somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যাবর্তন -২য় পর্ব

২৩ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটু পরেই এনরিকের নাম্বার ওয়ান গানের রিংটোন বেজে উঠলো নিখিতার মোবাইলে ,এটা শুধু সামির জন্য সেট করা। ফোন ধরে নিখিতা বলে উঠলো,
-" এত তাড়াতাড়ি কি দিয়ে ব্রেকফাস্ট করলে?"
-"সিরিয়াল" তৃপ্তির সুরে বলে উঠলো সামি।
- " ৫ বছর হয়ে গেলো এখনো ওয়েস্টার্ন হ্যাবিট গেলো না"
- "ভালো হ্যাবিট না যাওয়াই বেটার। সিরিয়াল খেলে অনেক এনার্জি পাওয়া যায় , আর স্বাস্থ্যও ভালো থাকে , বুঝলা?"

-"হুম"
-"আচ্ছা শোন, যেটা বলার জন্য ফোন দিলাম,বাবা-মা আসছে সামনের মাসে, ৩-৪ মাস থাকবে, এর মধ্যে আমাদের বিয়েটা করিয়ে দিয়ে যেতে চায়। তো তুমি আংকেল-আন্টিকে জানিয়ে দিও"
-"সেটা তো আমাকে তুমি কালকেই বলেছিলে,আমার মনে আছে, আমি বিকালেই বাবাকে বলবো, আর রাতে মা কে ফোনে বলবো।আজকাল মা অনেক ব্যাস্ত থাকে নতুন প্রমোশন হয়েছে তো কাজের চাপ একটু বেশি।"
-"আরেকটা কথা,বাবা-মা কে তো তোমার ফ্যামিলির কথা বলিনি,তো এখন এইজন্য একটু প্রবলেম হচ্ছে, বুঝতেই পারছো, দে উইল এক্সপেক্ট ইউর পেরেন্টস টু বি টুগেদ্যার"
-" সামি দেখো আমি অনেক আগে তোমাকে বলেছিলাম সব জানাতে তুমি টাল বাহানা করে জানাওনি এখন কি করবো বলো?"
-" একটা কাজ করা যায়, আসলে ঐ একটা কাজই করার মত আছে,,আর প্লিজ জান না করো না , বি উইথ মি।"
-"কি?"
- " আমাদের বিয়ে পর্যন্ত তোমার মা-বাবা কে একসাথে থাকার জন্য কোনোভাবে রাজি করাও, বিয়ের পরে বাবা-মা তো আবার কানাডাতে চলেই যাবে, আর দেশে অত আত্মীয় স্বজনও নেই যারা এসব নোটিস করবে, এরপর দরকার হলে তাদের বুঝিয়ে বলা যাবে।আর."
আর থাকতে না পেরে নিখিতা বলে উঠলো,
-"এনাফ সামি! দিস ইস দা লিমিট!আমি সবসময় বলতাম আগে থেকে সব জানিয়ে দেওয়ার জন্য, তুমি আমার কথা শুনতে না।এতই যদি আমার ফ্যামিলি প্রবলেম তোমাকে বদার করে দেন জাস্ট লিভ মি। আমি কাউকে ধোকা দিতে পারবো না। তোমাকে যেমন প্রথম দিনেই আমি আমার বাবা-মায়ের কথা বলে দিতে পেরেছি, বাকিদেরও পারতাম বলিনি শুধু তুমি এটা ম্যানেজ করার দায়িত্ব চেয়েছিলে তাই।কিন্তু সেই দায়িত্ব যে এভাবে ম্যানেজ করতে চেয়েছ আগে বুঝিনি , বুঝলে তোমার আর আমার এত সময় নষ্ট করতাম না।"
- দেখো , আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো, বাবা-মা এটাকে নরমালি নিবে ,আমি সেটা জানি এজন্যই জানাইনি ঐভাবে, কিন্তু বিয়েতে কতরকম মানুষ থাকবে ,আমি চাইনা সবার সামনে তুমি বার বার ছোট হয়ে যাও, বুঝোই তো আমাদের সোসাইটি কেমন,মানুষের খুত ধরতে ওস্তাদ। একবার বিয়েটা করে নেই এরপর দেখা যাবে । বিয়ের পর তো আবার যে যে যার যার মতো থাকবে, তখন কী আর তোমার মা কে নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে?কিন্তু এখন সবাই খুজবে তাকে আর জনে জনে তোমার একি কথা বলতে হবে। আমি দেখেছি এসব বলার সময় তোমার চোখে কেমন একটা যন্ত্রনা থাকে, আমি সেটা বেশি সহ্য করতে পারবো না, এর চেয়ে এই অভিনয়ই ভালো। আর তোমার ফ্যামিলিও তো এই সুবাদে আবার পুরানো সেই দিনগুলি ফিরে পেতে পারে।এটা তোমার বাসার শেষ বিয়ে। এটাকে মেমোরেবল করে রাখা যাবে। দেখো এটাই ভালো। আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো।তোমার কথা না শুনলে আমাকে বলো আমি বুঝাবো। আমার জন্য এতটুকু করো , প্লিজ।

