বাঙালির ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। বাঙালির ইতিহাস নির্যাতন, বৈষম্য, অপশাসন আর স্বৈরশাসনকে পরাজিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। বাঙালি জেগে ওঠেছে আর সেখানে বিজয় আসে নি, এরকম ঘটনা প্রায় নেই। একুশ আমাদেরকে এই কথা বলে না। একাত্তর বা নব্বুই আমাদেরকে পরাজিতের গ্লানি দেয় নি, দিয়েছে বিজয়ীর উচ্ছ্বাস। দিয়েছে ভাষা, দিয়েছে মানচিত্র, দিয়েছে লালসবুজের পতাকা।
বাংলাদেশ এখন আর শুধুই উন্নয়নকামী দেশ নয়, বলা যায় 'উন্নয়নমুখী' দেশ। বন্যা আর দুর্ভিক্ষের দেশ নয়, ক্রিকেট আর তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের বাসিন্দা হয়ে আজ আমরা এক কোন কাদাজলে পড়েছি? কেন আমরা স্বাধীন দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবো না? কেন আমরা কাজ করতে চেয়েও এবং এমনকি কাজ পেয়েও কাজটি করতে পারবো না?
কেন সংখ্যাগরিষ্ট জনতার মনোভাব দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারবেন না? গণতন্ত্র থেকেও কেন আজ নির্বাচনসর্বস্ব আদর্শে নিপতিত হবে আমাদের নেতারা? নির্বাচন ছাড়া কি তাদের আর কোন আদর্শ থাকতে পারে না? একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য, শুধুই কি নির্বাচন দরকার?
নির্বাচন ছাড়া কি রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন ইডিয়োলজি নেই? দেশের সত্তরভাগ মানুষ শিক্ষিত হবার পরও কেন রাজনীতি থেকে দুবৃত্তায়ন যায় না? কেন শিক্ষিত সমাজ আজ রাজনীতি বিমুখ?
এ পরিস্থিতিতে কি দুর্বত্তরাই কি রাজনীতির ধারক হিসেবে আবির্ভূত হবে না? তবে এদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? কোথায় আমাদের জাতীয় ভবিষ্যৎ?
নষ্টগাড়ির চাক্কাটি পাংচার হয়ে কাদায় আটকে গেছে। আমাদের জাতীয় জীবন আজ একটি নষ্টগাড়ির মতো হয়ে আছে! পৃথিবীর মানুষ আমাদের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়। আমরা সেই জাতি, যারা পেরেও করি না। আমরা সেই জাতি যারা ৩কদম এগিয়ে ৫কদম পিছাই, এবং ইচ্ছাকৃতভাবে। আমরা সেই জাতি, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং কৃত্তিম উপায়ে আর্থিক ও অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করতে পারি। সৃষ্টি করতে পারি আমদানি ও রপ্তানির জন্য নিশ্চিদ্র প্রতিবন্ধকতা!
ইতিহাস বলে, মহৎ উদ্দেশ্যে আমরা একত্রিত হয়ে বিজয় আনতে পারি।
আর বাস্তবতা বলে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশকে নিয়ে যেতে পারি শতবছর পেছনে।
এই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট 'নোংরা বাস্তবতা' থেকে আমাদেরকে ওঠে আসতে হবেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



