'কাঁপছে আফগানিস্তান'। একটি দৈনিক থেকে ওয়ার্ল্ডকাপ ক্রিকেটের সংবাদ শিরোনাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলে ২৬৭ রানে আউট হওয়া মোটেই সম্মানজনক নয়। কিন্তু মুসফিক সাকিবের গৌরবময় জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সাকিবের জন্য আজকের দিনটি সত্যিই গৌরবময়, কারণ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ৪ হাজার রানের ক্লাবে যোগ দিলেন আজই। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপুর্ণ মাইলফলক।
অভিনন্দন, সাকিব। দেখুন আপনারা যখন সমগ্র পৃথিবীকে বলতে চাচ্ছেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের দল; তখন আমরা হরতাল-অবরোধে নাভিশ্বাস হয়ে আছি। বিশ্ববাসীকে একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরার জন্য আপনারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দুঃখের বিষয়, আমাদের বিপদমুখী রাজনীতিকেরা যেন উল্টো দিকে দাঁড় টানছেন।
কেউ সফল হচ্ছেন না, কেউ কিছু পাচ্ছেন না। না হরতাল সফল হচ্ছে, না দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক হচ্ছে। হরতালকারী বা হরতাল প্রতিরোধকারী তারা কেউ বলতে পারবেন না 'আমরা পরিপূর্ণভাবে সফল'। এভাবে আর কতদিন জাতিকে নিঃশ্বাস-বন্ধ অবস্থায় থাকতে হবে?
দেড়মাস ধরে বাংলাদেশ যেন আটকে আছে। ৪৫ দিন ধরে হরতাল, এরকম দেশ কি কোথাও আছে? এরকম এক অরাজক পরিস্থিতিতে যেন একপশলা বৃষ্টি হয়ে উপস্থিত হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আমি যখন লেখছি, তখন বাংলাদেশের ২৬৭'র বিপরীতে আফগানিস্তান ৫ উইকেটে ৩৬ ওভারে ১৩১ করেছে। আমরা বিজয় এবং ভালো খেলা উভয়ই চাই আমরা! ক্রিকেট থেকেই সান্ত্বনা আসুক।
আজ বাঙালি কিছুটা সময় স্বস্তিতে থাকবে, একটু আনন্দে হই-হুল্লুরে কাটাবে তাদের ইনডোর সময়। যেই বের হবে, সেই হরতাল আর অবরোধ! ক্রিকেট যেন আমাদের সেই ছোটবেলার দুঃখ-ভোলানো খেলা। ক্রিকেটের আনন্দে কোন দলীয় বিভেদ নেই। নেই কোন রাজনৈতিক মতপার্থক্য। আজ নিশ্চয়ই হরতালকারী এবং হরতাল-বিরোধীরা একসাথে খেলা দেখবে, অনেক স্থানে। ক্রিকেট আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, সকল ভেদাভেদের মধ্যেও আমরা সকলেই বাংলাদেশি।
তবে কি ক্রিকেটই ভালো নয়? ক্রিকেটের জয় হোক, পরাজিত হোক রাজনৈতিক সহিংসতা। দেশে আসুক দেশপ্রেমের রাজনীতি। শুরু হোক সকল বৈচিত্রের মধ্যে এক হবার আন্দোলন - কারণ ক্রিকেট আমাদেরকে তাই শেখায়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


