somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ফালতু চারপাশে আমরা ক'জন নর্দমার কীট নামক পাশবিক মানুষ...।একটি বাস্তব ঘটনার ইতিবৃত্ত

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করে ২০১১ সালে একটি মেয়ের প্রেমে পরে যাই। সে এক লাইলী মজনু হারমানার কাহিনী। তো কোন এক রাত্রে নিজের সাথে বোঝাপড়া শেষ করে প্রেমের ডাকে সারা দিয়ে দেই। তখন আমি গভীর প্রেমে আচ্ছণ্ণ মোবাইলে রাত জেগে কথা বলার নেশা পেয়ে বসল। অবশ্য সে প্রেম বেশি দিন টিকেনি। কোন মেয়ের পক্ষ্যেই সম্ভব নয় কোন কাঠ কয়লা আর আবেগহীন মানুষের সাথে সম্পর্ক কন্টিনিউ করা। যথারীতি সম্পর্ক কয়েকদিন পরই ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়নে। যদিও আমি নিজেকে যথেষ্ট রোমান্টিক দাবি করতাম । এই প্রেমে না পড়লে বুঝতামই না, এই দাবী ছিল কত অসাড় আর মূল্যহীন । শরতের কোন এক রাত্রে ব্রীজের উপরে বসে কথা বলছি, রাত তখন ঘড়ির কাটা ১ টা পেড়িয়ে ২ এর দিকে দ্রুত দৌড়াচ্ছে। রাস্তায় মানুষ জন নেই । দূরে কোথাও ব্যাঙ্গের ডাক ভেসে আসছে। ঝি ঝি পোকারা ডেকে ক্লান্ত হয়ে আছে। আমার চারপাশে পিনপতন নিরবতা। বাড়ির পাশের লাইটের আলোতে কত গুলো কীটপতংগ লাফাচ্ছে। এই অন্ধকার রাতে ভয়ে গা গা জম জম অবস্থা । আমি একা ব্রীজের রেলিং এর উপরে শুয়ে শুয়ে কথা বলছি। হঠাৎ পাশ ফিড়ে দেখি একটা ছায়া মুর্তি। আমার শরীর তখন অসার, মেরুদন্ড বরাবর চিকন ঘাম বেয়ে পড়ছে । সজারুর মত কাটা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গায়ের লোমগুলো। আমি কি করবো? কিংকর্তব্যবিমূর হয়ে তাকিয়ে বুঝার চেস্টা করছি ঘটনটা কি ? ফোনের অপাশ থেকে হেলো শব্দ শুনে আমি বাস্তবে ফিড়ে আসি। ছায়া মুর্তি তখন আমার পা স্পর্শ করবে এমন সময় আমি বল উঠলাম কে? ছায়া মুর্তি হু হা হা করে হেসে উঠে বলল আমাকে চানাচুর খাওয়াবি আমি তোরে চু...তে দিবো। আমি ভালো করে তাকিয়ে দেখি একটা মহিলা । যাকে আমরা পাগলী বলে জানি। আমি বললাম ঠিক আছে। এই বলে দিলাম এক দৌর। এক দৌরে দূরের লাইটের আলোর নিচে গিয়ে দাড়াই । তখন সে বলে দৌরাস কা ? ডড়াইছস? আমি কোন কথা না বাড়িয়ে ঘরে চলে যাই। এটা ভেবে সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি। সকাল বেলা বন্ধুবর টিটুর সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করলাম । সে শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে ভেবে বলল তুই ভাবছস এই আর আমি ভাবছি অন্য কথা। তখন আমি বললাম কি ? তখন সে বলল তাকে কেউ রাতের বেলা হলে এই সব লোভ দেখিয়ে নিজের লালসা মিটায়। যার কারণে এই লোভে চানাচুর খোজে । তার কাছে চানাচুর খাওয়াটা একটা নেশার মত হয়েছে। তার বিশ্বাস চানাচুর দিয়ে পুরুষমানুষ এই কাজ করে। আমি তার ব্যাখা শুনে অবাক হয়ে গেলাম । আমি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেনি এমন একটি সমাজে আমরা বেড়ে উঠছি যে সমাজে পাগল আর অসহায় মায়েরা নিরাপদ নয়। কার এত কাম যে এই রকম একটা ঘৃণ্ণ জগন্য কাজটা করতে পেরেছে? তার রুচি কোন ধাতুতে গড়া এই সমস্থ বিকৃত মানসিকতা কিভাবে আসে? আমি বুঝতে পারিনি? মানুষ এত এত অসুস্থ্য হয়ে কি করে? তার এতো রুচির বিকৃত হয় কিভাবে?নামতে নামতে কত নীচে নামতে পারে? নর্দমার কিট আর শিয়াল কুকুর হায়েনার মত তার ব্যবহার হলে লজ্জা কি পশুরা পাবে না?
অনেক দিন আগে একটা সিনেমা দেখেছিলাম সিনেমার নাম ছিলো “ফালতু”। গ্রামের সবাই ফালতু নামে নায়ককে নিজের সন্তানের মত আদর করে। সবাই তাকে খুব ভালোওবাসে। ফালতু ছিলো জারজ সন্তান ।গ্রামের পাগল বুড়ির ছেলে। এসব দেখলে মনে হবে গ্রামের মানুষগুলো কত দয়ালু আর ভালো মানুষ! একটা জারজ ছেলেকে এভাবে নিজের সন্তানের মত লালন পালন আর আদর সোহাগ দিয়ে মানুষ করছে। ছেলে হিসেবে ফালতুও খুব ভালো। বিপত্তিটা আসে ফালতুর বিয়ের সময়। কেউ আর নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে না? অপর দিকে ফালতু একটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলে। গ্রামের সবাই বলল ঠিক আছে তাহলে তার সাথেই ফালতুর বিয়ে হবে, অন্য মেয়ের বাবারা হাফ ছেড়ে বাচে। গ্রামের মাস্টার মশাইসহ আরো অনেকে যখন মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ,তখন মেয়ের বাবা কিছুতেই রাজি হয়না। একপর্যায়ে গ্রামের মানুষেরা চাপাচপি শুরু করে আর বলে কেন বিয়ে দিতে চাচ্ছেনা না? তখন তিনি আর চেপে রাখতে পারেনি। তখন সবাইকে অবাক করে বলে, ভাই বোনে বিয়ে হতে পারেনা । ফালতু আমার সন্তান। এই কথা শুনে মেয়েওটি পড়ে আত্নহত্যা করে বাবাকে নিষ্কৃতি দিয়ে যায়। মেয়েটির বাবা সহ গ্রামের সকলেই সুযোগ বুঝে বটতলার পাগলি বুড়ির কাছে যেত। এই হলো সমাজ যেখানে একজন ফালতুর জন্ম হয় কিছু মানুষের পাপাচার আর পাশবিক মানসিকতায়। ভাব বিশ্বাস মানবিক মানসিকতা ও চেতনায় মানুষ হতে পারলে; এই সমাজ একদিন সুস্থ হবে, যেদিন আমরা মানুষ হতে পারবো...জন্ম গ্রহণে নয়…
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×