
আকস্মিক ঘুম ভেঙে যায় বৃন্দাবন দাসের। জোড়া চোখ তন্দ্রাজনিত জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারে না সহসা। ঘরের ভেতর জমে থাকা অনড় অপার্থিব অন্ধকার সৃষ্টি করে দৃষ্টির দ্বিধা, বিভ্রম, বিস্মরণ। ঠিক বুঝতে পারে না বৃন্দাবন দাস তার অনিশ্চিত অবস্থিতির প্রকৃত স্বরূপ! কে সে? জেগেই বা সে উঠলো হঠাৎ কোন জগতের কূলে? ইহজগত না পরজগত? ভাঙা ঘরে ভাঙা জানালার প্রতিভাস! অলীক অবাস্তব যেন সবকিছু! বোধবুদ্ধিলুপ্ততা যেন বিরাজ করছে উপলব্ধিতে! সত্যি যেন নয় কিছুই! যেন বিহ্বলতা! অপরিসীম!
বৃন্দাবন দাস উঠে বসে ধীরে ধীরে। মচমচ শব্দ ওঠে নড়বড়ে চৌকিতে। পাশে থাকা একতারাটা হাতে তুলে নেয় বৃন্দাবন। সুকঠিন তারের সুশীতল শরীরে আঙুল রাখে পরম মমতায়। চোখ বোজে আবার। তার মনে হয় শত জনমের ভুল দিয়ে রচিত এক বন্দিদশায় নিপতিত সে। দীর্ঘ কারাবাস- অন্তিমলগ্নে আদালত- শুনানি- জবানবন্দি- উকিল মোক্তারের পদচারণায় মুখর মৃত্তিকা- সশব্দে ঘোষিত রায় জজসাহেবের অবশেষে- নামঞ্জুর- জামিন নামঞ্জুর- আসামীর যাতনা- আহ! যাতনা- “কহিব যাতনার কথা বোঝাইয়া যে কাহারে!-”
বৃন্দাবন দাসের অসংলগ্ন অবান্তর ভাবনাগুলো জড়ো হয় দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে, একতারার তার নড়ে ওঠে রাতনিশীথে-
কহিব যাতনার কথা বোঝাইয়া যে কাহারে!
কী করিল দামী উকিল, কী করিল মোক্তারে!
মাটি হইল হিসাব যত সোনায় বান্ধা দিন
আদালতে জজসাহেবে কাটিল জামিন!
করিতে পালন আদেশ আইলো দারোগায়
শিকলে জড়াইলো শরীর, বেড়ী পা-জোড়ায়
টাকা কড়ি বাড়ি গাড়ি রইল মূল্যহীন
আদালতে জজসাহেবে কাটিল জামিন!
বুঝিলাম সাঙ্গ বিচার হইল সবই শেষ
পলকেই হইল বদল পোশাক পরিবেশ
জলে চোখ হইল নদী মনটা উদাসীন
আদালতে জজসাহেবে কাটিল জামিন!
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


