আগেই যা বলেছিলাম, যে আমার মনে হয় যেকোন দেশ বা জাতিগোষ্টীর মাঝে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত, তার প্রতিবেশী দেশ বা জাতিগোষ্টীগুলোর ভাষা। তবে সত্যি হল যে সবার পক্ষে বা আমাদের দেশের পক্ষে বিশেষত সেটা কখনই সম্ভব না। কিন্তু তাই বলে সবাই ভাষামূর্খ হলে সেটা হল ভয়াবহ। এক দুইটা বিষয়ে দিক নিয়ে আমি বলতে পারি।
এখনকার বাংলাদেশের কথা যদি আমরা ধরি তবে বাস্তবতা হল, কিছুসঙ্খক গ্রামীণ জনসমাজ বা আমার মত কিছু বেকুব ছাড়া মোটামোটি সবাই কিছু না কিছু হিন্দী বোঝে বা পরিচিত। (ব্যখাঃ আমাদের বাসায় আব্বা আম্মার টিভির প্রতি অনাগ্রহ আর বাসায় ডিশের লাইন না থাকায় সোজা ইন্ডিয়াতে ল্যান্ড করার আগ পর্যন্ত হিন্দী অতি অল্পই বুঝতাম।)। আমাদের দেশের জলসীমা বাদে মনে হয় ৯০-৯৫% সীমানা ভারতের সাথে, আর বানিজ্যের বড় অংশ হয় তাদের সাথে, আর বলিউডের কথা নাই বললাম। তাই প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের হিন্দী কিছুটা জানা বোঝাটা অস্বাভাবিক না বা দোষনীয় না। কিন্তুক আমার হিসাবে এইখানেও একটা কিন্তু আছে। সেটা হল, যারা হিন্দী জানি বা বুঝি তাদের মধ্যে হয়ত ১-২% পাওয়া যাবে যারা পাঁচ মিনিটের জন্য কোন আঞ্চলিকতার টান না ব্যাবহার করে (আই মিন টাপুরি! যারা বুঝার বুঝে নিয়েনঃ) এবং মাত্রা বা ব্যাকরনের অঙ্গহানী না করে হিন্দীতে কথা বলতে পারবেন। আমার ভূল হতে পারে জানাতে পারেন। আর যদি বলি হিন্দী পড়ার কথা? আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম যখন দেখলাম যে বাংলা আর হিন্দী বর্ণমালা এক দুইটা অক্ষর বাদ দিলে একদম এক। এমনকি যুক্তাক্ষর পর্যন্ত। কেউ আগ্রহ নিয়ে পড়তে চাইলে এক সপ্তাহ লাগার কথা না ঝরঝরে হিন্দী পড়া শিখার জন্য। আর যদি বলি দু-ছত্র হিন্দী লেখার কথা? মনে হয় তাদেরকে গুনে ফেলা যাবে খালি আঙ্গুলেই। ওইদিকে ওদের আছে বাংলা জানা ৭-৮ কোটি মানুষ। আমরা ধরা খাবোনা তো কি ওরা খাবে? আমি সবার কথা বলছি না, কিন্তু সুযোগ বা উপায় থাকা উচিত যাতে করে কিছু মানুষ হলেও আমাদের নিকটবর্তী আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে কাজ চালানোর মত দক্ষ মানুষ থাকে।
আমি মাঝে মধ্যেই ভাবি যে, গত একশ বছরে আমরা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জনগোষ্টীতে পরিণত হয়েছি। তাতে হয়তো আমরা বিশাল জনগোষ্টীর অংশ হবার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি কিন্তু পেয়েছি আমাদের স্বকীয়তা। কিন্তু মন খারাপ লাগে এই জন্য যে ক্ষমতালোভী ক্রীড়ানকদের অপকর্মের জন্য আমরা সাধারন মানুষ আমাদের মাঝে বার বার সীমান্তের কাঁটাতার পেয়েছি আর আমরা পেয়েছি পরস্পরের মাঝের তিক্ততা। শতবর্ষের পরেও মাথা উঁচু করে বলতে পারিনা যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা নিয়ে এই ক্ষূদ্র ভূখন্ডে এক স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছি উলটো দুতাবাসগুলোতে যেকোন মিথ্যার ফুলঝুরি তুলতে আমরা তৈরি, তাতেও যেন একবারের মত এই দেশ ছাড়া যায়। একবার বিদেশে যেতে পারলে জীবন যে স্বপ্ন সাধ দেখিয়েছিল তার সবগুলোই পাওয়া যাবে। তাই আমরা ভারতীয়দের সন্দেহের চোখে দেখি, পাকিস্তানের সাথে তিন যূগ থেকে বারুদ আর সীসা দিয়ে সব মৈত্রি ছিড়ে ফেলেছি, পাক আর ভারত তিনবার অফিশিয়ালি যুদ্ধ করেছে আর দুই প্রতিবেশীর মাঝে কাশ্মীর প্রতিদিনই রক্ত ঝরায়। একটু অন্যদিকে চলে এসেছি... আরেকদিন কথা বাড়াবো এই নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



