somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ে বিভ্রাট

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বিয়েটা ঠিক হয়েই গেলো।
এসেছিলাম অবশ্য পাত্রী দেখতে,কিন্তু এবার মনে হচ্ছে বিয়ে করেই বাড়ি ছাড়তে হবে।আমার দাদা এবং নানা উভয় বংশের মধ্যেই কাকতালীয় ভাবে একটা মিল রয়েছে,সেটা হচ্ছে যেকোন কাজেই তাদের খুব তাড়াহুড়ো।আমার নানা এবং বাবা উভয়েই নাকি পাত্রী দেখতে গিয়েই বউ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।শুনেছি বড় মামার জন্ম নাকি সম্ভাব্য তারিখের একমাস আগেই হয়েছিলো।আর বেচারি ফুপু পরীক্ষার সময় তাড়াহুড়ো করে যেতে গিয়ে নাকি অ্যডমিট কার্ড বাসায় ফেলে গেছিলেন,সেবারে আর তার মেট্রিক পাশ করা হয়নি।এরকম আরো অনেক গল্প আছে,সবই যে আমি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি এরকম না।এসব গল্পের কারণে আমাদের পরিবারের এলাকায় অন্যরকম নাম ডাক আছে।বেশিরভাগ গল্পই আমি লোকমুখে শুনেছি।আমার পরিবারের এইসব উদ্ভট আচরণের ভুক্তভোগী হচ্ছি আমি আর ছোটমামা।আমার ছোটমামা একটু অদভুত ধরনের মানুষ।বয়সে আমার থেকে বছর পাচেকের বড় হবেন তাই তার সাথে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মতই।আমার আর ছোটমামার মধ্যে অনেক বৈশিষ্ট্যের মিল ছিল তাই পরিবারের সবাই আমদের মানিক-জোড় বলত।আমাদের এসব উদ্ভট আচরণ একটুও ভালো লাগতো না।দুই মামা-ভাগ্নে মিলে তাই প্রায়ই প্ল্যান করতাম কিভাবে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
তো সেদিন আমরা সবাই গেছিলাম ছোটমামার জন্য পাত্রী দেখতে।যথাসময়ে পাত্রী এলো,আমাদের পরিবারের সবাই কথা বললো,শুধু আমি আর ছোটমামাই চুপচাপ ছিলাম।এর মধ্যে একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটে গেলো।পাত্রীপক্ষের নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে,তাই তারা ছোটমামা নয় আমার সাথেই বিয়ে দিতে আগ্রহী।তাদের কথা শুনে তো আমার মুখ হা হয়ে গেল,আমি চোখ বড় বড় করে মা আর বড়মামার দিকে তাকালাম তাদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য।তাদের দেখে মনে হলো যেন কিছুই হয় নি।তারা বেশ সাচ্ছ্যন্দেই এই সুদ্ধান্ত মেনে নিল আর আমার মাথার উপর যেন বাজ পড়লো।আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম ছোটমামার দিকে আর ছোটমামা ঘড়ের সিলিং্যের দিকে।আমার পরিবারের লোকজনের মতিগতি আমার কাছে ভালো ঠেকলো না,মনে হচ্ছে তারা আমাকে বিয়ে করিয়েই এখান থেকে নিয়ে যাবে।আমি ছোটমামার হাত ধরে একপ্রকার জোর করেই সেখান থেকে বের হয়ে ছাদে গেলাম।প্রায় কাদো কাদো কন্ঠে মামাকে বললাম,
-“মামা,তাড়াতাড়ি কোন বুদ্ধি বের করো নাহলে আমি কিন্তু এই ছাদ থেকে লাফ দেবো বলে দিচ্ছি”
-“আরে থাম,একটু ভাবতে তো দে।“
-“রাখো তোমার ভাবাভাবি।যা করার দ্রুত করো নাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।“
-“না না,তোর এই মামা বেঁচে থাকতে তোর কিচ্ছু চিন্তা করতে হবে না।“
-“হ্যা,তা হবে কেন,শুধু মামাকে বাকি রেখে বিয়েটাই করতে হবে।“
এবার মনে হয় মামা আসলেই ভাবনায় পরে গেলেন।মামা অবিবাহিত থাকতেই ভাগ্নের বিয়ে,না এযে বড় লজ্জার কথা!
মামা অনেকক্ষণ চিন্তা ভাবনা করলেন,তারপর হঠাতই বলে উঠলেন,”পেয়ে গেছি।”
আমি-“কি পেয়ে গেছো?”
মামা-“সমাধান পেয়ে গেছি।তুই এখানে থাক,আমি ভাইজানের সাথে কথা বলে শিওর হয়ে আসি বিয়েটা আজই হচ্ছে কিনা।“
-“মানে কি,তুমি কি বিয়ে ভাঙার প্ল্যান করছো নাকি বিয়ে করানোর প্ল্যান করছো?”
