আমি যদি আমাকে নিয়ে থাকতে চাই
সেকি বড় স্বার্থপরতা হবে?
না, আমি কারো বদান্যতার উপর বাঁচতে চাই না
আমার থাকবে আমার অধিকারের এক টুকরো জমি
আমি তাতে সোনার ফসল ফলাব!
বেঁচে থাকা আর কর্মের মতো এর চেয়ে খাঁটি আর কি আছে?
প্রকৃতি আমার মা।
সোনার ডালি সাজিয়ে সে আমায় দিয়েছে জীবন।
নিশ্বাসের নির্মল বায়ু, সোনালী রোদ, আদিগন্ত প্রান্তর
আর জলধির অমৃত কণায় কণায় সিক্ত ভালোবাসা।
আমার শিশুরা কাদামাটির পাঠশালায় শিখে নিবে সময়ের ধারাপাত
মেঘ জল হাওয়ার আগমন নির্গমন।
কুয়াসা ঢাকা ভোরে শিশির ভেজা ঘাসে পদচিহ্ন এঁকে এঁকে
হেঁটে আসবে আমার পূর্ব পুরুষের স্পর্শ মাখা মাঠে, বনে, বাদারে।
উঠোনের ওই কোনে ঘাসের অতল তলে শুয়ে থাকা আমার পরদাদার
আশীর্বাদ মেখে শিখে নিবে জীবনের মন্ত্র
যা আমি শিখতে পারিনি কর্পোরেটের মোহ-ছন্নতায়।
আমার পূর্ব পুরুষের হাতে অস্ত্র ছিল না
ছিল কাস্তে আর হাতুড়ি
ছিল জাল আর কুঠার ছিল শিল্প ও নৈপুণ্য
ছিল ভালোবাসা আর গান।
আর ফসলের হাসি ফোঁটাতে ধরিত্রীর চিতানো বুক।
একদিন মহুয়া গাছের পাতায় পাতায় ফুলে ফুলে
লুটোপুটি খাওয়া পাখিদের বলা হোল এ গাছ তোমার নয়!
এই মাটি তোমার নয়, এই মাটি তোমার দেশ নয়,
এই মাটি তোমার ঠিকানা নয়!
আমার পিঠে ঠুকে দেয়া হোল পরিচয়ের নম্বর।
আকাশের চিলেরা আজ মেঘের আড়ালে সরে গেছে
উজাড় বাড়ীর কড়ই গাছের উঁচু মগডালে
সারস পাখির বাসাগুলো আজ আর নেই।
আমি ভুলে গেছি আর আমার শিশুরা ভুলে গেছে
বীজ বপনের বর্ষ তালিকা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