- আমি এখনো এটাকে ঠিক মনে করছি না,
- ট্রাস্ট মি, সব ঠিক মতো হবে , আজকেই আংকেল-আন্টির সাথে কথা বলো, রাতে আমাকে জানাও। আমার একটু বেরোতে হবে এখন, আমি রাখি ওকে?
-ওকে ,বাই।
ফোন রাখার পর থেকেই নিখিতার খুব অস্থির লাগছিলো। অস্থিরতা আরো বেড়ে গেলো যখন দেখলো তার বাবা পেপার পড়া শেষ করে রুম থেকে বের হয়ে নিখিতার রুমে আসছে। সাধারনত পেপারের সব খবর নিয়ে এই সময় ডিসকাস করা আরাফাত সাহেব মানে নিখিতার বাবার স্বভাব। সকাল সকাল তার বাবার মুড ভালো থাকে, এখনি কথাটা বলার মোক্ষম সময়, এই ভেবে নিখিতা বলার জন্য প্রস্তুত হলো। আরাফাত সাহেব এসেই বলা শুরু করলো,

-"মানুষ না বুঝে শেয়ারে এত টাকা ইনভেস্ট করে, এরপর যখন লস হয় তখন ভাংচুর আন্দোলন করে। আরে বাবা টাকা যখন আছে সেটা ব্যাংকে জমাও , এরপর নিজের ছোটখাটো একটা দোকান দিলেও তো পারো, আর নাহলে এফ.ডি করে রাখো ছেলে মেয়ের কাজে লাগুক,তানা করে বসে বসে প্রফিট খাওয়ার শখ জাগে, এখন দেখো মজা কাকে বলে।" "কী ব্যাপার তোমার চেহারা এমন কেন?ঐ অকর্মার ঢেকির সাথে আবার ঝগড়া করেছ?"

- "বাবা দেখো এসব বলো না তো"

- "তাহলে তোমার কী হয়েছে সেটা বলো"

- " সামির বাবা মা দেশে আসছেন"

- "ওহ, তো আমার টমবয় মেয়ে এর জন্য আবার নার্ভাস হয়ে গেছে নাকি?" বলে আরাফাত সাহেব নিখিতাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলেন।১৫ বছর ধরে একসাথে বাবা-মায়ের দায়িত্ব এই মেয়েটার জন্যই পালন করে এসেছেন, এর পরিবর্তে তিনিও নিখিতার কাছ থেকে বাবা-মা ২জনের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাও একাই পেয়েছেন , এই মেয়েটাকে দেখেই তো অতীতের দুর্বিষহ স্মৃতি ভুলে থাকতে পারেন, নাহলে সেসব স্মৃতি আজও তাকে বিষিয়ে তুলতো।আজ সে মেয়ে নিজের নতুন জীবনে যাবে এটা ভেবে তিনি যেমন খুশি ,তেমনি কিছুটা হলেও হতাশ তার মেয়ে তাকে ছেড়ে দূরে চলে যাবে, তার মেয়ের জীবনে সে ছাড়াও এখন ভালোবাসার আরেকটা মানুষ চলে এসেছে।একেই হয়তো জীবন বলে। এই ভাবতে ভাবতে নিখিতআর ডাকে আবার তিনি আনমনে ভাব থেকে ফিরে এলেন।

