আজকে ভাবছিলাম ব্যাঙ্কক্সি কে নিয়ে কিছু লিখব। কসমপলিটান মহানগরীগুলোতে সবসময়েই কিছু কিংবাদন্তী বেঁচে থাকে, কখনো তার কিছু সত্যি কিছু কল্পনা। যেমন আমি ভারতে থাকার সময় বেশ কিছুদিন পেপারের বিশাল গুজব ছিল, যে বোম্বেতে মানুষ সাইজের হনুমান সবাইকে আক্রমণ করছে, কয়দিন মাতামাতি হবার পর সব ঠান্ডা। তেমনি লন্ডনের অন্ধকারের ত্রাস ছিল জ্যাক দা রিপার। আর একুশ শতকের লন্ডনের হিরো হল ব্যাঙ্কক্সি। মনে হয় আরেক ধাপ পিছিয়ে দিতে হবে এই ছায়াশিল্পীকে। আজকের লেখা নজরবন্দী এই দেশকে নিয়ে।
আজকালকার সময়ে বড়বড় অনেক অফিস বা প্রতিষ্ঠানে গেলেই দেখা যায় ওয়েবক্যামের মত ছোটছোট ক্যামেরা, নিরীহ চোখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। ওই ছোট শক্তিশালী ক্যামেরাগুলো বেশিরভাগ সময়েই চব্বিশ ঘন্টা ধরে নজর রাখে নির্দিষ্ট যায়গায়। ফলে কে কোথায় এলো গেলো সব রেকর্ড হয়ে থাকে। আর সাধারণত দূরবর্তী কোন যায়গা থেকে কন্ট্রোল রুমে কেউ নজর রাখেন। ফলে মোটামোটি দারোয়ানের চাকরি শেষ। একজন মানুষই ক্যামেরার সাহায্যে অনেক বড় যায়গার ওপর নজর রাখতে পারে। আর চুরিদারি হলে ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চোরডাকাতের চেহারাছবি দিব্যি বের করে নেয়া যায়। এর সবই মোটামুটি ভাল কিন্তু এক যায়গায় এসে জনগণের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।
ছোট তথ্যঃ সারা পৃথিবীতে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয়শো কোটি। তার মাঝে প্রায় ছয় কোটির কিছু বেশি মানুষ ব্রিটেনে থাকে, মতলব একুনে প্রায় ১%। আর সারা পৃথিবীতে যত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে তার শতকরা ২০ ভাগই এই ছোট্ট দেশটিতে।
সারাদেশটিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠন এমনভাবে ক্যামেরা দিয়ে ঘিরে ফেলেছে যে মানুষজন মহা তিতিবিরক্ত হয়ে পরেছে। রাস্তাঘাটে সবখানেই ক্যামেরা, কোথাও স্পীডক্যামেরা, কোথাও নেইবারহুড ওয়াচ ক্যামেরা, কোথাও ট্রাফিক কন্ট্রোল ক্যামেরা, কোথাও কনজেশন চার্জ ক্যামেরা, প্রত্যেক দোকানে ক্যামেরা, অফিসগুলোতে ক্যামেরা, পেট্রোল পাম্পে ক্যামেরা, কোথায় নাই ক্যামেরা। কিছুদিন আগেই পত্রিকার হেডলাইন ছিল যে একজন লন্ডন যাত্রীর প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৩০ বার ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আর ক্যামেরার সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছেই। আর নতুন ক্যামেরাগুলো আরো বেশী থেকে বেশী শক্তিশালী করে বানানো হচ্ছে, কোনোগুলো ফেস রেকগনিশন করতে পারে, কোনগুলো প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত শব্দ রেকর্ড করে, কোনগুলো নম্বরপ্লেট টুকে নিতে পারে। এখন এই ক্যামেরাবাজীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দুই রকম।
এক নম্বরঃ সরকার সাহেব নাগরিকদের সম্পর্কে খুব বেশী জেনে ফেলছে। কে কোথায় যায়, আর কোথায় থাকে আর কি করে, কার সাথে কি কথা বলে সবই হুজুরের গোচরে। এত বেশী জিনিষ নিজের সম্পর্কে অন্যকে জানানোটা প্রাইভেসীর বিরুদ্ধে পড়ে।
দুই নম্বরঃ এই হ্যাক ম্যাকের দেশে কে কখন কার ডাটা নিয়ে ফেলে তার কোন গ্যারান্টি নাই। হয়ত দুষ্টু লোকেরা আপনার সম্পর্কে ক্যামেরার কারুকাজ যোগাড় করে ফেলল। তারপর দিব্যি হুমকি দিল যে, (উদাহরণস্বরুপ) আমাকে অত টাকা না দিলে আমি সবাইরে বলে দিব আপনি সবার চোখের আড়ালে কয়বার কান চুলকিয়েছিলেন।
আজকাল লন্ডনরে অনেকেই বিগব্রাদার সিটি বা সাইফাই মাইনরিটি রিপোর্টের শহর বলে অভিহিত করা শুরু করেছেন। কে জানে সামনে কি আসছে। তবে মাঝে মধ্যে ভাবি অন্য জিনিষ।
কাঠমোল্লা প্রজাতি যখন বলেন যে প্রতিটি মানুষের পৃথিবীর জীবনের কর্ম সংরক্ষণের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত আছেন সম্মানিত মালাইকাগণ, অনেকেই তখন গাঁজাখুরী বলে উড়িয়ে দেন। ক্ষূদ্র, অসহায় আর নির্ভরশীল মানুষকে অবশ্যই একসময় দাঁড়াতে হবে তার ফেলে আসা জীবনের সামনে আর বুঝে নিতে হবে প্রতিটি ভাল আর মন্দ কাজের প্রতিদান। জনগণ এখন থেকেই রেডী হয়ে যান, মাটির তলায় ঢুকলেই টাইম শেষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




