আমেরিকার বুড়ো ঘোড়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ( আমার রিপাব্লিকান প্রফেসরের ভাষায় বিগ মাউথ) ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষনা দিলেন, মুসলিম এবং আমেরিকার মাঝে সমস্যা আইডেন্টিফাই না হওয়া পর্যন্ত মুসলিমদের সাময়িকভাবে আমেরিকায় প্রবেশ বন্ধ করা উচিত ! এটা নিয়ে আমেরিকাসহ সারা পৃথিবীতে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে !!! এমনকি নেতানিয়াহুর মত লোক ট্রাম্পকে সবক দিচ্ছে মুসলিমদের সম্মান করার জন্য ( কেয়া বাত হ্যায়,ভাইলোগ তালিয়া বাজাও) !!!
আসেন আমরা একটু ঊল্টাভাবে চিন্তা করি !!!!
ট্রাম্প বলেছেন, " আমাদের পলিটিক্যালি কারেক্ট হবার সময় শেষ এন্ড লেটস ফাইন্ড আউট হোয়াট দা হেল ইজ গোয়িং অন বিটুইন আমেরিকা এন্ড মুসলিমস " ।
এই কথাখানি যে কত মহামুল্যবান, এটা মোটা মাথার মুসলিমদের বুঝতে আরো ১০০ বছর সময় লাগবে! আমার মতে ট্রাম্প এটাই বলতে চাচ্ছিলেন, ঊই আর নট অ্যাগেন্সট মুসলিম বলে বুশের ইরাক, আফগানিস্থানে গনহত্যা, ওবামার মুসলিমস আর আনডিভাইজিবল পার্ট অব আমেরিকা বলে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তহীন যুদ্ধের প্রনোদনা যোগানো, মিশরে নিষ্ঠূর সেনা অভ্যূত্থানকে বৈধতা দেওয়া, সারা পৃথিবীর সকল মুসলিম দেশে দেশে জংগী উত্থানে মদদ দিয়ে একই সাথে আবার মুসলিমদের সাথে নিয়ে হোয়াইট হাঊজে স্বাড়ম্বরে ইফতার পার্টি করা, এইগুলা হচ্ছে পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়া !!! এবং ট্রাম্প এগুলোর সমাধান করতে চেয়েছেন ( মনে অন্য কিছু থাকলেও মুখে এটাই বলতে চেয়েছেন ) !!!
তবে আসল কথা হচ্ছে, মুসলিম এবং আমেরিকার মাঝে আসলেই সমস্যা চলছে, কেঊ স্বীকার করুক বা না করুক অথবা অ্যাভয়েড করুক, ইট ইজ আ ফ্যাক্ট, দেয়ার ইজ আ প্রব্লেম আঊট দেয়ার !!!! হিলারিরা যতই এটাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেস্টা চালাক, সমস্যার সমাধান হবে না !!! এক বড় ভাই সেদিন বলছিলেন, তিনি মিজৌরীতে এক চেইন রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় এক ইয়েমেনী ওনার সাথে কাজ করতো। কথায় কথায় সেই লোক একদিন বলতেছিল সে বছরে তিন ঈদ পালন করে , দুই ঈদ আর নাইন-ইলেভেন !! এক আমেরিকান ঘটনাক্রমে তার কথা শুনে ফেলে এবং সাথে সাথে এফবিআইকে খবর দিয়ে দেয়। এফবিআই ওই লোককে ধরে নিয়ে ড্রাগ কেইসে ফাঁসিয়ে দেয়। পরে তাকে দুটো অপশন দেয়া হয়ঃ হয় দশ বছর জেল অথবা ইয়েমেনে ডিপোর্টেশন যদিও সে সিটিজেন। অথচ নাইন-ইলেভেনের আগে দুই ঈদের দিন পুরো আমেরিকায় সরকারী ছুটি ঘোষনা প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। ধরলাম এটা সিআইএরই একটা চাল ছিলো, কিন্তু হামলা যারা করেছিল তারা তো সৌদিয়ান মুসলিম !! আমার মনে আছে, আমেরিকা যখন আফগানিস্থান হামলা করে, বাংলাদেশে তখন মোল্লা ওমর-লাদেনদের কিভাবে হিরো বানানো হয়েছিলো !!! আমি নিজেও একটা লাদেন-মোল্লা ওমরের ছবি সংবলিত ক্যালেন্ডার ঘরে টানাই, যদিও আব্বু ওটা ছিঁড়ে ফেলে। আমি তখন ক্লাস সেভেনের ছাত্র।আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি সারা পৃথিবীর ৯৯% মুসলিম আমেরিকাকে পছন্দ করে না, যদিও আমেরিকায় এসে নিজে ভাগ্য পরিবর্তন করতে কোন সমস্যা নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান বার্নারদিনোতে নির্বিচারে গুলি চালনাকারিদের দু'জন মুসলিম কাপল সনাক্ত হওয়ার পর তামাম অ্যাামেরিকান মুসলিমদের বুক ধড়পড় শুরু হয়ে যায় !! এই বুঝি পুলিশ এসে ধরবে, সাদারা বাড়িতে ,রাস্তাঘাটে হামলে পড়বে ! সবাই ব্যাপক প্যানিকড !!!! এখানকার মুসলিমদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তারা নিজেদের আগে মুসলিম ভাবে, আমেরিকান ভাবে না ! মানে দেশের চাইতে জাতি বড় ! ঠিক বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামির মত !!!
যে কারনে মুসলিমরা চরম কুপমন্ডুকতার মাঝে আবদ্ধ !!! কেঊ সাদাদের অনুসরন করতে যেয়ে নিজের সবকিছু বিসর্যন দিয়ে কাকের ময়ুরপুচ্ছ ধারন করে আবার কেঊ নিজেকে একেবারে সামাজিকতার বাইরে নিয়ে যায় ! সবচেয়ে বড় কথা, এরা এ দেশেরই খেয়ে পরে, সরকারের দেওয়া সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করার পরেও এ দেশকেই নিজেদের চরম দুশমন মনে করে! যে কারনে এ দেশের বাসিন্দা হয়েও এ দেশকে মাতৃভূমি ভাবতে পারে না , এ দেশকে ওন করে না !!!!
মুসলিম স্কলারগন( মুসলিম রাস্ট্রপ্রধানরা বেশিরভাগই ক্ষমতালোলুপ আর সাম্রাজ্যবাদের পা-চাটা কুকুর, হোক আঞ্চলিক কিংবা গ্লোবাল তারা বাদে ) এটা নিয়ে গভীরভাবে এম্পিরিক্যাল স্টাডি চালানো এবং এটা নিয়ে উচ্চকিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি !!!
(বিঃদ্রঃ আমি কোনভাবেই আমেরিকায় মুসলিম প্রবেশ বন্ধ করার পক্ষে নই, তবে আমি চাই এই মিসট্রাস্ট নিয়ে রেকন্সিলিয়েশনের চেস্টা করা হোক বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে !!!!)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




