আমি একবার ঘুঘু হয়েছিলাম, মাসাধিকাল অতিক্রম করে-
একটি হিজলের গহীন শাখায় পেখম খুলে বসেছিলাম;
যার নিচে একজন সংসারহারা মানুষ দুটি রুটির মধ্যে সমতল একটি আশালোক বসতী আকছিল।
পাতায় পাতায় যে বৈষ্ণব শঙ্কা সেখানে সেই মানুষের চোখে
আমি উৎপাদনের প্রবন্চক পিরামিড দেখে জনান্তিকে প্রশ্ন করেছিলাম:
একটি রুটির মাঝেই যে জাতিগত বিভেদ তা তোমার কাশ্যপ রিপুতে কতটা জ্বালা নিয়ে আসে!
হিজলের নিবিড় ছায়ায় বসা সেই সংসারহারা মানুষটি একবার মগডালে তাকিয়ে,
ডানহাতের রুটিটি ছিড়ে মুখে পুরলে, আমি বৃক্ষ পাল্টালাম।
একবার আমি ম্যাগপাই হয়েছিলাম, জানো!
অযুত রাত্রি অতিক্রম করে একটি ম্যাপল শাখায় আমি গ্রীষ্ম উৎযাপনের জন্যে বাসা বাসা বেধেছিলাম, সাময়িক।
কোন এক অপরাহ্ণে একজন ভবঘুরে বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিতে দিতে বিষন্ন ম্যাপলের পাশে এসে দাড়ালো-
আনমনে সে টুপিটি খুলে পাশের কাঠের আসনে জাকিয়ে বসে বিড়বিড় করে মৃতিকাবিজ্ঞান আওডাচ্ছিল-
তার কিছু কথার সাথে স্টোনহেইজ আর মিল্কিওয়ের যোগসুত্র খুজছিলাম;
যেহেতু মানবজীবনে আমার পাঠ্য ছিল তুলনামূলত ইতিহাস,
তাই আমি একটু নিচের ডানে এসে তার পুরানো বারবার জ্যাকেটের কৃশ লেবেলে
আর একবার চোখ বুলিয়ে বস্তুবাদ দেখতে চাইলাম।
তারপর, বহুদিন আমি আবার মানুষ হয়ে রইলাম।
কিছু স্মৃতির স্তুপ নিয়ে পাঠচক্রে মানুষের ক্ষুধার ইতিহাস কচলালাম-
একটি দুটি করে পাতা উল্টে চলে গেলাম মধ্যযুগের ব্যালকনি পেরিয়ে মহীসেনের যুগে,
প্লাবন আর মরুভূমির উৎপ্রেক্ষা মাড়িয়ে জেরুসালেম যেতে যেতে শুনলাম,
বালুবৃতান্তে লুকিয়ে আছে আর্যের সংসার!
সেই সংসারহারা মানুষটি আর এই ভবঘুরে অজান্তে আবু যর গিফারী হয়ে উঠলো।
অত:পর আমি নিবৃত্ত হলাম খোলসখেলায়।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