-বাবা,

- বলো।

- একটা কথা ,না ২টা কথা বলো তো

-কী কথা?

- মা এর চেহারা গত ১৫ বছরে একবারো কেন দেখোনি?কোন খোজখবর পর্যন্ত জানো না, এমনটা কেন?

- এতদিন পরে হঠাৎ একথা কেন?

- এমনি , কিউরিওসিটি।

- ভূত কি কেউ সেধে সেধে দেখতে চায় নাকি?১৫ বছর কেন আমি আমার বাকি জীবনেও কোন ভূত দেখতে চাই না,,,

-সবসময় ইয়ার্কি কেন কর?

-ওমা লেগেছে বুঝি?
- সিরিয়াসলি বলো না কেন?
- যে চলে গেছে তাকে নিয়ে চিন্তা কেন করবো?যে আমাকে তার জীবন থেকে আলাদা করে দিয়েছে সে তার জীবনে কী করছে সেটা ঘেটে দেখার মতো ছোট আমি হইনি। তোমার ১ম প্রশ্নের উত্তর এতটুকুই।পরের কথাটা বলো।
- আমার খুশির জন্য কি করতে পারো?
-যা করাটা অন্যায় না, আর আমার সাধ্যের মধ্যে সেটা আছে এমন সব কিছু সেটা যদি আমার জন্য খুব কঠিন হয় তবুও তোমার জন্য আমি করবো সেটা মাই প্রিন্সেস।

- তাহলে ৩-৪মাসের জন্য কী আবার সেই ভুতের সাথে একটু থাকতে পারবে?ফর দা সেক অফ ইউর প্রিন্সেস?হার হ্যাপিনেস?

- মানে!!!!কী বলছো এসব?

- সামির মা-বাবা তোমাদের বিষয়ে জানে না,আমি জানাতে চেয়েছি
কিন্তু ও মানা করেছিল, বলেছিলো ওর মতো করে বুঝিয়ে বলবে কিন্তু এখন বলছে বিয়ের সময় হাজার মানুষের কথা শোনার চেয়ে একটু নাহয় শো অফ ই হলো। তাই বলছিলো যে...
-"হোয়াট রাবিশ!" নিখিতার কথা শেষ হওয়ার আগেই চেচিয়ে উঠলো আরাফাত সাহেব, "এসব কি ছেলেখেলা নাকি? কোন লজিকে এমন কথা তোমার মাথায় আসলো?"

