somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যাবর্তন

০৮ ই মে, ২০১২ রাত ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেইলর সুইফটের লাভ স্টোরির রিংটোনে ঘুম থেকে তাড়াহুড়ো করে উঠে গেল সামি, এই রিংটোন শুধু নিখিতার জন্য সেট করা যার কলের অপেক্ষায় সে রাত প্রহর গুনে আর যার কল আসলে দিন দুনিয়া ছেড়ে সেই কল রিসিভ করে।কল রিসিভ করার সাথে সাথে আহ্লাদি সুরে ঝাড়ি দিতে লাগলো নিখিতা," সকাল ১১টা বাজে দিনের আধা বেলা প্রায় শেষ,আর মহারাজা এখনো উনার শাহী বিছানা ছেড়ে শাহী নাস্তা শেষ করেননি....এই ছেলে তোমার সমস্যা কি?সারারাত ফোনে কথা না বললে কী হয়?এভাবে বেলা করে নাস্তা করলে যখন পারমানেন্টলি গ্যাস্ট্রিক হবে তখন তোমাকে টানবে কে?"

সামি ঘুমজড়িত আহ্লাদি গলায় বলতে লাগলো,"কে আবার, আমার নতুন বৌ!এত আদর যত্ন দিয়ে যাকে ঘরে তুলবো তার প্রতি কিছুটা আবদার তো থাকতেই পারে"
-আহারে শখ দেখে আর বাচি না,,জীবনে ঘরের কোন কাজ করলাম না আর বিয়ের পর রোগীর নার্সিং এর ডিউটি নিবো হুহ।"

-আমি তো তোমার কথা বলিনি আমি বলেছি আমার বৌ এর কথা যার পৃথিবী জুড়ে শুধু আমি আর যে আমার পৃথিবী জুড়ে, যে সবার আগে আমার কথা ভাবে আর যার ভাবনার শেষেও আমি, যা......হ্যালো!হ্যালো জান?"

লাইনটা ৩০সেকেন্ড আগেই কেটে দিয়েছে নিখিতা, সামি মুচকি একটা হাসি দিয়ে আবার কলব্যাক করলো,প্রথমবার যথারীতি কল কেটে দিলো, ২য় বার আবার কাটলো, ৩য় বারের কল করার সময় সামমি কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিল কারন সে নিখিতার স্বভাব জানে, যে রাগ তা সে উঠিয়েছে ঐ রাগ না ঝারা পর্যন্ত নিখিতা ঠান্ডা হবে না, যথারীতি ৩য় বারের কল রিসিভড হয়েই শুরু হলো ঝাড়ি
-"কি চাও এখানে?তোমার বউ এর ফোন কি বিজি? আমার সাথে টাইমপাস করতে এসেছো?!!!"
- "না তো জান আমার বউ তো রেগে ফায়ার হয়ে গেছে ঐ আগুন নেভাতে এসেছি নাহোলে আমার সুখের সংসার পুড়ে ছাই হয়ে যাবেতো।"
- "এখানে তোমার বউ থাকে না এটা তোমার এক্স গার্লফ্রেন্ডের নাম্বার"
-জানি তো, বৌ মানেই তো এক্স গার্লফ্রেন্ড ,বোউ কি আর গার্লফ্রেন্ড থাকে নাকি বিয়ের পর?তুমি যে জান কি বলো না হাহাহাহা।"
- দেখো সামি সবসময় ফালতু ইয়ার্কি আমার পছন্দ না।"
-"সবসময় কেনো বলো? আমি তো দেখি তুমি কোনোসময়ই ইয়ার্কি পছন্দ করো না। এমনিতে আমার কোনো শালা-শালী নেই, ঠাট্টা একটু করবো তো করবো কার সাথে?"
-"এমনিতে তুমি সারাদিন কাজে এত বিজি থাকো ,ঠিকমতো খাও না,সপ্তাহে একদিন একটু ছুটি পাও সেদিনতো রুটিন ফলো করতে পারো তাই না?তুমি অসুস্থ হলে আমার কী ভালো লাগে?"
-রুটিন তো ফলো করি,যার জন্য আমার এত পরিশ্রম তাকে সময় দেই, তার সাথে ২-৪টা সুখ-দুঃখের কথা বলি আর তার অদ্ভূত অনুপ্রেরনা থেকে আরেকটা ব্যাস্ত সপ্তাহ পার করার শক্তি পাই।"
-কে তোমার বউ?
-আর কে?
- আমি রাখছি
-জান জানো?তোমাকে জেলাস করে খুব ভালো লাগে,কারন যখন তুমি জ্বলো তখন সেখান থেকে তীব্র ভালোবাসার অদ্ভূত একটা স্মেল পাই যেটা আমাকে তোমার জন্য আরো পাগল করে দেয় ।
নিখিতার নীরবতা তার মুচকি হাসির উপস্থিতি সামিকে বুঝিয়ে দিল।
-অনেক হয়েছে অয়েলিং, আজকের মতো থাক নাহলে আমি হাটতে গেলেই স্লিপ কাটবো, যাও এখনতো খেতে যাও।
-আচ্ছা যাচ্ছি, খেয়ে কল দিব আবার।
এভাবেই চলে তাদের সকাল, কথায় কথায় ঝগড়া আর পরক্ষনেই ভালোবাসা। ৩বছর ধরে ভালোভাবেই চলছে তাদের সম্পর্ক, এখন তারা একে অপরকে যথেষ্ঠ বোঝে।আর একসাথে জীবনে চলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। তাদের পরিবার তাদের ব্যাপারে জানে।সামির বাবা-মা দেশের বাইরে থাকে,সামিও তাদের সাথেই থাকতো, ৫ বছর আগে ফেরৎ এসেছে বাবার ব্যবসা সামলাতে, এরপর দেশের মায়ার জড়িয়ে গেছে, আর ফেরৎ যায়নি, ৪ বছর আগে নিখিতার সাথে পরিচয় আর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা। সমস্যা একটাই, নিখিতার বাবা মা আলাদা থাকে ১৫বছর ধরে।নিখিতা থাকে বাবার সাথে, মা আলাদা থাকলেও নিখিতার সাথে যোগাযোগ থাকে , অদ্ভূত ব্যাপার হলো ১৫ বছর ধরে তার বাবা মা আলাদা থাকলেও কেউ ২য় বিয়ে করেনি, ২জনেরই একই যুক্তি সংসারের প্রতি বিরক্তি এসে গেছে , আর ২ জন গত ১৫ বছরে কেউ কারো মুখ দেখেনি। এসব কিছউ সামির বাবা-মা জানেনা , নিখিতা অনেকবার বলেছে বলতে কিন্তু সামি বলে দরকার কী? তাদের মেয়ে এত পছন্দ হলে মেয়ের ফ্যামিলি দিয়ে কি যায় আসে? কিন্তু নিখিতা সবসময় ব্যাপারটাকে ধোকা মনে করে ,মাঝে মাঝে নিজেরপরিবারের প্রতি বিরক্তি এসে যা্য আর তখন সামির কাধে মাথা রেখেই যেন সে রক্ষা পায়।মনে সব সময় এটাই চিন্তা, সামিকে সে পাবেতো?....সে তো সময়ই বলতে পারে

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১২ রাত ১:৪৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×