
গত বুধবার বিকেলে মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দীন কলেজের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে তাঁর বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালাতে থাকে। তখন জনতা ধাওয়া করে ফাহিমকে আটক করে পুলিশে দেয়।
এরপর যেগুলো আমরা জানতে পারলাম-
১)ফাহিম শিবির করতো ।একটা কোচিং সেন্টারের সাথে নাকি যুক্ত ছিলো।তার পকেটে ঢাকায় শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিংয়ের চাবি রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
২) একদিন পর কাহিনী গেলো ঘুরে।এবার তাকে বানানো হলো হিযবুত তাহ্রীর।মাদারীপুর পুলিশ বলছে, সেখানকার কলেজশিক্ষককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিম (১৯) নিষিদ্ধ আরেক সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে যুক্ত।
এবার হত্যা মিশনে হিযবুত তাহ্রীর?
৩)সে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্র। সে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিমের শেষ পরীক্ষা ছিল গত ১২ জুন রসায়ন দ্বিতীয় পত্র। ১১ জুন সে দক্ষিণখানের ফায়েদাবাদ এলাকার বাসা থেকে বের হয় টঙ্গীতে এক বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে। পরদিন পরীক্ষা থাকলেও সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই ‘নিখোঁজ’ ফাহিম গত বুধবার প্রকাশ্যে এলো জঙ্গি কায়দায় শিক্ষককে খুন করতে গিয়ে ধরা পড়ে।
পরীক্ষা না দিয়ে ‘নিখোঁজ’ ফাহিম হত্যা মিশনে
অর্থাৎ একজন মেধাবী জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্র কাউকে কোনো কিছু না বলে হটাৎ পরীক্ষা বাদ কোপাতে গেলো!!!যেন সবকিছুর আগে কোপানো ছিলো তার আসল কাজ। অথচ এর আগে কেউ তাকে খারাপ কিছু তার ভিতরে দেখে নাই। শ্রেণি শিক্ষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আফরিন আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওর খারাপ কিছু কখনোই দেখিনি। কথাও কম বলত। রসায়ন দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার আগে ওর মা ফোন করে জানান ওকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন পরীক্ষার হলে খোঁজ নিয়ে দেখলাম নেই। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষাও অংশ নেয়নি। ফাহিম ছাড়া সব ছাত্রই পরীক্ষা দিয়েছে।
৪) এরপরে ঘটনা সবারই জানা।সে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ করে মারা গেলো।
৫) এখন নানা জনের নানা বিশ্লেষন। শুধু ৩টা বিশ্লেষন এখানে দেই।
এই আশংকাটাই করছিলাম। শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলাকারী ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে খুন করা হলো। এখন আর কোনো প্রমাণ নেই সুতরাং নানা কাহিনী চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। কেউ ধরা না পড়লে যথারীতি অনেক গল্প শুনতাম, কিন্তু গোল বাঁধিয়েছে এলাকার মানুষ ফাহিমকে হাতে নাতে ধরে। পুরোটা না পারলেও ফাহিম কিছুটা সূত্র দিতে পারতো নিশ্চয়ই। যারা ফাহিমের মতো কিশোর তরুণদের গুম করে এসব অপারেশনে যেতে বাধ্য করে তাদের পক্ষে এরকম অবস্থায় বসে থাকলে চলে না। Anu Muhammad স্যারের ফেসবুক থেকে।
•
তবে কি ফাহিম গনগ্রেফতারে গ্রেফতার হয়ে পুলিশের ট্রেপেই জঙ্গি হলো? ফাহিম উত্তরা হাই স্কুলের ছাত্র হয়ে কি করে মাদারীপুর গেলো? এই এসাইনমেন্ট কাদের? কেন এমন করে একটা জীবনে চলে যেতে হলো? ফাহিমের বাবার দাবী ফাহিম পরীক্ষা শেষে বন্ধুর বাসায় যাবে বলে বের হয়ে নিখোঁজ এবং এ ব্যাপারে জিডিও করা ছিলো? তবে কি বাবুলের স্ত্রীকেও একই ভাবে পুলিশই হত্যা করেছিল বলেই ম্যাসেজ এসেছিল, কালিমন্দিরের সিসি ক্যামরার ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছিল এবং কর্তব্যরত কনস্টেবল ঐদিন আসেই নাই? মিতু হত্যার ধারাবাহিকতাই কি ফাহিমকে ক্রসে মরতে হলো? Fasiul Alam এর ফেসবুক থেকে।
• কাহিনী বুঝতে কি দিল্লি যাওয়া লাগবে?
ফাইজুল্লাহ ফাহিম চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিমের শেষ পরীক্ষা ছিল গত ১২ জুন রসায়ন দ্বিতীয় পত্র। ১১ জুন সে দক্ষিণখানের ফায়েদাবাদ এলাকার বাসা থেকে বের হয় টঙ্গীতে এক বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে। পরদিন পরীক্ষা থাকলেও সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেই ‘নিখোঁজ’ ফাহিম গত বুধবার ১৫ জুন জঙ্গি কায়দায় শিক্ষককে খুন করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে এবং পুলিশ তার মুখ বন্ধ করার জন্য ক্রস ফায়ার নাটকে হত্যা করে।
আগামী কাল আপনাকেও সরকারী গুম বাহিনী তুলে নিয়ে যাবে, মাস খানেক ধরে চলবে তুমুল নির্যাতন, তারপরে কোন এক হিন্দু শিক্ষক কিংবা খৃস্টান দর্জিকে হত্যার বিনিময়ে আপনাকে মুক্তি দেয়া হবে।
যদি ভালোভাবে হত্যা মিশন সমাপ্ত করতে পারেন তাহলে পাবেন মুক্তি, পুলিশ আপনাকে ধরবেনা। আর যদি জনতার হাতে ধরা পড়েন তাহলে আপনিও এভাবেই ক্রস ফায়ারে নিহত হবেন।
Shamim Reja এর ফেসবুক থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




