গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজ মাভি মারমারায় পাশবিক হামলার দায়ে চার সাবেক ইসরাইলি কমান্ডারের বিচার করবে তুরস্ক। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় গাজা অভিমুখী জাহাজে ইসরাইলি কমান্ডো হামলায় নয় তুর্কি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন।
ইস্তাম্বুলের একটি আদালত আজ (মঙ্গলবার) আরো পরে ওই চার সাবেক ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তাদের বিচার শুরু করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে গ্রেফতারের আদেশ জারি করবে আদালত। অভিযুক্ত চার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হলেন, ততকালীন ইসরাইলি সেনাপ্রধান গ্যাবি আশকেনাজি, সাবেক নৌ প্রধান এলিয়েজের ম্যারোম, সাবেক সেনা গোয়েন্দা প্রধান অ্যামোস ইয়াদলিন ও সাবেক বিমান গোয়েন্দা প্রধান অ্যাভিশাল লেভি।
চলতি বছরের মে মাসে ইস্তাম্বুলের আদালত সাবেক ওই চার ইসরাইলি সেনা কমান্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। অভিযোগে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পানিসীমায় জলদস্যুদের মতো হামলা করার দায়ে এসব ইহুদিবাদী সেনা কর্মকর্তাকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ১৪৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, নয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যার দায়ে চার সেনা কর্মকর্তাকে নয় বার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে হবে। ঘটনার রাতে মাভি মারমারায় উপস্থিত প্রায় ৫০০ যাত্রী ইসরাইলি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তুরস্কের পাঁচ আইনজীবী ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইস্তাম্বুলের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী অন্যতম আইনজীবী বুহারি সেটিনকিয়া বলেছেন, "মাভি মারমারায় হামলা পরিচালনাকারী কয়েকজন ইসরাইলি কমান্ডারকে আমরা সনাক্ত করেছি। কিন্তু ইসরাইলি সহযোগিতার অভাবে তাদের বিচার করা সম্ভব নয়। তাই যেসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে ওই হামলার নির্দেশ জারি হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।"
গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের কঠোর অবৈধ অবরোধ ভাঙতে ২০১০ সালের ৩১ মে গাজা অভিমুখে ছয়টি জাহাজের সমন্বয়ে একটি ত্রাণবহর পাঠায় তুরস্ক। কিন্তু গাজায় পৌঁছানোর আগে আন্তর্জাতিক পানি সীমানায় থাকতেই ইসরাইলি কমান্ডোরা তাতে হামলা চালায়। এতে তুরস্কের নয় মানবাধিকার কর্মী নিহত ও বহু আহত হয়।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার ব্যাপারে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি কমান্ডোরা মাভি মারমারায় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে 'অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয়' বলপ্রয়োগ করেছে।#
রেডিও তেহরান/এমআই/৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



