বেশ কিছুদিন এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করার ফলে আমার অভিজ্ঞতা হল, ভাষার ব্যাপারে আমাদের বাংলাদেশীদের মত জাত্যাভিমান খুব কম দেশে বা কম জাতির মানুষেরই আছে। আর এই চেতনার কৃতিত্ব দেয়া যায় মূলত অর্ধ শতাব্দী আগে ঘটে যাওয়া এক অসাধারণ ঘটনাকে। এর সামাজিক আর সাংস্কৃতিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য আঁতেল আছেন অসংখ্য আর ধর্মীয় আর ওই টাইপের বিষয় নিয়েও পক্ষে বিপক্ষে অনেক জিহাদী আছেন। আমার নিজের ভাবনা সব সময়ই কিছুটা অন্যরকম। তারই কিছু আংশ এখানে।
আমাদের ক্ষুদ্র এই দেশটিতে সামান্য উপজাতীয় বাদ দিলে মোটামুটি সবাই বাংলায় কথা বলি আমরা। তাই জাতি হিসাবে বাঙ্গালী হিসাবে নিজেদের চিহ্নিত করতে কোন সমস্যা হয় না। তার ওপর একুশ আর মাতৃভাষা দিবসের প্রভাব তো আছেই। তবে আমার কেন যেন মনে হয় যে এক অর্থে আমাদের বাংলার ইতিহাস আমাদের এক দিক থেকে অন্ধ আর পঙ্গু করে দিয়েছে। কারন হিসাবে আমি আরেকটু পেছন থেকে শুরু করছি।
বেশ কিছুদিন আগে আমি পেপারে দেখছিলাম যে এদের মেট্রিক (জিসিএসি) পরিক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্ট হলেই সবখানের মত এদের আঁতেলরাও রেজাল্টের আঁতিপাতি বিশ্লেষন করা শুরু করে দিয়েছেন। একটা বিষয় নিয়ে দেখলাম সব পত্রিকাই কান্নাকাটি করছে যে, এদের বাচ্চারা অংক আর ফিজিক্সে দূর্বল হয়ে পড়েছে (যেটা ক্যাল্কুলেটর আবিষ্কারের পর নাকি কান্না থেকে চলছে) আর দ্বিতীয়টি হল, বিদেশী ভাষায় নেয়ার হার কমছে। পরে আরো পড়ে দেখলাম যে বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় পারদর্শী জনশক্তিকে এরা প্রচন্ড গুরুত্ব দেয়। আর ভাষার মধ্যে ওরা গুরুত্ব দেয় প্রতিবেশী দেশের ভাষা আর গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী দেশের ভাষা। সৌভাগ্যক্রমে, ওদের লিস্টের অর্ধেক প্রতিবেশী আর গুরুত্বপূর্ণ দেশ একই, (মতলবঃ ইউরোপীয় ভাষা), আর সাথে আছে জাপানী বা চাইনিজ বা আরবী। এর মানে এই না যে সবাইকেই গোটাবিশেক ভাষা গিলিয়ে দেয়া হয়, কিন্তু প্রত্যেককেই পড়াশোনা শেষ করার আগেই দুই তিনটা অন্য ভাষা শিখে ফেলে, কিছুটা হলেও। ফলে বেনিয়ার জাত যখন আরেক দেশে সুটকোট পরে লুঠতরাজ করতে যায়, দাবার ঘুঁটি অর্ধেকই জেতা হয়ে থাকে।
আমি আরেকটু বোঝার জন্য আমার ভাগ্নীকে ঝাড়ি দিলাম, পানির ওইপারে কি চলে জানার জন্য। যা শুনলাম বেশ ইন্টারেস্টিং। ওখানে ইউরোপিয়ান ভাষা তো চলেই, প্লাস প্রচুর পরিমানে ছাত্রছাত্রী নেয় ইন্দোনেশীয়, কারন নিকটতম প্রতিবেশী দেশ, আর অনেকে শিখে চাইনিজ। মনে হয় ডরায়, চিঙ্কিরা দুনিয়া দখল করে ফেললে, হুজুরদের সাথে বাতচিত করতে সুবিধা হবে। আরো কিছু দেশের সম্পর্কে জানার ইচ্ছা আছে আমার কোন এক সময়ে।
আশা করি আগামী পর্বে আরো কিছু বলব।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