-“সেটা তোর মোটা মাথায় ঢুকবেনা।তুই এখানে থাক,যা করার আমিই করবো।“
এই বলেই মামা সেখান থেকে চলে গেলো।সেই যে গেলো ফেরার আর নাম নেই,এদিকে অন্ধকারে মশার কামড় খেতে খেতে আমার শরীরের রক্ত অর্ধেক শেষ।মিনিট বিশেক পরে আমি নিচে গেলাম।গিয়ে দেখি বিয়ের তোরজোড় চলছে।মাকে জিজ্ঞেস করলাম ছোটমামা কোথায়।মা বললেন সে নাকি কাজী আনতে গিয়েছে।কাজী নাকি খুব নামকরা হুজুর।ছোটমামার পরিচিত।এলাকায় খুব নামডাক আছে তার।সাথে নাকি জীন আছে,হাত দেখেই ভাগ্য বলে দিতে পারে।
ছোটমামা নেই শুনে এমনিতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল তার উপর মায়ের এই ফালতু গল্প আর সহ্য হচ্ছিল না।তাই তখনকার মত সেখান থেকে বিদেয় হলাম।
খানিকবাদেই কাজী নিয়ে ছোটমামা এসে পরলেন।আমি তাকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম হচ্ছেটা কি।মামা দেখেও যেন না দেখার ভান করলেন। বিয়ের কাজ শুরু করার জন্য আমাকে কাজী সাহেবের সামনে বসানো হলো।এর মধ্যে মেয়ের বাবা বললেন,”হুজুর ছেলের হাতটা একটু দেখুন তো,বিবাহ পরবর্তী জীবন কেমন কাটবে।“
হুজুর দীর্ঘসময় বসে আমার হাত উল্টেপাল্টে দেখে কপাল কুচকে চোখ নাচিয়ে বললেন,”ছেলের ভবিষ্যৎ ভালো,কিন্তু এই মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে হলে সাত দিনের মাথায় মেয়ের বাবার মৃত্যু হবে।আর আজকের এই বিয়ের আসর থেকে যদি মেয়েকে বিবাহ না করিয়েই উঠিয়ে নেয়া হয় তাহলে তিন দিনের মধ্যেই মেয়ে পাগল হয়ে যাবে।“
এই কথা শোনার পর সবার মুখ থেকে যেন রক্ত সরে গেল।পরিবেশটা একদম থমথমে হয়ে গেল।মেয়ের বাবা শঙ্কিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন।“তাহলে এখন উপায় কি?”
হুজুর একটা পান মুখে নিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে বসে বললেন,”উপায় একটা আছে।এই ঘরে আরেকজন অবিবাহিত ছেলে আছে যার ভাগ্যরেখার সাথে মেয়ের ভাগ্যরেখার হুবহু মিল আছে।সেই ছেলের সাথে বিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।“
তখন প্রায় সবাই একসাথে বলে উঠলো,”কে সেই ছেলে?”
হুজুর ছোটমামার দিকে ইশারা করলেন।ছোটমামা সঙ্গে সঙ্গে না বলে দিলো।তার জন্য মেয়ে দেখতে এসে ভাগ্নের বিয়ে দেয়ার ব্যাপারটায় সে নাকি অনেক অপমানিত বোধ করেছে তাই এই বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব না।সবাই তখন এক হুলস্থুল কান্ড বাধিয়ে ফেললো।মেয়ের আর মেয়ের বাবার জীবন রক্ষার জন্য সবাই ছোটমামাকে এই বিয়েটা করতে অনুরোধ করতে লাগলো।
এবারে আমি মামার চালটা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম।মনে মনে মামার বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারলাম না।হুজুরকে দিয়ে কিভাবে এত বড় মিথ্যেটা বলালো সেটাই আমার মাথায় আসলো না।আর মামার অভিনয় দেখে তো আমি হাসি চেপে রাখতে পারলাম না।শেষমেশ সবার জোরাজুরিতে ছোটমামা বিয়েটা করেই ফেললো।
ফেরার পথেঃ
মামাঃ”কি ভাগ্নে,কিরকম দেখালাম।সাপও মরলো অথচ লাঠিও ভাংলো না।“
আমি-“আসলেই মামা তুমি জিনিয়াস।“
মামা-“শুনেছি,তোর মামীর নাকি দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নি আছে বেশ সুন্দরিই।তা দেখবো নাকি তোর হিল্লেটাও হয় কিনা।“
আমি-“আগে তো কদিন ট্রেলার দেখতে দাও,তারপর নাহয় ফুল মুভিই দেখবো।“
এবারে মামা আর আমি দুজনেই হেসে উঠলাম।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×