
ঊষার দ্বিতীয় দণ্ডে অগ্নিকোণে যদি “অয় অয়” ধ্বনি করে কাক ডাকে, তবে শোক উপস্থিত হয়।
শোক!!!
আসলেই কি তাই!!!
সংশয় সবসময় বেশ প্রবল তার! নানা ধরনের সংস্কারে আচ্ছন্ন তার জীবন! দিবসের কোন দণ্ডে কি ধরনের স্বরে কাক ডাকলো খেয়াল করার চেষ্টা করেন তিনি! ঘরের বাইরে যাবার প্রাক্কালে কোন পা প্রথম অতিক্রম করবে দরজার চৌকাঠ তা নিয়েও উৎকণ্ঠিত থাকেন! ডান না বাম? বাম না ডান?
সিদ্ধান্তের দোদুল্যমানতায় দেখা যায় পা আর বাড়ানোই হয় না সামনে! পিছিয়ে যায়, কেবলই পিছিয়ে যায়! জড় বোধবুদ্ধি বিবেচনা আঁকড়ে ধরে আলোহীন অন্ধকার ঘরে সরীসৃপের মতো গুটিয়ে থাকেন শেষপর্যন্ত অপরিসীম শীতলতায়!
গুটিয়ে থাকেন আর গুটিয়ে থাকেন! আর বোঝা না-বোঝার অস্বাভাবিক দোলাচলে কতো কিছু ভাবেন! ভাবেন আশ্চর্য সমকালের কথা! প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ভাবেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকার কথা! কোন অপশক্তির ভয়ে বন্ধ সেগুলো? যে অপশক্তির ভয়ে বন্ধ রাখতে হচ্ছে সেগুলো, তাতে কি নিশ্চিহৃ হবে অপশক্তি?
শুভশক্তির বিপরীতে অপশক্তির অবস্থান সৃষ্টির শুরু থেকেই। চিরায়ত দ্বন্দ্ব দুইয়ের ভেতর। চিরতরে অপশক্তির মূলোৎপাটন কি সম্ভব আদতে? শুভশক্তির পৃষ্ঠপোষণের মাধ্যমে অপশক্তির উত্থান সীমিত রাখা সম্ভব। শক্তির অন্যতম অনুসঙ্গ চর্চিত সংস্কৃতি। শুভসংস্কৃতির নিবিড় নিরবিচ্ছিন্ন অনুশীলনের মাধ্যমে রুখে দেয়া সম্ভব অপসংস্কৃতির আগ্রাসনকে। পেছনে পড়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। এগিয়ে যেতে হবে আলোহীন অন্ধকার ঘরের শীতলতা অতিক্রম করে। আটকে থাকলে চলবে না কাকের ডাকের ওপর নির্ভর করার মতো পশ্চাৎপসর বিশ্বাসে আস্থা রেখে সামনে পা না বাড়িয়ে।
আধুনিকতার কোন বিকল্প নেই। বেঁচে থাকতে হলে যেমন বিকল্প নেই নিঃশ্বাসের, বিকল্প নেই বায়ুগ্রহণের। বায়ুতে ধুলোবালি তো থাকবেই। ধুলোবালির ভয়ে নাসারন্ধ্রে বায়ুপ্রবেশ রুদ্ধ রাখা কি কোন যুক্তিতেই গ্রহণীয়? ভাবেন তিনি। তার সামান্য বিবেচনায় মনে হয়, না, গ্রহণীয় নয় মোটেই। কারণ, যদি রুদ্ধ রাখা হয় বায়ু, তবে যে আয়ুও রুদ্ধ হয় অনিবার্যভাবে।
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




