somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরাই সবার আগে২৪.কম

২৮ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসে ঢুকতেই মিলন চিৎকার করে বলল শাহিন ভাই এক্কেবারে ফাটাই দিছেন বস। কাল রাত থেকে কত হিট পরছে জানেন? ৬৭ হাজার!!! শাহিন মুচকি হেসে নিজের ডেস্কের দিকে গেল। পিসিটা ওন করে সাইটে ঢুকতেই শত শত কমেন্ট চোখে পরলো। পাবলিক তাহলে এখনো গিলছে? খবরটা ছাপার পর থেকে অর্পার অনন্ত ১০০ কল বেজেছে। শাহিনের কল রিসিভ করার সাহস হয়নি। মিডিয়াতে বিশ্বাস বলে কিছু আছে নাকি? তাও এই বোকা মেয়েগুলো কেন যে বুঝে নাহ? অর্পা উঠতি নাইকা। চলতি স্ক্যান্ডাল থেকে গাঁ বাচাতে শাহিনদের আমরাই সবার আগে২৪,কমএ ্নিজ থেকেই নিউজ স্কুপ নিয়ে এসেছিল। সেই থেকে টানা ৪৫টা নিউজ হয়েছে ওর উপর। প্রথম প্রথম পাবলিক খুব খেয়েছে। এররপর ওই হিন্দি সিরিয়ালের মত রাবার টানাটানি। সেও আর কত? শাহিনের নিজেরী বিরক্ত লাগছিল। এটা সে্টা এই কথা অই কথা বলতে অর্পা রোজ কল করতো,দেখা করতো। এরমাঝেই হঠাৎ তানভিরের লোভনিয় সেই অফার। শাহিন অনেক ভেবেছে। তানভিরের কথাই ঠিক এই উঠতি নাইকাগুলোর সেই লেভেলের প্রবলেম আছে। তানাহলে যেই মেয়ে এতো বড় স্ক্যান্ডাল থেকে উঠলো সে আবার নতুন কিছুতে কি করে জড়ায়? শাহিনকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। চারদিন ডেটিং, ৪৫টা ফলোয়াপ,মাস দেড়েক নিয়মিত কথা! এইতো! তানভির তার কথা রেখছে। নিউজটা অনলাইন যেতেই এলিয়্যন-জি-২০১০ মেরুন কালার, বাসার নিচে হাজির। মেরুন রিয়ার প্রিয় রং। এইসব ভাবতে ভাবতেই নুরুল টোকা দিল দরজায়, স্যার চা আনছি। হুমম রেখে যাও। শাহিনের নিজের উপরি খুব রাগ হল। এতো ভাবার কি আছে? এখন এমনি সময়, উপরে উঠতে হলে কারো ঘারে পাড়া দিতেই হবে।সংসার বড় কঠিন জিনিস! আমরা বাস করছি একটা ভানের মাঝে দিয়ে। সবাই ভান করছি, নিজের সাথে,পরের সাথে,সমাজের সাথে, দেশের সাথে। আসলে বেচে থাকাই তো একটা ভান। যে হুজুর দ্বিনের তালিম দেন তিনিই আবার রাতের পরি খোজেন। পৃতিতুল্য শিক্ষক মেয়ে শিশুতে যৌনতা খুজেন। জামাতিদের ফাসি চাই, মুনাফিকদের এই বাংলায় ঠাই নাই, বলে যারা মুখে থুতু জমান তাদের অর্থদাতা আবার সেই ইসলামী ব্যাংক! জংগিবাদ নির্মুল কর বলে, সরকার নিজেদের ক্যাডারদের গুদামে লুকান। এইভাবেই সব চলছে। শাহিনের ভাবনায় আবার ছেদ পরে দরজায় টোকা শুনে, শাহিন ভাই আসবো? এসো নিরব। বিকেলের ফলোয়াপটা রেডি করতে বলেছিলেন, একবার কি দেখবেন? নাহ। নিরব, সিলেটের ইস্যুতে আমাকে কে আসিস্ট করছে? রাব্বি করছে , শাহিন ভাই। ওহ! হুমম। যাচ্ছেন যখন তখন ঘুরে আসুন না কয়েকটাদিন। আমি এইদিকটা দেখবো। হুমম, দেখি। ওকে নিরব এখন বের হব। রাব্বি ছেলেটা কি এসেছে? জি, এসেছে। ওকে তাহলে আমি বেরুব।
শাহিন তিনদিন হল সিলেটে, এইখানকার স্থানিয় এমপির স্ক্যান্ডাল কভার করতে এসেছে। বিরাট ঝামেলা। প্রভাবশালি লোক, কেউ মুখ খুলতে চায় না। কাজ তেমন কিছুই আগায়নি! শাহিনের মোবাইলটা বেজে উঠলো, স্ক্রিনে নিরবের নাম ভাসছে। তুলতেই বলল ,শাহিন ভাই সেই একটা স্কুপ আসছে!! তাই নাকি? আরেহ, হ্যা। শাহিন শব্দ করে হেসে উঠলো, ওকে ফাটিয়ে দাও...হ্যা হ্যা হ্যা।
শাহিনের ঘুম ভাঙলো প্রচন্ড গরমে। এমন হতচ্ছাড়া হোটেল যে সন্ধার পর ইলেকট্রিসিটি থাকে না। শাহিন বিরক্তি নিয়ে উঠে বসলো। ্জানলাগুলো খোলা দরকার। তার আগে মোবাইলটা দেখতে হবে,চার্যে ছিল। মোবাইল হাতে নিতেই দেখলো ৩১টা মিসকল!! নিরব,মিলন,দিপন ভাই...অফিসের সবার কল?? রিয়া? রিয়াও কল দিয়েছে!! ৪টা মেসেজও দেখা যাচ্ছে। কি মনে করে শাহিন মেসেজ ওপেন করলো্‌,...অর্পা?? অর্পার মেসেজ!! শাহিনের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ... টিট ফর ট্যাট... হ্যা হ্যা হ্যা... দ্বিতীয় মেসেজে লিখা কেমন হয়েছে নিউজটা? আপনার আদরের রিয়াকে চিনতে পারছেন?? নিউজটা কিন্তু আপনার মতই করা...হ্যা হ্যা হ্যা...... শাহিনের মাথা ঘুরতে লাগলো। রিয়া আমার ছোট্ট রিয়া? নাহ! নাহ!
পৃথিবীর সব পাপ বুকে নিয়ে অর্পারা ভালো থাকে।
নতুন কোন কাহিনী, নতুন শিরোনাম।
ক্ষনিকের মোহে শাহিনরা সব হারায়...
রিয়া নামের ছোট্ট কুড়ি অকালে ঝড়ে
পাপের শাস্তি সে বড়ই নির্মম,বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে, তলিয়ে নিতে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×