আপনাকে আমার ভালো লাগে কারণ আপনি আমার হারানো বান্ধবির মতো। এই একটি মাত্র কারণে আপনার সবকিছুকে আমি গ্রহণ করি নির্দ্বিধায় নিরাপত্তিতে। আপনার আচরণের কোন বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই অথবা পূর্বে থাকলেও দেখার পর তা শেষ হয়ে গেছে। আপনার মন্দ বিষয়গুলো আমার দৃষ্টিতেই পড়ে না, অথবা মন্দ বিষয় আছে বলে মনে হয় না। তাতে আমাদের মধ্যে এক চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। কিন্তু মানুষ হিসেবে নিশ্চয়ই কিছু দুর্বলতা আছে, যা অন্যের পরামর্শে সংশোধন হতো। আমার অন্ধ আনুগত্যের কারণে আপনার শুদ্ধ হবার সুযোগটি আর রইলো না। অথবা, আপনার আচরণের মন্দ দিকটির কারণে আমি কোনদিন ক্ষতির সম্মুখীনও হতে পারি। সেই ক্ষতি থেকে কেউ আর আমাকে রক্ষা করতে পারবে না।
অথবা, আপনি আজ আমার ১০০ প্রার্থীর মধ্যে একজন। এক্সিকিউটিভ পদে উপযুক্ত প্রার্থীকে আজ আমার বাছাই করতে হবে। কথার মধ্যে আপনার হাসিটুকু আমার ভালো লেগে যায়। তারপর থেকে আপনার সবকিছুকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখতে শুরু করলাম। সব উত্তরকে কোন-না-কোনভাবে সঠিক হিসেবে মেনে নিলাম। আপনি নির্বাচিত হলেন আমার এক্সিকিউটিভ হিসেবে!
একই আচরণ উল্টোদিকেও একইভাবে সত্যি। যেমন আপনার বাড়ি একটি বিশেষ জেলার হবার কারণে শুরু থেকেই আপনার প্রতি আমি ক্রিটিকেল। সবকিছুকেই আমার পূর্বধারণা দিয়ে যাচাই করে দেখছি। সবকিছুকেই আমার গোলমেলে লাগছে। অবশেষে আপনাকে আর বাছাই করা হলো না।
আমাদের আট বছরের সন্তানকে দশ টাকা এবং পাঁচশ টাকার নোট এক সাথে দিলে, সে দান করার সময় পাঁচশ টাকার নোটটি আগে দিয়ে দেয়। আমরা তো হাসতে হাসতে শেষ। সে এখনও ভালোমতো টাকার ব্যবহার শিখে নি। তো তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন তুমি পাঁচশ টাকার নোট আগে দিলে? সে সরাসরি কোন উত্তর দিলো না। লজ্জিত হলো। পিড়াপিড়ি করার পর সে আমাদের জানালো যে, গোলাপি রঙের (দশ টাকার) নোটগুলো সে সংগ্রহ করছে। রঙের কারণেই পাঁচশ টাকার নোটগুলো তার পছন্দের নয়।
মাত্র একটি বিষয় দিয়ে আমরা একজন মানুষের সামগ্রিক আচরণকে মূল্যায়ন করে ফেলি। আমাদের সমাজে এরকম মনোভাবের মানুষ প্রায় সকলেই। কেউ এটি বুঝতে পারি, কেউ এটি বুঝতে পারি না।
বিষয়টি এত ভালো যে এটি আ্মার সমগ্র আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। একটি ভালো গুণ দিয়ে ব্যক্তির সবকিছুকে আমরা ভালো হিসেবে মেনে নেই।একে বলে 'হেইলো ইফেক্ট'। প্রেমের ক্ষেত্রে হেইলো ইফেক্ট খুব বেশি কাজ করে! হয়তো ওটি তখন ইতিবাচক ফলই নিয়ে আসে। কিন্তু নিয়োগ বা কোন কাজের জন্য বাছাইয়ের সময় হেইলো ইফেক্ট এর প্রতিফল খুবই খারাপ। বিপরীতক্রমে, ব্যক্তির একটি খারাপ গুণ চোখে পড়ার পর তার সবকিছুকে আমরা যখন খারাপ ভাবতে শুরু করি, তখন সেটাকে বলা হয় 'হর্ন ইফেক্ট'। এটিও একইভাবে বিপজ্জনক।
এসব মনোবিজ্ঞানের টার্ম নিয়ে চিন্তিত হতে চাই না। আমার বক্তব্য হলো দেশের মানুষের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে। ভোটের দিন কি দেশের মানুষগুলোর মনে হেইলো এবং হর্ন ইফেক্ট বেশিমাত্রায় কাজ করে? যদি তা করে, তবে নির্বাচনের কয়েকদিন পরই আমাদেরকে আক্ষেপ করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষগুলো কেন বিএনপি অথবা আওয়ামিলীগের সমর্থন করে, আমি মাঝে মাঝে ভাবি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



