ধর্মীয় শাসনের ব্যর্থতা।
----------------------
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, সেখানে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। কিন্তু চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে:
ধর্মীয় নৈতিকতা কি দুর্নীতি কমাতে পেরেছে?
ধর্মীয় শাসন কি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে?
বিক্ষোভকারীদের একাংশ মনে করে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয়নি। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ বা আলেম শ্রেণির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হওয়াটা তাদের চোখে স্বাভাবিক। এই ক্ষোভ কখনো প্রতীকী প্রতিবাদে, কখনো চরম আচরণে রূপ নিচ্ছে যা আসলে ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং ধর্ম-নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
দৃষ্টিকোণ দুই: এটি কি ধর্ম বনাম জনগণ নাকি রাষ্ট্র বনাম জনগণ?
ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ বলছে, এই সংকটকে শুধু “ধর্ম দিয়ে দেশ চলে না” বলে ব্যাখ্যা করা ভুল। সমস্যার মূল হলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ।
ইরানে যদি ধর্মের বদলে অন্য কোনো আদর্শ দিয়েও একই রকম কর্তৃত্ববাদী শাসন চলত, ফল হয়তো খুব আলাদা হতো না।
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী-
মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই
রাজনৈতিক বিরোধিতার জায়গা সংকুচিত
সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ প্রায় শূন্য
ফলে মানুষ ধর্মকে নয়, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করছে। ধর্ম এখানে কেবল রাষ্ট্রক্ষমতার মুখোশ।
দৃষ্টিকোণ তিন: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনীতি।
ইরানের অর্থনীতি শুধু অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে ভেঙে পড়েনি; পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানির সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং অবরোধ সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়,
“ইরান যদি ধর্মীয় রাষ্ট্র না-ও হতো, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে সংকট আসতই।”
অর্থাৎ, এখানে ধর্মীয় শাসনের পাশাপাশি বৈশ্বিক শক্তির রাজনীতিও দায়ী।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


