somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষা সঙ্কীর্ণতাঃ ২

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ বা জাতি হিসাবে আমাদের সীমাবদ্ধতা বা সঙ্কীর্ণতার কথা আমি জানি। তার জন্য কে বা কারা দায়ী সে নিয়ে বহু থিওরি আছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমরা কোন জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করি না। তাই পৃথিবীতে আশেপাশে যা কিছু ঘটে বা ঘটছে তার প্রভাব আমাদের ওপরো পড়ে। তাই আমার ভাষাভাবনা আমি আবার লিখছি।


আগেই যা বলেছিলাম, যে আমার মনে হয় যেকোন দেশ বা জাতিগোষ্টীর মাঝে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত, তার প্রতিবেশী দেশ বা জাতিগোষ্টীগুলোর ভাষা। তবে সত্যি হল যে সবার পক্ষে বা আমাদের দেশের পক্ষে বিশেষত সেটা কখনই সম্ভব না। কিন্তু তাই বলে সবাই ভাষামূর্খ হলে সেটা হল ভয়াবহ। এক দুইটা বিষয়ে দিক নিয়ে আমি বলতে পারি।


এখনকার বাংলাদেশের কথা যদি আমরা ধরি তবে বাস্তবতা হল, কিছুসঙ্খক গ্রামীণ জনসমাজ বা আমার মত কিছু বেকুব ছাড়া মোটামোটি সবাই কিছু না কিছু হিন্দী বোঝে বা পরিচিত। (ব্যখাঃ আমাদের বাসায় আব্বা আম্মার টিভির প্রতি অনাগ্রহ আর বাসায় ডিশের লাইন না থাকায় সোজা ইন্ডিয়াতে ল্যান্ড করার আগ পর্যন্ত হিন্দী অতি অল্পই বুঝতাম।)। আমাদের দেশের জলসীমা বাদে মনে হয় ৯০-৯৫% সীমানা ভারতের সাথে, আর বানিজ্যের বড় অংশ হয় তাদের সাথে, আর বলিউডের কথা নাই বললাম। তাই প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের হিন্দী কিছুটা জানা বোঝাটা অস্বাভাবিক না বা দোষনীয় না। কিন্তুক আমার হিসাবে এইখানেও একটা কিন্তু আছে। সেটা হল, যারা হিন্দী জানি বা বুঝি তাদের মধ্যে হয়ত ১-২% পাওয়া যাবে যারা পাঁচ মিনিটের জন্য কোন আঞ্চলিকতার টান না ব্যাবহার করে (আই মিন টাপুরি! যারা বুঝার বুঝে নিয়েনঃ) এবং মাত্রা বা ব্যাকরনের অঙ্গহানী না করে হিন্দীতে কথা বলতে পারবেন। আমার ভূল হতে পারে জানাতে পারেন। আর যদি বলি হিন্দী পড়ার কথা? আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম যখন দেখলাম যে বাংলা আর হিন্দী বর্ণমালা এক দুইটা অক্ষর বাদ দিলে একদম এক। এমনকি যুক্তাক্ষর পর্যন্ত। কেউ আগ্রহ নিয়ে পড়তে চাইলে এক সপ্তাহ লাগার কথা না ঝরঝরে হিন্দী পড়া শিখার জন্য। আর যদি বলি দু-ছত্র হিন্দী লেখার কথা? মনে হয় তাদেরকে গুনে ফেলা যাবে খালি আঙ্গুলেই। ওইদিকে ওদের আছে বাংলা জানা ৭-৮ কোটি মানুষ। আমরা ধরা খাবোনা তো কি ওরা খাবে? আমি সবার কথা বলছি না, কিন্তু সুযোগ বা উপায় থাকা উচিত যাতে করে কিছু মানুষ হলেও আমাদের নিকটবর্তী আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে কাজ চালানোর মত দক্ষ মানুষ থাকে।


আমি মাঝে মধ্যেই ভাবি যে, গত একশ বছরে আমরা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জনগোষ্টীতে পরিণত হয়েছি। তাতে হয়তো আমরা বিশাল জনগোষ্টীর অংশ হবার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি কিন্তু পেয়েছি আমাদের স্বকীয়তা। কিন্তু মন খারাপ লাগে এই জন্য যে ক্ষমতালোভী ক্রীড়ানকদের অপকর্মের জন্য আমরা সাধারন মানুষ আমাদের মাঝে বার বার সীমান্তের কাঁটাতার পেয়েছি আর আমরা পেয়েছি পরস্পরের মাঝের তিক্ততা। শতবর্ষের পরেও মাথা উঁচু করে বলতে পারিনা যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা নিয়ে এই ক্ষূদ্র ভূখন্ডে এক স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছি উলটো দুতাবাসগুলোতে যেকোন মিথ্যার ফুলঝুরি তুলতে আমরা তৈরি, তাতেও যেন একবারের মত এই দেশ ছাড়া যায়। একবার বিদেশে যেতে পারলে জীবন যে স্বপ্ন সাধ দেখিয়েছিল তার সবগুলোই পাওয়া যাবে। তাই আমরা ভারতীয়দের সন্দেহের চোখে দেখি, পাকিস্তানের সাথে তিন যূগ থেকে বারুদ আর সীসা দিয়ে সব মৈত্রি ছিড়ে ফেলেছি, পাক আর ভারত তিনবার অফিশিয়ালি যুদ্ধ করেছে আর দুই প্রতিবেশীর মাঝে কাশ্মীর প্রতিদিনই রক্ত ঝরায়। একটু অন্যদিকে চলে এসেছি... আরেকদিন কথা বাড়াবো এই নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে
.........................................................................



সেই জগতে আমার ছিলো আঁকিবুকি চকখড়িতে,
মন ভেসে যেত মেঘের ভেলায় সোনালী সেই দিনগুলিতে।
একটা সকাল, একটা বিকেল গোল্লাছুটের ধুলোবালি,
চিবুড়ি আর লুকোচুরি খেলা, স্মৃতির পাতা নয়কো খালি।

সুনীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×