কালকে সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়ে গেল, আগামী ১ মাস শান্তি,সময়ই সময় তাই ভাবলাম পুরা সেমিস্টারে যত যত অদ্ভূত অনাকান্ক্ষিত ভালো খারাপ পরিস্থিতি দেখতে হয়েছে সব কিছু লিখে রাখি,,,যখন গ্র্যাজু্য়েশন করব,,,তখন এসব পড়ে ইউনিভার্সিটি লাইফের সব কিছু আবার মনে করতে পারবো
তো শুরু করি,আমাদের ইউনিভার্সিটির একটা নিয়ম হলো যদি সবকিছু ঠিক থাকে আর সরকারি ছু:টি না থাকে তাহলে যে মাসে ক্লাস শুরু হওয়র কথা সে মাসের ১৫ তারিখ থেকে ক্লাস শুরু হয়।সে হিসেবে এই বছরের প্রথম ক্লাসও জানুয়ারির ১৫তারিখে শুরু হয়। ভাগ্যের নির্ম পরিহাসে আমার সেদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ক্লাস ছিল,,,কারন আমার এডভাইসিং এর দিন এই অদ্ভূত কম্বিনেশন ই বাকি ছিল।মানে যখন ইউনিভার্সিটির ক্লাস শুরু হবে আমি তখন যাবো, আর যখন ইউনিভার্সিটির শেষ ক্লাস শেষ হবে আমি তখন ফিরবো





তো যাই হোক এখন যেহেতু মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই সেভাবে অভ্যস্থ হওয়ার মানসিকতা রাখলাম।জানুয়ারির মাসের ভোর ৬টা আসলে দেখতে কেমন জীবনের প্রথম ঐদিন ই দেখলাম,,আর বলতেই হয় সেটা দেখতে মোটেও ভালো না

।বাইরের ঠান্ডায় আমি জমে যাচ্ছিলাম,,হাত,নাক,কান, পুরা অবশ হয়ে গেছিলো আর আমাদের ক্যাম্পাস ভালোই খোলামেলা সেখানে যেয়েও শান্তি নেই চারিদিক থেকে বাতাস আসছিলো। তো যাই হোক প্রথম ক্লাসটা করে মনে হলো স্যার অনেক খাটাবে, উনি বলেছিলো আমি অনেক এ্যাসাইনমেন্ট দেই, আমি ফিল্ড ট্রিপে নিয়ে যাই সেটার উপর রিপোর্ট লিখতে হয়,, আমার তো শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেলো, এই বয়সে ফাউন্ডেশন কোর্সের জন্য এত খাটবো



।তো যাই হোক সাবজেক্টটা মজার ছিল, আমার টপিকগুলি ভালোই লেগেছে।প্রথম ক্লাস শেষ হয় ৯.৩০ এ এর পর ৪ ঘন্টার ব্রেক। বেশি ব্রেক আমি ইচ্ছা করেই নেই কারন সে সময় বসে পড়া যায়, বাসায় থাকলে অইভাবে পড়া হয় ন ,কিন্তু যেহেতু প্রথম ক্লাস সেদিনই ছিলো পড়ালেখা তো ছিলো না তাই খুব বোর লাগছিলো সেই সময়।কোনোভাবে ঘুরেফিরে প্রথম ব্রেক পার করলাম।এরপরের ক্লাসে যেয়ে খেলাম এক ধাক্কা আমরা যেই মিসের ক্লাস এত শখ করে নিলাম উনি নাকি রিজাইন করেছেন

উনার বদলে অন্য ডিপার্টমেন্টের স্যার আমাদের পড়াবেন। সেই স্যার যেহেতু প্রথম এই কোর্স নিচ্ছেন স্বভাবতই তার পড়ানোটা মোটেও ভালো লাগেনি। তিনি স্লাইডের লেখা ট্রান্সলেট করে একটা করে উদাহরন দিয়ে টপিক শেষ করে দিচ্ছিলেন, যেখানে যেই মিসের নেওয়ার কথা ছিলো তিনি খুব মজা করে পড়াতেন। সামারে যখন একটা ক্লাস ৩ ঘন্টা করে হত তখন কিভাবে সময় কেটে যেত আসলেই বুঝতাম না যাই হোক, সেই ক্লাসও শেষ হলো, আবার ২ ঘন্টা ব্রেক এর পরের ক্লাস ৫টায়

। আবার কোনোরকম কাটানোর পর ৫টায় ক্লাসে গেলাম ১০ মিনিট যায়, ২০ মিনিট যায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত গেলো, স্যারের আসার খবর নেই,,,পরে বুঝলাম ক্লাস হবেনা। চলে গেলাম বাসায়। পরের দিনের ক্লাসে তেমন কিছু হয়নি পরপর ক্লাস ছিল আর টিচারদেরও আমি আগে থেকে চিনতাম।সেটা ভালোমতোই কাটলো। আবার আসলো ৮-৬.৩০ রুটিন ঐদিন প্রথম ক্লাস করে আমি রীতিমত রেডি এই সকালের ক্লাস এ্ড ড্রপের দিন ড্রপ করে দিব এভাবে এত কষ্ট করে পড়ালেখা আমার কাজ না

