somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য পোস্ট : ঢাবির হলের কিছু অদ্ভুতুরে মানুষ (পর্ব ২)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্যানারির বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা হইছেরম্য পোস্ট : ঢাবির হলের কিছু অদ্ভুতুরে মানুষ (পর্ব ১)
।সে এমনই একটা মাল যে এগুলো সম্পর্কে তার কোনও ভাবান্তরই নাই।সে দিব্যি তার মতই আছে।সে তার এই প্রশংসায় খুশি না বেজাড় তা আমি কিছুতেই উদ্ধার করতে পারলাম না। আমাদের মেজর পরীক্ষাগুলো শেষ। মাইনরের আগে বিশ দিন বন্ধ। তো তেরো দিন হইল ট্যানারি গোসল করে না।আমি সিওর আর সাত দিন পর ট্যানারি ঠিকই তার সেই মহামূল্যবান গোসল তার করবে। তো ট্যানারির চরিত্র যাই হোক আজকে আমি ট্যানারির কিছু ঘটনা শেয়ার করবো।
ঘটনা ১ ; তো একদিন ট্যানারি টাকা শেষ। সে আমাকে বললো, দোস্ত চল একটু ভাইয়ের অফিসে যাবো টাকা আনতে। যেই কথা সেই কাজ। ট্যানারির ভাইকে দেখে তো আমি আকাশ থেকে পরলাম। কোথায় ট্যানারি কোথায় ট্যানারির ভাই। কি মার্জিত লোক, কি মার্জিত ব্যবহার। ভাইয়ার সাথে দুজনে টুকটাক আলাপ সেরে সেদিনের মতো এসে পরলাম। মাসখানেক পরের ঘটনা। ট্যানারি বাইরে, আর আমি রুমে। আমাকে হঠাৎ ফোনে মেসেজ পাঠাল যে ও আর ওর ভাইয়া একসাথে আছে। ভাইয়াকে নিয়া রুমে আসবে। ওর ড্রয়ারে নাকি সিগারেটের প্যাকেট ভর্তি, ওগুলো সরাতে হবে। তো ট্যানারির সেই বিখ্যাত চাদর টা সরিয়ে খাটের নিচে রাখলাম। সিগারেটের প্যাকেট সরিয়ে যতটুকু ভদ্রস্থ করা সম্ভব তাই করলাম। অনেক রাত হয়ে গেল তাদের কোনও দেখা নাই। কিছুক্ষন পর ট্যানারি এসে জানালো যে ভাইয়া আসবেনা। সে দেখি বিছানার নিচ থেকে চাদর টা বের করে বিছিয়ে ফেললো। হায়রে ট্যানারি মানুষ হইলি না। ট্যানারির ভাই এই বিশ্ববিখ্যাত রুমে আসে নাই সেই সুবাদে ওই দিন রাতে রুমে সেইরকম মাস্তি চলল। রুমমেটরা সবাই মিলে একটা আস্ত টাকিলার বোতল সাবার করে দিলাম। পরের দিন দুপুর ২ টা। ট্যানারি ঘুমে ব্যস্ত। আমি উঠে ব্রাশ করতে গেলাম। রুমের এক বড় ভাই ফোনালাপে ব্যস্ত। রুমে এসে দেখি ট্যানারির ভাই রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আমি তো পুরাই টাস্কি। সালাম দিলাম কোনও উত্তর নাই। রুমের বড় ভাইরা তো আর ট্যানারির ভাইকে চিনেনা। আমি রুমের বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ওই লোক কি বলল। ভাই বলল, ট্যানারির বেড কোনটা জানতে চাইছিল। তো সে দেখিয়ে দিয়েছে বেড কোনটা, টেবিল কোনটা। ট্যানারির টেবিলের উপর গতরাতের সাবাড় করা টাকিলার বোতল, সিগারেটের প্যাকেট ভর্তি, আর সেই বিখ্যাত ঘুমন্ত ট্যানারি। এই সব দেখেই ভাইয়া রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেছে। এখন কি হবে ট্যানারির। হায়রে টান টিওন।

ঘটনা ২; ভাইয়াকে সেদিন ট্যানারি কিভাবে ম্যানেজ করেছিলো তা জানিনা তবে ওর উপর দিয়ে যে ছোটোখাটো একটা ঝড় বয়ে গেছে তা বুঝতে পারছিলাম। মাস দুই পরে চার- পাঁচ জন বন্ধু মিলে গেছি সাকুরায়। ভদকা খেয়ে বের হইছি। আমরা তাও মোটামুটি ঠিক আছি ট্যানারির অবস্থা পুরাই কাহিল। সোনারগাঁয়ের সামনে এসেই দেখি ট্যানারির বড় ভাই। ভাইয়া তো ট্যানারিকে দেখে হতবাক। ভাইকে দেখেই ট্যানারি চিল্লানো শুরু করলো, "ওই রফিক মোল্লা ক্যামন আছিস।তুই আমারে মাতাল কইছিস কোন সাহসে। তোর কত্ত বড় সাহস। ওই আমি মদ খাই, তুই খাস মদ। তোর চৌদ্দ......... "। আমরা তিনজন শত চেষ্টা করেও ট্যানারিকে আটকাইতে পারতেছি না। তো ট্যানারির ভাই এসে ওর কান ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর ট্যানারি সেই বাংলা সিনেমার ডায়লগ আওড়াচ্ছে, "আমাকে বাঁচাও , আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাও" আশেপাশের লোকজন তো সেইইইই মজা নিচ্ছে। ট্যানারিকে নিয়ে ভাইয়া বাসায় চলে গেলো। তিন দিন পর ট্যানারি এসে সেদিন কি হইছে জানতে চাইলো। কি কমু আমি ওরে কন আপনারে।
ও হো বলতে ভুলে গেছিলাম ট্যানারির ভাইর নাম রফিক আর ওরা মোল্লা বংশ।
ঘটনা ৩; জুন মাস পুরাটাই বন্ধ। তো ট্যানারি দশ দিনের জন্য বাড়ি গেলো। আমার টিউশনির জন্য যেতে পারলাম না। দুই দিন পর ট্যানারি হলে হাজির। আমি তো অবাক। তো কাহিনী হইল কি। একদিন ট্যানারি নাকি হালকা ফাণ্টু খাইয়া বাসায় গেছে। তো আন্টি গন্ধ টের পাইছে। ও যতই কথা ঘুরায় যে ও নাকি স্পীড খাইছে। আন্টি বিস্বাসই করেনা। ভাইয়াও হাজির। একটু পর ট্যানারির চাচাও হাজির। ট্যানারি ভাইয়ার ভয়ে স্যান্ডেল রেখেই দৌড়। একদৌড়ে জামালপুর থেকে ঢাকা......। হায়রে ট্যানারির যে কি হবে।
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×