-"বাবা আমি অনেক বলেছি কিন্তু ও বলছে এটা করলে আমার কারো সামনে ছোট হতে হবে না, ও এজন্যই চাচ্ছে আর খুব বেশি জোরাজোরি করছে, নাহলে আমি তোমাকে এটা বলতাম না বাবা। আমি জানি তুমি কতোটা বিরক্ত এই ব্যাপারে,কিন্তু সামি কে না করাটা আমার জন্য একটু কঠিন এজন্যই না পেরে বলে ফেললাম। স্যরি বাবা তুমি যা চাইবে তাই হবে। তুমি সারাজীবন আমাকে খুশি ছাড়া কিছু দাওনি, আমি তোমাকে মোটেও এত কষ্ট দিব না , স্যরি।"
নিখিতা খুব বিব্রত হয়ে মাথা নিচু করে চলে গেল।কিন্তু আরাফাত সাহেব একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন।নিখিতার মায়ের চেহারা সে কোনোভাবেই দেখতে চায় না, কিন্তু নিখিতা যে সামিকে কতোটা ভালোবাসে সেটা তিনি জানেন, আর সামি যা বলেছে সেটা নিখিতার সম্মান বাচাতেই তো বলেছে, নিখিতা কারো সামনে ছোট না হোক এটা আরাফাত সাহেবও চান, কিন্তু তাই বলে আবার মিরা!!! নাহ্ এটা সম্ভব না। যে মানুষ তার ভালোবাসাকে নিজের স্বাধীনতার হাতকড়া ভেবেছে, নিজের ইগো, জেদ কে নিজের সংসার এমনকি নিজের অবুঝ সন্তানটির চেয়ে যে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে এত স্বার্থপর মহিলার চেহারা সে দেখতে চায় না, কোনভাবেই না।কিন্তু মিরার কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটা আঘাত, প্রতিটা চাপা কষ্টের একমাত্র প্রতিকার ছিলো নিখিতা, যতবার মিরার কথা ভেবে তিনি ভেংগে পড়েছেন, জীবনকে মূল্যহীন ভেবেছেন, প্রতিবারই নিখিতার আদরমাখা ভাংগা ভাংগা কথা তার মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তার নিষ্পাপ চেহারা দেখে তিনি আবার উঠে দাড়ানোর প্রেরনা যুগিয়েছেন, তার হাসি জীবনকে গতিশীল রেখেছে, তিনি বুকে সংসার ভাংগার কষ্ট নিয়েও আজ যে সুস্থির জীবন টা তিনি কাটাচ্ছেন এটা তো নিখিতারই দেওয়া, আর সেই মেয়েটার খুশির জন্য, ভালোর জন্য এতটুকুও কষ্ট মেনে নিতে পারবেন না আরাফাত সাহেব?!তাহলে আর তিনি কেমন বাবা? নিজের জীবনের কালো ইতিহাসকে আবারো বর্তমানে টেনে আনতে হবে, কিছুদিনের জন্য জীবনের সেই বেদনাদায়ক মুহুর্ত আবারো জীবন্ত হয়ে উঠবে, আবারো কারো অবহেলা আর স্বার্থপরতার অশুভ ছায়ায় জীবনকে কিছুদিনের জন্য আচ্ছন্ন করে রাখতে হবে! হোক, নিখিতার জন্য করবেন তিনি। আর উনার আবেগ এখন আর আগের মতো এত দৃঢ় , এত তীব্র নেই , অতীতকে তিনি বহু আগেই কাটিয়ে উঠেছেন , এখন তিনি তার সাবেক স্ত্রীর সাথে না বরং তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, তার একমাত্র সন্তানের মায়ের সাথে লোক দেখানো কিছু মুহূর্ত কাটাবেন , যেখানে কোন অনুভব বা ভালোবাসার কোন প্রয়োজনই নেই। তাই এত অপ্রস্তুত হবার কিছুই নেই। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আরাফাত সাহেবের ফোন বেজে উঠলো। অচেনা নাম্বার দেখে ভ্রু কুচকে কলটা রিসিভ করতেই খুব পরিচিত একটা কন্ঠ ভেসে আসলো। যা শুনে আরাফাত সাহেবের রক্ত চলাচল বেড়ে গেল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটা মিরার কন্ঠ! কিন্তু নিজেকে খুব তাড়াতাড়ি সামলে নিলেন। স্বাভাবিকভাবে বললনেন, "হ্যালো"
কিছুক্ষন চুপ থেকে মিরা মানে নিখিতার মা বলে উঠলেন,
- " নিখিতা কি বলেছে সামির বাবা মা যে দেশে আসছে?"
- " হ্যা বলেছে "
- "আর কিছু বলেছে?কোন ক্রাইটেরিয়া অর সামথিং লাইকে দ্যাট ?"
- "ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলার হ্যাবিট যাবে না তোমা.... আপনার তাই না? আপনি আমার মেয়ের থেকে এত দূরে থেকে আপনি জানেন সব আর আমি কিছুই জানবো না? জানেন না আমার মেয়ে সবকিছু সবার আগে আমাকে সব বলে?" বিরক্ত হয়ে খুব কড়াভাবে বললেন আরাফাত ।
- " আপনার পেশেন্সের কোন উন্নতিই হলো না, কিছু মানুষ আসলে জীবনেও পাল্টাবে না, ৫ বছরেও না, ১৫ বছরেও না এমনকি ৫০বছরেও না।" মিরাও খুব উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন।
আরাফাত এবার আরো কড়া করে কিছু বলতএই যাচ্ছিলো হঠাৎ মনে পড়ে গেল তিনি এখন ১৫ বছর এএগিয়ে গেছেন, এখন এভাবে ঝগড়া করা কোনভাবেই মানায় না। তাই নিজেকে সামলে বলে উঠলেন,
- "দেখুন আপনিও সব জানেন আমিও সব জানি, আর এতদিন পরে আপনি কেন ফোন করেছেন আমি তাও জানি, বিষয়টা খুব অস্বস্থিকর,ইন ফ্যাক্ট আমি নিজেও ভেবে খুব বিরক্ত হচ্ছি এসব ভেবে,কিন্তু নিখিতা আমার একটা মাত্র মেয়ে, আমাদের অপরাগতার শাস্তি আমি আমার মেয়েটাকে দিতে চাই না। তাই আপনার যদি আপত্তি না থাকে আপনি কিছুদিনের জন্য আমাদের বাসায় আসতে পারেন। " এক নি:শ্বাসে বলে ফেলেন তিনি।
- " সামির সাথে এই ব্যাপারে একটু আগে কথা হয়েছে। প্রথমে আমিও রাজি ছিলাম না, কিন্তু আমার মেয়েটার জন্য আমি কিছু করতে চাই, ওর জন্য কখনোই কিছউ করতে পারিনি, ওর বিয়ে নিয়ে ওর জন্মের পর থেকেই অনকে কিছু ভেবে রেখেছিলাম। এখহন যদি সে সুযোগ আমি পাই তাহলে আমার সমস্যা নেই বরং আমি খুশি হবো। হোক না সেটা এমন কিছু যা আমি কখনোই কল্পনা করিনি । "

