলো খনার বচনের জীবন্ত বই। প্রত্যেকটি কাজে, ঘটনায় খুব সুন্দর করে খনার বচন দিয়ে বুঝিয়ে দিতো...
"বিয়ে বাড়ি নারির পাল, ভ্রাদ্র মাসে পাকে তাল", ....আপ ভালো, তো জগৎ ভালো" কলা রুইয়ে না কেট পাত, তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত" .. যেজন দিবসে , মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, আশুগৃহে তার, দেখিবে না আর, নিশীতে প্রদিপ ভাতি। এরকম অনেক ক্ষনার বচন মুহুর্তের মধ্যে বলে দিতো। আর গল্প বলায় এত পারদর্শী ছিলো যে, রুশ দেশের উপকথার সত্যিকারের রাজ্যে চলে যেতাম। আমি একদিনও তার গল্প না শুনে ঘুমাতাম না। জীবনের শেষ সময় আমি মার সাথেই ঘুমাতাম।
আর আরেকজনকে মা খুব আদর করতো, সেটা হচ্ছে আমার বড় ভাই (হাসানুজ্জামান) প্রবাসী- যুক্তরাষ্ট্র। ছোট বেলা যখন নটডরডেম কলেজ থেকে ল্যাগুয়েজ কোর্স শেষ করলো তখন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করার জন্য অনেক কষ্ট করেছে বড় ভাইয়া। আর একমাত্র সাপোর্টার ছিলো আমার প্রান প্রিয় মা।আজ ভাইয়া যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, ভাবী ভাতিজি সহ সবাইকে নিয়ে ভালো আছে। আর আমরা বাকিরা আজ সবাই প্রতিষ্ঠিত..বড় আপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), সিনিয়র টিচার (বিজ্ঞান) গনবিদ্যা নিকেতন। মেজ বোন মুন্সিগঞ্জ এ থাকে, আর ছোট বোনও মাস্টার্স কম্লিট, একটা ছোট ইংলিশ মিডিয়ামে জব করে। ওর বর বেশ ভালো মনমানসিকতার। সে একটি গ্রুপ কোম্পানীর এজিএম। মেজ ভাইয়া ব্যবসায়ী, আর আমি একটি গ্রুপ কোম্পানীতে এক্সিকিউটিভ হিসাবে জব করছি। এমবিএ করবো ইনশায়াল্লা। মা তোমার দোয়ায় সন্তানরা ভালো আছে।
যাক মাকে নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবে না। অন্যদিন আরো লিখবো।.... সব শেষে মা...... তোমায় অনেক ভালোবাসি। আল্লাহ তোমার বেহেশত নসিব করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



