কামালের ক্যান্টিনে ঢুকলেই বোটকা গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে । পেটের ক্ষুধা মাথার ভিতর দিয়ে সপ্ত আসমানে উঠে যায়। দুই সারিতে টেবিল পাতা, তিল ধারনের ঠাঁই নেই।ওদিকে খাবারের সামনে প্লেট নিয়ে কাড়াকাড়ি, এসময় প্লেটের মারাত্নক সংকট, খাওয়ার চাইতে প্লেট দখল করা বেশি জরুরী।অনেক কাড়াকাড়ির পর প্লেট দখল করা একেকজনের চেহারা দেখার মত ।একদিকে ভাতের গরম ভাঁপ,রুমের স্যাতঁসেঁতে ভেজা গন্ধ সাথে পোলাপানের গায়ের গন্ধ মিলে পরিবেশটাকে জাহান্নামের অংশে পরিণত করেছে ।প্লেট নিয়ে মারামারি করা আমার হয় না, এমনিতে ছোটখাট মানুষ তার উপর জুনিয়ররা কোনটা করতে কি করে, ইজ্জত পাংচার হবার মত অবস্থা। টিফিন বক্স সাথে নিয়ে ছুটলাম ভিড় লক্ষ্য করে। ক্যান্টিনবয় নাঈমের নাভিশ্বাস অবস্থা। একজনের সামলাতে হচ্ছে পঞ্চাশ জনকে। একজনের দেড়ভাত তো আরেকজনের দুইভাত, একজনের ভাজি তো আরেকজনের মুড়িঘন্ট,অন্যজনের ডাল-ভূনা, মাছভাজি ।ওদিকে টেবিল থেকে হাঁক, ঔ নাঈম কৈ গেলি গেটিস দিয়া যা।বেচারার ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা।আরেকজন তরকারি নিজে নিতেই নাঈমের হাঁক, ঔ ভা্ই আমারে কইতে পারেন না, এত্তগুলা তুলসেন ক্যা!
-তোমারে তো পাওয়াই যায়না
- একটু খাড়াইতে পারেন না ।
তাড়াতাড়ি দেড়ভাত বক্সে ভরে নাঈমকে বলি ভাজি আর মাছের তরকারি দাও।নেওয়া শেষে দ্রুত ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে লম্বা শ্বাস নেই, দম আটকে মরার অবস্থা হৈসিলো। এ ব্লক পেরিয়ে বি ব্লকের চার তলায় নিজের রুমে ছুট দেই।গলা দিয়ে ভাত নামতে না চাইলেও গিলতে তো হবে, নাইলে এই গরমে রোজা রাখাই কষ্ট হয়ে যাবে।মা শুনলে বলবে বাড়ি চলে আয়, রমজানে হলে থাকবার দরকার নাই।কিন্তু কি করবো, মধ্যবিত্ত বিড়ম্বনায় বালিতে মুখ গুঁজে কোন রকমে জীবনটাতো পার করতে হবে। ওহ্, খাওয়া শেষ। জিহ্বায়ই তো লাগলো না, কি খাইলাম!
( বিঃদ্রঃ লেখাটি ১ বছর আগে রমজানের কোন একদিন সাহরী শেষে লেখা )
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