"এজ ইফ আই এক্সপেক্ট ইউ এভরিডে" মনে মনে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন আরাফাত। এরপর একটু শুকনো হেসে বললেন, " তো ঠিক আছে আপনি কবে আসতে চান? গাড়ি পাঠাবো?"
- ' কালকে অফিস থেকে চলে আসবো , আর গাড়ি লাগবে না আমার ড্রাইভার দুপুরে আমার লাগেজ দিয়ে যাবে। নিখিতাকে বলে দিয়েন, ও এই ব্যাপারে জানে না কিছু। '

- "নিখিতা জানে না মানে?"
- " সামি বললো আপনাকে সব বলার পরে আপনি নাকি খুব আপসেট হয়ে পড়েছিলেন , এটা দেখে আপনার মেয়ে এত ভালো একটা ছেলে কে ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলো, ইন ফ্যাক্ট এখনো ওর সাথে যোগাযোগ করছে না সে। তারপর সামি আমাকে সব বললো। যদি পারেন তো আপনার মেয়েটা কে একটু বুঝিয়ে দিয়েন।এত জেদ আর একরোখামি তো ভালো না।"
- ' আমি কিভাবে বুঝাই? জেদ তো সে অন্য কারো কাছ থেকে ইনহেরিট করেছে।"
- "এক্সকিউজ মি?"
- " কিছু না, ঠিক আছে আমি বুঝিয়ে বলবো।"
- "ঠিক আছে রাখছি তাহলে।"
- "ঠিক আছে"
ফোন টা রেখে আরাফাত সাহেব বারান্দায় দাড়ালেন, মনে মনে মনের অজান্তেই অপেক্ষা করছেন পরবর্তী দিনের।

( চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৩১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×