somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তর্জাতিক নারীদিবস, ২০২১

০৮ ই মার্চ, ২০২১ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রতি বছর ৮ই মার্চ বিশ্বজুড়ে ভিন্ন আঙ্গিক থেকে আন্তর্জাতিক নারীদিবস পালিত হয় । এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে নারীর প্রতি সহিংস মনোভাব, ভ্রান্ত বা নেতিবাচক ধারণামুক্ত একটি স্বাভাবিক সুন্দর পৃথিবী পেতে প্রথমেই দরকার নারী এবং পুরুষের সম অধিকার এবং সমান সুযোগ। যে কারণে দরকার প্রতিটি নীতি নির্ধারণের টেবিলে পুরুষের পাশাপাশি একজন নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

কোভিড-১৯ প্যানডেমিক এখনো চলমান। এই বাস্তবতার নিরিখে ২০২১ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়, “Women in leadership: Achieving an equal future in a COVID-19 world,” মহামারী আক্রান্ত বিশ্বকে সচল করার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োজিত নারীর অবদান কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। ঐকান্তিক চেষ্টা আর অবদানের পরও নেতৃত্বে নারী কেন পুরুষের পাশাপাশি সমগতিতে এগিয়ে আসতে পারছে না- সেটার প্রতি আলোকপাত করাই এই বছরের নারীদিবসের মূল লক্ষ্য।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের রিপোর্টে দেখা যায়, নীতিনির্ধারণে নারীর ভূমিকা এখনো অনেক পিছিয়ে। কিছু পয়েন্ট এখানে উল্লেখ করার মত।

এক, বর্তমানে পুরো বিশ্বে বাইশটি দেশে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নারী নিযুক্ত আছেন, জাতীয় সংসদে আছেন ২৪.৯ শতাংশ। অগ্রগতির এই ধারা বজায় থাকলে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হিসেবে নারী এবং পুরুষের ভেতর সমতা আসবে আগামী ১৩০ বছরে।

দুই, কোভিড-১৯ এর প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে নারীর ভূমিকা উল্লেখ করার মত। স্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, তত্ত্বাবধায়কসহ সবক্ষেত্রে নারী সমানভাবে উপস্থিত থাকলেও তারা পুরুষের তুলনায় বিশ্বব্যাপী ১১ শতাংশ কম বেতন পাচ্ছেন।

তিন, ৮৭ টি দেশের কোভিড -১৯ টাস্কটিম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এদের মধ্যে মাত্র ৩.৫ শতাংশে লিঙ্গসমতা রয়েছে।

চার, কোভিড ১৯ মহামারিতে বিভিন্ন দেশে আমরা নারী নেতৃত্বের ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছি। এছাড়াও সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্যতা প্রতিষ্ঠায় বা পরিবেশগতসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তরু্ণরা স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করেছে। এখানে তারা ছেলে বা মেয়ে বলে নিজেদেরকে বিভাজিত করেনি। তবু দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বব্যাপী ৩০ এর নিচের বয়সী পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নারীর উপস্থিতির সংখ্যা এক শতাংশেরও কম।

উল্লিখিত কারণে এই বছর Generation Equality কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ বছরের ২৯ থেকে ৩১ শে মার্চ মেক্সিকো সিটিতে Generation Equality Forum
( https://forum.generationequality.org/about )শুরু হবে এবং ২০২১ সালের জুনে প্যারিসে সমাপ্ত হবে। এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দেশ থেকে নেতা, এক্টিভিস্ট, বক্তারা এক হবেন এবং লিঙ্গ সমতায়নের ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পরিবর্তিত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের জন্য আলোচনাসহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন। এই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করতে চাইলে রেজিস্ট্রেশন করুন। লিংক এখানে।

প্রতিদিন আমরা সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতভাবে সামিল হই। সোশ্যাল মিডিয়াতে হোক, টিভিতে বা বাস্তবে হোক- বিভিন্ন ঘটনা দুর্ঘটনা সম্পর্কে নিয়ত অবগত হই। কেউ সজোরে প্রতিবাদ করছি। কেউ সায় দিচ্ছি, কেউ না বলছি। কেউ নীরব থেকে সেটা নিয়ে নিজস্ব একটা মতামত নিজের ভেতর সৃষ্টি করছি। কোন না কোনভাবে আমরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি। যখন বুঝি, প্রচলিত আইনে বা নিয়মে সেটার সমাধান সম্ভব নয়, আমরা সেটার সংশোধন আশা করি, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। প্রতিদিন আমরা এইসব অসঙ্গতি নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলি? উত্তর হয়ত একটাই- আমরা বসবাসের জন্য একটি বেটার পৃথিবী চাই।

এই বেটার পৃথিবীর ধারণা আমাদের কাছে হয়ত অনেকটাই অস্পষ্ট। আমার থেকে আপনার ধারণাও হয়ত অনেকটা আলাদা। জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি ফোরাম সেই অস্পষ্টতা দূর করার জন্য একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্যহীন বিশ্ব গঠন একটি বৈশ্বিক আন্দোলন- নিজের অংশ গ্রহণের পাশাপাশি অন্যকে এতে উদ্বুদ্ধ করাও জরুরী।

Campaign: Act for Equal
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১১:৩৭
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু তৃপ্তি দেরীতেও আসে না=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০২

জানুয়ারী শেষের পথে। নতুন বাড়ীতে একমাস হয়ে গেল। এখনো গুছানো হয়নি। প্রতিদিনের নিয়ম কানুন অনেকটা পাল্টে গেছে। সকালে অফিসে আসার সময় এত তাড়াহুড়া বাপরে বাপ। রেডি হয়েও কাজ করি। ঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুঝে বলুন, হুজুর!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




শরীয়া আইন প্রয়োগ করতে শরীয়া আইন জানা বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী আর প্রশাসন দরকার। বাংলাদেশে শরীয়তী এতো সরকারী মানুষ কি আছে? আর, শরিয়া প্রয়োগ করার জন্যে যদি একটি রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় প্রফেসর ইউনুস সাহেবের নিকট খোলা চিঠি ( কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৬


মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
অন্তর্বর্তী সরকার,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

বিষয়: পে কমিশন বাস্তবায়ন ও সামষ্টিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বিকল্প সামাজিক প্রস্তাব।

আসসালামু আলাইকুম। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার শাসন আমল কেবল আইয়ুব খানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রলয়ংকরী সুনামি এবং প্রপাগান্ডা: সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছে উগ্র ইসলামপন্থি শক্তির হাতিয়ার

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১


"আমাকে গুম করেছিল হিটলার, গোরিং বা গোয়েবলস নয়। করেছিল সাধারণ মানুষই। প্রতিবেশী মুদি দোকানদার, দারোয়ান, ডাকপিয়ন, দুধওয়ালারাই এই কাজ করেছিল। তারা মিলিটারির পোশাক পরল, হাতে অস্ত্র নিল - আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার “হ্যাঁ”, দালালের “না”

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২

যতই বলুন “হ্যাঁ”,
চাঁদাবাজরা শুনবে না;
তাদের প্রিয় “না”—
অভ্যাস তো বদলাবে না।

যতই বোঝান “হ্যাঁ”,
বুঝতে তারা চাইবে না;
অনিয়ম আর দুর্নীতি
ছাড়তে তো রাজি না।

বলছে সবাই “হ্যাঁ”,
তবু তাদের “না”;
লুট-সন্ত্রাস না থাকলে তো
তাদের জীবন চলেনা ।

গণভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×