somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চেতনার রমরমা ব্যবসা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯২ সাল।জাহানারা ইমাম,শাহরিয়ার কবির,মুনতাসীর মামুনরা চেতনার ব্যবসা চালু করে বসলেন।যুদ্ধাপরাধীদের বেচার করতে হবে।কিন্তু ৫-৭ জনের মিছিল,মিটিংয়ে কেউই উনাদের পক্ষে সাড়া দেয়নি।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তো বর্তমানের যুদ্ধাপরাধীদের নেতা ছিলেন,কিন্তু বর্তমানের সর্বাধিক সাফল্যের মালিক শেখ হাসিনাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সাড়া দেননি।

১৯৯৬ সালে বর্তমানের মান্নীয় প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করলেন।

এতদিন পর্যন্ত চেতনার ব্যবসাটা কারোরই মনে ধরেনি।

-------

২০০১ সালে জামায়াতের বেঈমানীর ফলে (আওয়ামীয় মতে) আওয়ামীলীগ চেতনার ব্যবসা ধার করতে বাধ্য হয়।আর বামপন্হীরা তাদের সাথে যোগ দেওয়ায় বামদের সেই ব্যবসা দেউলিয়াত্ব কাটিয়ে উঠে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলগ হাজার ইশতেহার ঘোষণা করলেও মূল ব্যবসা হিসেবে চেতনাকেই আঁকড়ে ধরে।আর সেটার জোরেই বাংলাদেশে চেতনা বিকশিত করে চলেছে।

----------

ইদানীং জামায়াত শিবিরের জনশক্তিরাও সেই চেতনার ধারক বাহক হিসেবে উপস্হাপনের সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।বিশেষ করে চেতনার অগ্নিতীরে যারা শহীদ হিসেবে খ্যাত হয়েছেন,তাদের পুত্রধনেরা এইসব ক্ষেত্রে কয়েকধাপ এগিয়ে। উনারা সারাজীবন এই চেতনার বিরোধীতা করলেও এখন সেই চেতনাকে ধারণ করেই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখে চলেছেন।

অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব সারাজীবনে কখনো নিজেকে ভাষাসৈনিক হিসেবে কোথাও বলে বেড়াননি।জীবনের শেষপ্রান্তে এসে এই বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন।আর এরই ধারাবাহিকতায় ভাষাসৈনিক গোলাম আযম উপাধি লাগিয়ে ইনার অনুগত জনশক্তিরা সেই চেতনাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।

সারাজীবন উনাদের বিবৃতি ছিলো,ইসলামে জাতীয়তাবাদ তথা চেতনাবাদ হারাম।কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে উনারা এখন চেতনাবাদকে জায়েজ করার রাস্তায় নেমে পড়েছেন।মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার করা যাবেনা,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বয়ান করতে হবে।২৬ ই মার্চে মিছিল করতে হবে।১৬ ই ডিসেম্বর উদযাপন করতে হবে।

আরো কত কি......

----------

আমি এগুলো পালনের বিরোধী নই।কিন্তু বিরোধিতা এই কারণে করছি,সারাজীবন যেটাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে,সেটা এখন হালাল হয়ে যায় কিভাবে?এটা যদি এখন হালাল হয়েই থাকে,তখনও এটা হালাল ছিলো।

মুক্তিযুদ্ধের ভুল স্বীকার করে মাফ চাওয়া নিয়ে যারা দলীয় অন্তর্কোন্দল সৃষ্টি করতে পারেন,তাদের কাছে হঠাৎ করে এই চেতনাবাদ ধারণ করা ক্ষণিকের খোলস বদলানো মাত্র।যদি এটাকে হালাল করতেই হয়,তাহলেই ৭১ এ ফিরে যেতে হবে।এবং পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করে যে অপরাধ করা হয়েছে,সেটার জন্য মাফও চাইতে হবে।

-------------------

ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় পলিসী হচ্ছে,যারা শুরুতে ব্যবসা করে মার্কেট দখল করতে পারবে,তারাই ব্যবসার শীর্ষে থাকবে।হঠাৎ করে ব্যবসা শুরু ব্যবসাতে বিশাল লাভ করে ফেলবেন,সেটা কল্পনা করা বাতুলতা বৈ আর কিছু নয়।

৯০ এর পর থেকে বামরা চেতনাবাদের ব্যবসা শুরু করেছে।সেই চেতনার জন্য জনগণের গালিগালাজ,পুলিশের লাঠিপেটা সবই খেয়েছে।তারপরই ২০ বছর পরে সেই ব্যবসায়ের সফলতা দেখতে শুরু করেছে।

জামায়াত-শিবির ইদানিং চেতনাবাদের বন্দনা শুরু করেছে।মার্কেটে লুজার হিসেবে নিজেদের উপস্হাপন করছে।ইসলামীবাদ বাদ দিয়ে এভাবে চেতনাবাদ নিয়ে টিকে থাকলে দেখা যাবে,উনাদের চেতনাবাদের ব্যবসা ২০ বছর পর কতদূর এগুতে পারে???????
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×