, তো কোনোভাবে সব ক্লাস করে বিকালে গেলাম আবার ,সেদিনও ৩০ মিনিট পার করার পর স্যার আসলেন, আর বললেন বিকালে ক্লাস হবে না সেটার বদলে শনিবার হবে আমি তো মহাখুশি, তাহলে আর কোনো কষ্ট হবে না কোনোরকম ২ টা ক্লাস করে দুপুরে বাসায় চলে যাবো। তো যাই হোক শীতকালে এভাবেই কষ্ট করে করে সকালের ক্লাসগুলি করা লাগলো,,,নিজের ভাগ্য আর এডভাইসারকে অনেক দোষ দিতাম ব্রেকে বসে বসে,,,ধীরে ধীরে শীত কমতে লাগলো,,বসন্ত এসে গেলো আর সকালে ক্লাস করার মজাটা পেতে লাগলাম, তখন যাওয়ার পথে হাড় কাপানো বাতাস লাগতো না,,,অনেক সুন্দর উষ্ণ একটা বাতাস থাকতো সেই সকাল ৭টায় ,,, যেটা এখনো মনে আছে । যত সময় গড়াচ্ছিল তত পড়ালেখার চাপ একটু একটু করে বাড়ছিল, সবাই ক্লাস টেস্ট নিতে লাগলো, আর যেহেতু এবার থেকে সেমিস্টার ৪ মাসের বদলে ৩মাস হবে সবারই কোর্সশেষ করার তাড়া বেশি,,তারাও দৌড়ায় আমাদেরও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হত,,,যথারীতি সবার একসাথে মিড টার্ম নেওয়ার শখ জাগলো ,,পর পর ২ দিন ২ টা মিড-টার্ম পড়লো,,আর ২ সপ্তাহ ধরে তো মিড-টার্ম দিয়েই যাচ্ছিলাম।এত শত প্রেশারে আরো যুক্ত হলো একটা সাবজেক্টেরমিড মিস হয়ে গেলো সেটা কীভাবে কি করা যায় তার টেনশন

পুরা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমি ছিলাম পুরাই এলোমেলো অবস্থায়, প্রতিদিন নতুন কিছু ধাক্কা খাওয়ার জন্য মেন্টালি প্রিপেয়ারড হয়ে যেতাম।এত বাজে সময় জীবনে কোনোদিন আসেনি এখনো মনে পড়লে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে

।যাই হোক পড়ে সব মিডের নাম্বার দেখলাম, মোটামোটি ভালোই হলো, কিন্তু মাথায় তো মিস হওয়া মিড-টার্মই তখন পর্যন্ত ঘুরছিল কারণ সেই কোর্সের স্যার অনেকদিন ধরে ছুটিতে ছিলেন, মিড-টার্ম শেষ হওয়ার ১ সপ্তাহের মাথায় আবার সবার ক্লাস টেস্ট নেওয়া শুরু হলো আর আমি আবার প্রেশারে, এর মধ্যে জানতে পারলাম যেই কোর্সের মিড-টার্ম মিস করেছি ঐ কোর্স ইন্সট্রাক্টর অসুস্থ ,তাই উনি আর আমাদের পড়াবেন না ওনার বদলে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্যার যাকে আমি পুরা ইউনিতে সবচেয়ে বেশি সম্মান করি তিনি নিচ্ছেন আমাকে আর পায় কে






।উনি কিভাবে লিখলে বেশি মারক্স দেয় আমি সেটা জানি , আর সময় কম বলে উনি পড়াও কমিয়ে দিয়েছেন মজাই মজা

আবার মিডও নিবে বলেছে



তাই ঐ টেনশন থেকেও মুক্তি।
কিন্তু তারপরেও একটু স্বস্থির নিশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছিলাম না ৫টা কোর্স তার উপর ৩মাস সময়।প্রতিদিন একটা না একটা কিছু লেগেই থাকতো তার উপর শনিবারেও যেতে হত ৩ ঘন্টার ক্লাস করতে।একটা সময় এমন ছিল প্রতিদিন শুক্রবার দুপুরে বই একটু নাড়াচাড়া করে আল্লাহ্ আই কুইট বলে ঘুমিয়ে যেতাম আর ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্ মাফ করো বলে বই ধরতাম





।
এভাবে চলতে চলতে এপ্রিল মাস এসে গেলো, ৮তারিখ থেকে১২তারিখ পর্যন্ত
টানা ৫ দিন মিড টার্ম সহ ৬টা পরীক্ষা দিলাম এক একটা দিন এক এক টা বছর লেগেছিলো কিন্তু পরীক্ষার ২ ঘন্টা লাগতো কয়েক সেকেন্ড।অবশেষে আমার বহু প্রতীক্ষিত সেমিস্টার ব্রেক এসেই গেলো , কিন্তু খুব প্রেশারে যেহেতু ছিলাম , সবসময়ের মত ১০০% দিতে পারিনি তাই পরীক্ষাও আহামরি হয়নি। সবশেষে খুবই বাজে একটা সেমিস্টার ছিল এটা যেটা যেতে যেতে আমাকে অনেক কিছু শিখালো। সবচেয়ে বড় উপলব্ধি ছিল:
১.এইচ.আর.এম আমার কাপের চা না কারন গ্রুপ ওয়ার্ক ম্যানেজ করা সম্ভব না।
২. ৫টা কোর্স করার মত যোগ্যতা এখনো আসেনি
যদিও অনেক কিছু পেয়েছি এই সেমিস্টারে , কিন্তু হারানোটাই বেশি এখনো রেজাল্টের কথা চিন্তা করার সাহস পাচ্ছি না। আমি এমন সেমিস্টার আর দেখতে চাই না
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:৩২