
১।
কোন জনারণ্যে শুনিনি সহসা সহিসের ডাক
মৃদ্যুবায়ুর বিপরীতে জংলার সমাচার, শুধু পুরানো এক আশাভেদী
নি:শ্বাস বলে যায়- ক্ষতির তল্পায় আজ অজানা সাহস, যা প্রতিবাদেরও গরম আকাশ।
তুমি পাখি হয়ে সে আকাশে কিছুটা লাজুক অভিমানের নক্ষত্র ফুটিও;
তুমি মেঘ হয়ে সে আকাশকে ঢেকে রেখো ক্ষণিক-
সাধ্যেরও পর কিছু থাকে যা আকাশকে অবিশ্বাস করে কখনও।
২।
তুমি দুরে যেতে যেতে, ক্ষয়ে যেও না যেন-
অশ্রুদানার মতো মিলিয়ে যেও না কভু, প্রতীকি ভালোবাসা
সারারাত মগডালে ঝোলে;
তুমি আগুনের সাথে পাতাল নমস্কার করে আড়ালে যেও না আর।
তুমি ক্ষয়ে গেলে সম্পর্কের তিলকে আশাটাই রয়ে যাবে শুধু
তুমি হারালে বিহ্বল হবে দূরতম আক্ষেপ
তোমার নমস্কার দ্রষ্টব্য হবে চৈত্রের দুপুরে
শোক আর সুখে যারা খুলেছিল মাঝরাতে দরিয়ার আগল।
তার চেয়ে বরং উঁচু ঐ মগডালে সেলাম ঠুকা সব
শালিকের ডিমে প্রত্যাহিক সংবাদ পৌছে দাও
তোমার ক্ষয়ে যাওয়া ঠেকিয়েছে এই অচিন্তপুরের মস্ত পাহারাদার।
৩।
নক্ষত্র নাকি গিলে খায় চাঁদের পরিধি, তোমার হা মুখে সঘণ মেঘ
ফুসরত নেবার বিনিময়ে চেটে দিচ্ছে ক্রমাগত আবিষ্ট ঠোঁটজোড়া
আমার যে হাতে আকাশতুলি সে হাতে আমি কখনও নক্ষত্র খসাইনি।
৪।
তোমার জন্য লিখবো বলে খুব সকালে আজ
ঘুমের চৌকাঠে বিলাপ করেছিলাম শ্মাম্বর অধিবাস-
সূর্যতপা বিরান আকাশ উন্মুক্ত অভিধান
আমি হাত পেতেছি শব্দপাড়ার কম্পিত ছায়াপথে
যেখানে কাব্যের প্রেমে হতাশী মানুষের আনাগোনা সারারাতভর।
৫।
এই ঘরে দেখো নিদ্রাহীন আমি পড়ে আছি একা, সঙ্গবিহীন
তুমি রোদ মাখো দুপুরদেয়ালে মানুষের সাথে-
মানুষকে আমার খুব ভয়;
মানুষ কেড়ে নেয় নির্জনতা, পকেটে গুঁজে রাখে বয়সী বিবেক
মানুষ ভাবে মানুষের মতো করে
যেমন তুমি ভেবেছ কোথায় তোমার নিশ্চিত গন্তব্য;
আমার নি:সঙ্গতা তোমাকে মানুষ করেছে।
৬।
আমি তোমাকেও ভুলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আমি মাঝ দরোজায় খিল এটে রাত্রিবাসের শয্যা পাতলাম;
ভূমি ধ্বসে জনপথে নামুক বিষাদী অপরাহ্ন,
আমি যাতনাময় ভুলে থাকা বেছে নিলাম,
অমাবস্যা আর অপ্রেম আজ সমানে সমান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


