ঘুম থেকে উঠলে আমার ৫-১০মিনিট মাথা ভার থাকে, তখন ঠিকমত মাথা খুব একটা কাজ করেনা।এজন্য ঘুম থেকে উঠেই যখন দেখলাম যে ফেসবুকে আমার কিছু সমাজসেবক বন্ধু ইন্ডিয়ান মেয়েটি মারা যাওয়ায় মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেছে তখন কিছুক্ষনের জন্য মনে হলো, আমি মনে হয় ইন্ডিয়ায় আছি, এরাও বোধহয় ইন্ডিয়াতেই ইভেন্টটা এ্যারেন্জ করেছে, নাহলে বাংলাদেশে এত মেয়ের রেপ হয়, রেপের পরে হত্যা হয়, খুনি গায়েব থাকে, কখনো বা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, সারি সারি মোমবাতি তো দূরের কথা, একটা ম্যাচের কাঠিও তো কোন একজনের জন্য জ্বালাতে দেখলাম না, আর অন্য দেশের মেয়ের জন্য এত টান? কিছুক্ষন খুব এলোমেলো লাগছিলো সবকিছু, একটু পর মাথা যখন কাজ করা শুরু করলো, তখহন ভাবলাম এমনটা হওয়া খুবই স্বভাবিক। আমাদের দেশে এসব ঘটনার পর ভিক্টিমদের জন্য যখন পেপারের একটা কলাম খরচ করা সম্পাদক প্রয়োজন মেন করে না, খবরে প্রচার করা মিডিয়া জরুরি মনে করে না, এদের শাস্তি চেয়ে বিক্ষোভ করতে সময় নষ্ট করা আমরা সাধারন জনগণ দরকার মনে করিনা, সেখানে তাদের জন্য তাদের হয়ে এত মোমবাতি নস্ট করে শীতের সন্ধ্যায় দাড়িয়ে থাকবেই বা কেন কেউ? মানলাম মেয়েটার সাথে অনেক পাশবিকতা হয়েছে, আমি প্রথমদিন শুনে ঐদিন ঠিকমত কিছু খেতে পারিনি। কিন্তু এসব একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে, মানবতাই যদি এই মানববন্ধনের মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তাহলে জাপানি তরুনি Junku Furuta কে নিয়ে তো কখনো কোন বাংগালীর কাছ থেকে কিছু জানলাম না, পাশবিকতা কতটা ভয়ানক হতে পারে আমি সেটা তার ব্যাপারে জানার পর থেকে বুঝতে শিখেছি। আমাদের মানবতা শুধু ইন্ডিয়ার দামিনি আর পাকিস্তানের মালালা পর্যন্তই সীমিত। এর বাইরে গেলে আমাদের নিউট্রালিটি শুরু হয়, আর নিজের দেশের সবকিছু হলো ডালভাত, কমন ডায়ালগ, এটা তো হবেই, কত হয় এখানে, এতদিন এধরনের এ্যাটিটিউড হাস্যকর লাগত, এখন বিরক্তিকর লাগে। যতই বলুক এই মানববন্ধন সব ভিকটিমদের জন্য করা হয়েছে,এটা যে কেউই বুঝবে দামিনী মারা যাওয়ার পরেরদিন যে মানববন্ধন করা হয় সেই মানববন্ধনের কেন্দ্রে দেশে ২-৩মাসের নানান নির্যাতনের শিকার মেয়েরা থাকতে পারে না। এতটা মূর্খ ভাবাটাও উচিত না কাওকে। এটা খুবই প্রশংসনীয় কথা যে একটা মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া নির্মমতাকে আমাদের দেশ থেকেও নিন্দা জানানো হচ্ছে , আর সেই মেয়েটিকে পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানো হচ্ছে, কিন্তু আমার মনে তখন এই মানববন্ধনের উদ্যোক্তা আর অংশগ্রহনকারীদের প্রতি সম্মানবোধ আসতো যখন দেখতাম আমাদের স্বদেশী বোন সাজিয়া, টাংগাইলের সেই বোন, অতীতের সিমি, এবং আরো প্রত্যেকটা ভিকটিমের জন্য একইভাবে তারা মানববন্ধন করতো। পরদেশি মানুষের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশের পূর্বে স্বদেশি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকাটাই মুখ্য আমার মতে। আমি আমার পজিশন থেকে সেই অতিরিক্ত ভারতদরদী বন্ধুদের আনফ্রেন্ড করা ছাড়া আর কিছু পারলাম না, জানিনা সামনে আর কি কি দেখা বাকি আছে। কোনদিন না জাতীয় সংগীতের নামে জন গন মন... অথবা পাক সার জামিন .... শুনতে হয়
মনে হয় ইন্ডিয়ায় আছি
দরদ তো বেয়ে বেয়ে পড়তে পড়তে বন্যা হয়ে গেলো!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৪৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ভাঁট ফুল
ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন
খাজনা

মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!
লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।